বসা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ

0
53

ময়মনসিংহের নান্দাইলে শহীদস্মৃতি আদর্শ কলেজে ছাত্রীদের কমনরুমে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আটজন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে এক শিশু, এক পুলিশ কর্মকর্তা, এক সাংবাদিক ও দুই পক্ষের পাঁচজন নেতা রয়েছেন। ছয়জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের এক নেতাকে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আরেক নেতাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নান্দাইলে সংগঠনটির বিদ্যমান দুই পক্ষের মধ্যে একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম সালাম। অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন নান্দাইল শহীদস্মৃতি আদর্শ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মনজিল হাসান। তাঁদের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, সংঘর্ষ মোকাবিলায় পুলিশ চারটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষ চলার সময় উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল হুদা আহত হয়েছেন। ঘটনা সম্পর্কে ওসি বলেন, ছাত্রীদের কমনরুমে এক পক্ষের নেতা বসতে গেলে অন্য পক্ষ বাধা দেয়। এতে প্রথমে তর্ক ও পরে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ ঘটনায় দুই পক্ষের কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, প্রতিপক্ষের নেতৃবৃন্দ কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের নামে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে। এটিসহ বিভিন্ন অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ করায় গতকাল রোববার সন্ধ্যার দিকে তাঁকে গালিগালাজ করে প্রতিপক্ষরা। আজ সকালে তাঁর পক্ষের নেতৃবৃন্দ কলেজে গেলে প্রতিপক্ষ তাঁদের ওপর চড়াও হয়। বাধ্য হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তাঁরা। এতে তাঁদের একজন আহত হয়েছেন।

অপর পক্ষের নেতা মনজিল হাসান চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের সমর্থকেরা কলেজের কমনরুমে বসে ধূমপান করে। এসবের প্রতিবাদ করলে তাঁর এক সমর্থককে গতকাল সন্ধ্যার দিকে মারধর করে। আজকেও কলেজে যাওয়ার পর সমর্থকদের ওপর চড়াও হয় শফিকুলের সমর্থকেরা। এতে বাধা দিলে দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাঁর চারজন সদস্য আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, সংঘর্ষের সময় স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী অনিকা কাবিরার মাথায় ঢিল পড়লে সে আহত হয়। আহত হন কালের কণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক আলম ফরাজী।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here