‘সেনা মোতায়েন নিয়ে সিদ্ধান্ত আরও পরে’

0
60
একাদশ সংসদ নির্বাচনের অন্তত এক বছর বাকি থাকতেই আগাম সেনা মোতায়েন করা না করা নিয়ে মন্তব্য করতে চান না প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।
তিনি মঙ্গলবার জানান, “জাতীয় নির্বাচনে অতীতে সেনা মোতায়েন সব সময় ছিল। এখন একাদশ সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হবে কি হবে না, কিংবা কীভাবে হবে, সে সিদ্ধান্ত পরে হবে।”
কমিশন ভোটের এত আগে সেনা মোতায়েন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানান সিইসি।
সোমবার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বেশ কিছু গণমাধ্যমকে জানান, “আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সবার অনুভূতি হচ্ছে যে, সেনা মোতায়েন হবে।”
এ নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যকে ‘উনার ব্যক্তিগত মত’ বলে মনে করেন সিইসি। সেনা নিয়ে কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান তিনি।
“আগেও সেনা মোতায়েন ছিল। এবারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি; সেনা মোতায়েন হবে কিংবা সেনা মোতায়েন হবে না-এমন সিদ্ধান্ত এখনই বলা যাবে না। ভোটের আগে পরিস্থিতি বুঝে আমরা সিদ্ধান্ত জানাব,” বলেন নূরুল হুদা।
সবার সঙ্গে সংলাপ শেষে ২৬ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনেও সিইসি বলেছেন, বিদ্যমান আইনেও সেনা মোতায়েনে কোনো বাধা না থাকলেও ভোটের সময়কার পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগ বেসমারিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনী কর্মপরিধি কমিশনের সংলাপে তুলে ধরেছে। দলটি বলছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন এবং ইসি নির্ধারিত ভোটের পরবর্তী সময়ের জন্য প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর ওপর ন্যস্ত থাকবে।
“আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষাবাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করা যাবে ১৮৯৮ সালের প্রণীত ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ থেকে ১৩১ ধারায় এবং সেনা বিধিমালা ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ শিরোনামে সুস্পষ্টভাবে তার উল্লেখ রয়েছে।”
তবে বিএনপি বরাবরই চাইছে, ভোটে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়েই নামানো হোক সেনা সদস্যদের।
বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় যেভাবে সেনা মোতায়েন
সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে ১৫ দিন মোতায়েন ছিল সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ জানুয়ারি পর‌্যন্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখা হবে।
সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সশস্ত্রবাহিনী নিয়োগ দেয় ইসি।
প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের কাছে ইসির সিদ্ধান্তের বিষয়টি চিঠিতে পাঠায় ইসি সচিবালয়।
সশস্ত্র বাহিনীর কার্যপরিধির বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়, ফৌজদারি কার‌্যবিধির ১৩০ ও ১৩১ ধারা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ‘ইন্সট্রাকশন রিগার্ডিং ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর সপ্তম ও দশম অনুচ্ছেদের ক্ষমতা ও নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের সময় সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত হবে।
মোতায়েন করা সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের কাজ হবে নির্বাচনী কাজে ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচালনায় বেসামরিক প্রশাসনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় রহায়তা করা।
সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি জেলা/উপজেলা/মহানগর এলাকার ‘নোডাল পয়েন্ট’ এবং অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নেবেন এবং ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসাবে নিয়োজিত থাকবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে উপজেলা/থানায় সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে সহযোগিতার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করবেন সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ২৬ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনীকে রাখা হয়েছিল। তাতেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেনাবাহিনী। চিঠিতে বলা হয়, সেনা সদস্যরা সেনানিবাসের ভেতরেই থাকবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা অনুরোধ করলে তারা বাইরে আসবেন।
সেনা সব সময়
দেশের ৩০০ আসনের নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর ৫ লাখেরও বেশি সদস্য প্রয়োজন হয়।
সংসদ নির্বাচনেও সশস্ত্রবাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়।
কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০০১ সালের আগে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত কোনো বিধান আরপিওতে ছিল না। তারপরও ১৯৭৩ থেকে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদেরও জেলা/থানা/উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়।
২০০১ সালের এক অধ্যাদেশে নির্বাচনে ‘ল’ এনফোর্সিং এজেন্সির’ সংজ্ঞায় ‘ডিফেন্স সার্ভিস’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্ত ২০০৯ সনের ১৩ নম্বর আইনে তা বাদ দেওয়া হয়।
image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here