৫ অক্টোবরের পর খোলাবাজারে চাল-আটা বিক্রি কার্যক্রম চালানো হবে না।

0
123

৫ অক্টোবরের পর খোলাবাজারে সরকারের চাল ও আটা বিক্রি কার্যক্রম আর না চালানোর সিদ্ধান্ত্ম নিয়েছে ট্রাক সেল ওএমএস ডিলাররা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ‘ট্রাক সেল’ ওএমএস ডিলার সমিতির সভাপতি আলমগীর সৈকত।

তিনি বলেন, “আগামী ৫ অক্টোবরের পর থেকে খোলাবাজারে ‘ট্রাক সেল’ চাল-আটা বিক্রি কার্যক্রম চালানো হবে না। যদি কমিশন বাড়ায় তাহলে আবার শুরম্ন হবে। আমরা সরকারের কাছে কমিশন বাড়ানোর প্রস্ত্মাব করেছি। এক মেট্রিক টন আতপ চালের সঙ্গে সিদ্ধ চাল এক মেট্রিক টন বরাদ্দ চেয়েছি। চালের দামও কেজিপ্রতি ২০ টাকা করার প্রস্ত্মাব দিয়েছি।”
কাপ্তান বাজারের ডিলার শাহজাহান বলেন, ‘টিসিবির চাল ও আটা বিক্রি করে কেজিপ্রতি পেয়েছি সাড়ে চার টাকা কমিশন। আর এখন আতপ চাল বিক্রি করে কমিশন পাচ্ছি দেড় টাকা। অন্যদিকে, লোকজন চাল কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে আমাদের লোকসান হচ্ছে প্রতিদিন।

তাই সংগঠন থেকে সিদ্ধান্ত্ম নেয়া হয়েছে আগামী ৫ অক্টোবরের পর আর চাল ও আটা বিক্রি করব না।’
খোলাবাজারে ডিলারদের ‘ট্রাক সেল’ বন্ধের ঘোষণা সম্পর্কে জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বদরম্নল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আমি এখনো জানি না। আমরা ইতোমধ্যেই মন্ত্রণালয়কে কমিশন বাড়ানোর প্রস্ত্মাব দিয়েছি। এর একটা ব্যবস্থা হবে। আমরা ডিলারদের কার্যক্রম চালু রাখার ব্যবস্থা নেব।’
সম্প্রতি দেশে চাল ও আটার দাম বেড়ে যাওয়ায় খোলাবাজারে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকায় এবং আটা ১৭ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত্ম নেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচি শুরম্ন করে। তবে শুরম্ন থেকেই আতপ চালের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল কম। আতপ চাল খাওয়ার অভ্যাস না থাকার কারণে লোকজন চাল কিনতে আগ্রহ দেখায়নি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরম্নল ইসলাম বলেছিলেন, ‘এক সপ্তাহ পর পাবলিক চালের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়বে।’ কিন্তু বাস্ত্মবে ১০ দিন পরেও তেমন কিছু দেখা যায়নি। এমনকি চালের ক্রেতাদের অনাগ্রহ ও কমিশন কমের কারণে ডিলাররা চাল বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত্ম নিয়েছেন।
পুরান ঢাকার ডিলার সালাউদ্দিন বাদল বলেন, ‘কোনো ডিলার ডিও করাতে চাচ্ছেন না। শুধু গরিব মানুষের কথা চিন্ত্মা করে এবং সরকারের পÿ থেকে অনুরোধ করার কারণে চাল-আটা বিক্রির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।’
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী রাজধানীতে ১২০টি স্থানে ট্রাক সেলে চাল ও আটা বিক্রি করার কথা থাকলেও শুরম্ন থেকেই সব ডিলার মাঠে নামেননি। খোলাবাজারের চাল-আটা বিক্রির পঞ্চম দিন গত ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে চালের ট্রাক ছিল ৩৮টি। পরে সরকারের পÿ থেকে এরিয়া রেশনিং কর্মকর্তারা ডিলারদের অনুরোধ জানিয়ে ডিলারদের মাঠে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। সরকারের চাপের মুখে আবার মাঠে ‘ট্রাক সেল’ কর্মসূচি শুরম্ন করেন ডিলাররা। বৃহস্পতিবার ডিও হয়েছে ৯৭টি।
ডিলারদের সূত্রে জানা গেছে, চালের বিক্রি অব্যাহত না রাখাসহ অন্যান্য কারণে ৩০৭ ডিলারের মধ্যে ১০০ জনের কার্যক্রম স্থগিত করেছে সরকার। বাকি ২৩৭ জন ডিলারের কার্যক্রম চালু রয়েছে। এসব ডিলারদের পÿ থেকে বৃহস্পতিবার ৯৭টি ডিও করা হয় চাল ও আটা সংগ্রহের জন্য। অভিযোগ ছিল, বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ডিলারদের চাপ দিয়ে বুধবার ডিও করানো হয়েছিল ১০৭টি।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here