শিশু হাসমিকে হত্যা – মা সহ ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

0
65

খুলনায় চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক শিশু হাসমি মিয়া (৯) হত্যা মামলার রায়ে পাষণ্ড মাসহ চার আসামিকে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলরুবা সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য তিনজন হলেন মো. নুরুন্নবী, মো. রসুল ও মো. হাফিজুর রহমান। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি রাব্বি সরদারকে আদালত খালাস দিয়েছেন।রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ২১ আগস্ট এ মামলার রায়ের দিন ধার্য থাকলেও তা পেছানো হয়।

হাসমি নগরীর আড়ংঘাটা থানা এলাকার সরদারডাঙ্গা শহিদ হাতেম আহম্মেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০০৬ সালে নগরীর মানিকতলার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খানের মেয়ে সোনিয়ার সাথে মো. হাফিজুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়ের ৬ মাস পর হাফিজুর রহমান বিদেশে চলে যান। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সোনিয়ার চলাফেরা উচ্ছৃঙ্খল হতে থাকে। সে বিভিন্ন জনের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। দেশে আসার পর বিষয়টি জানতে পারেন স্বামী হাফিজুর রহমান। এরপর তিনি স্ত্রীকে শোধরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে স্ত্রীকে তালাক দেন। হাসমি থেকে যায় পিতার সঙ্গে। পরে হাসমিকে তার বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে আনার জন্য নুরুন্নবী ও রসুলের সঙ্গে চুক্তি হয় সোনিয়ার। ২০১৬ সালের ৬ জুন রাত পৌনে ৯টার দিকে হাসমিকে অপহরণ করে তার মায়ের কাছে নিয়ে আসে। এরপর সোনিয়াকে অপহরণকারীদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায় হাসমি। বিষয়টি বাইরে ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে অপহরণকারীরা সোনিয়ার সামনেই হাসমিকে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর লাশটি সিমেন্টের বস্তায় ভরে খুলনা বাইপাস সড়ক সংলগ্ন সরদার ডাঙ্গা বিলে ফেলে দেওয়া হয়।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী বীরেন্দ্র নাথ সাহা জানান, ওই বছরের ৯ জুন খুলনার কার্ত্তিককুল এলাকা থেকে হাসমির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মো. নুরুন্নবী, হাফিজুর রহমান, মো. রসুলের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২-৩ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের পর হত্যা ও লাশ গুমের মামলা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট বীরেন্দ্রনাথ সাহা। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মঞ্জুর আহমেদ।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here