বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে যুগোপযোগী করা হচ্ছে

0
68

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে যুগোপযোগী করে সাজানো হচ্ছে। নতুন করে রুট নেটওয়ার্ক তৈরি, চৌকষ কর্মকর্তা ও নিষ্ঠাবান ক্রু তৈরি এবং প্রত্যেক বিভাগের নিজস্ব ম্যানুয়াল প্রবর্তন করা হচ্ছে। যাত্রীদের পছন্দকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। যাত্রীদের সার্বিক আরাম-আয়েশের দিকে লক্ষ্য রেখে বিমান তার ইন-ফাইট সার্ভিসকে অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে অধিক আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত করতে সচেষ্ট রয়েছে। খাবারের মেনু নির্বাচন থেকে শুরু করে যাত্রীর বিনোদন উপকরণ পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়ে নির্বাচন করা হচ্ছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। উন্নতমানের খাবার, আন্তরিকতা পূর্ণ ব্যবহার, নিরলস সেবাযত্ন, পছন্দের উপহার ও ম্যাগাজিন দিয়ে যাত্রীদের আকৃষ্ট করার প্রয়াস চলছে। ডিজিটাল যুগের চাহিদা অগ্রাধিকার দিয়ে অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টিকিট ক্রয়, অগ্রিম সিট সংরক্ষণ, এসএমএস সার্ভিসসহ বিভিন্ন সেবা সুচারুরূপে সমপন্ন করা হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাকিল মেরাজ এই প্রতিবেদককে জানান, দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ও গর্বের বস্তু বিমানের অনন্য বৈশিষ্ট রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে অঞ্চলসমূহের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ ছাড়াও জরুরি অবস্থায় তড়িৎ যোগাযোগ সংস্থাপনের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে বিমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগেও বিমান কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র মতে, তীব্র বাজার দখলের প্রতিযোগিতার মুখোমুখি বিশ্বের এয়ারলাইন্সগুলো। এরই মধ্যেও সীমিত সামর্থ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে বিমান দিনে দিনে শক্তি সঞ্চয় করে চলছে। বিমানের বহর আধুনিকায়নে বিমান তার বহরে থাকা সবকটি ডিসি-১০-৩০, এফ-২৮ এবং অপসারণ করে তার বহর সাজিয়েছে বিশ্বের ব্র্যান্ডনিউ অত্যাধুনিক বোয়িং এয়ারক্রাফট দিয়ে। ২০০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত দুই বিলিয়ন ডলারের ১০টি বিমান ক্রয়চুক্তির আওতায় ইতোমধ্যে দুইটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর এয়ারক্রাফট বিমানের বহরে সংযোজিত হয়েছে। বিমানের বহর এখন অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে আধুনিক। ২০১৯ সালের মধ্যে বিমানের বহরে যুক্ত হবে স্বপ্নের আরও চারটি বোয়িং। এছাড়াও কানাডা সরকারের সঙ্গে জি টু জি চুক্তির আওতায় বহরে সংযোজিত হতে যাচ্ছে আরও তিনটি ড্যাশ এইটকিউ এয়ারক্রাফট। পাশাপাশি শীঘ্রই কলম্বো, মালে ও গোয়াংজুতে বিমান নতুন রুট সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

বিমানে লোকসান হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিমানের মুখপাত্র শাকিল মেরাজ জোর দিয়ে বলেন, বিমান এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠান। মুখে নয়, কাগজে-কলমে তার প্রমাণ আছে। তিনি তার কাছে থাকা একটি লেখা এই প্রতিবেদকের হাতে দিয়েছেন। তাতে রয়েছে, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে বিমান কর পরবর্তী নিট মুনাফা অর্জন করছে ৩২৪ কোটি টাকা। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে কর পরবর্তী নিট মুনাফা অর্জিত হয় ২৭৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত দুই বছরে বিমান মুনাফা অর্জন করেছে ৬০০ কোটি টাকা। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বিমান রাষ্ট্রীয় কোষাগারে রাজস্ব কর দিয়েছে ৩১০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে বিমান এয়ারলাইন্স সম্পর্কে কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, বিমানের মান উন্নত হলেও টিকিট নিয়ে এখনও বিশৃঙ্খলা রয়েছে। মতিঝিল বিমান অফিসে গেলে অনেক বিমান কর্মকর্তা গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। অভ্যন্তরীণ শাখায় গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেও ঠিকমতো উত্তর পাওয়া যায় না। টিকিট কিনে বিমানে উঠার পর প্রায় সময় দেখা যায় বিমানের সিট খালি পড়ে থাকতে। বিমানের টিকিট শাখার দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিমানের অন্য শাখার লোকজনের সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিমানের টিকিট প্রাপ্তি আরও সহজ করলে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করলে বিমান এয়ারলাইন্স বাঙালির স্বপ্নের ডানায় পরিণত হবে। আর অভ্যন্তরীণ রুট সংখ্যা আরও বাড়ালে বিমানের যাত্রী সংখ্যা বাড়বে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। মহাসড়কে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই অনেকেই টাকা বেশি হলেও দ্রুত ও কম সময়ে বিমানে শান্তিতে ভ্রমণ করতে পারবে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here