বিএনপির হরতালে স্বাভাবিক বগুড়ায়

0
80

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে সকাল থেকেই যানবাহন চলাচলের চিত্র স্বাভাবিক। নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী স্টেশন ছেড়েছে লালমনিরহাট-ঢাকা রুটের ট্রেন। ভোর থেকেই শহরের রাস্তাঘাটে চলাচল করছে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও থ্রি-হুইলার। তবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন রয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ। সকাল থেকেই তালাবদ্ধ বিএনপির দলীয় কার্যালয়। ভোর থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত কোথাও দেখা মেলেনি বিএনপির নেতা-কর্মীদের।

বগুড়ায় বিএনপির ডাকা আজ শনিবারের হরতালে সকালের চিত্র এটি। তবে হরতাল ডেকে মাঠে নেই বিএনপি।

গাড়ি পোড়ানোর একটি মামলায় কারাগারে পাঠানো বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে জেলা বিএনপি আজ বগুড়ায় আধাবেলা হরতাল ডাকে। ২০১৫ সালের একটি গাড়ি পোড়ানো মামলায় নথিতে পলাতক থাকা বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১-এর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক ইমদাদুল হক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পরপরই জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই হরতালের ডাক দেওয়া হয়। সাইফুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে আজ আধাবেলা হরতাল পালনসহ নয় দিনের কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন। নিরাপত্তার স্বার্থে সাইফুল ইসলামকে গতকাল শুক্রবার সকালে বগুড়া থেকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠিয়ে দেয় কারা প্রশাসন।

হরতাল থাকলেও আজ সকাল সাতটা থেকেই শহরের সাতমাথায় যানজট দেখা যায়। যাত্রীবোঝাই ২০ থেকে ২৫টি দূরপাল্লার বাস সাতমাথা থেকে ছেড়ে যেতে দেখা যায়। রাজশাহী অভিমুখী বাসও স্বাভাবিক সময়ে ছেড়ে যায়। সকালে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও দিনাজপুরের বাস। চলাচল করতে দেখা গেছে শেরপুর রুটের বাস। ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলও ছিল স্বাভাবিক। সাতমাথায় সকাল থেকেই জলকামান ও এপিসি নিয়ে অবস্থান নিয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ। শহরের কোথাও হরতাল সমর্থনকারীদের দেখা মেলেনি।

সকাল সাড়ে সাতটায় দত্তবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ডের চিত্রও অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল। কিচক-বগুড়া রুটের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সাজু মিয়া বলেন, ‘দ্যাশত মোটা চালের কেজি ৫০ টেকা। সরকার ঘন ঘন গ্যাস-কারিন্টের দাম বাড়াচ্চে। রোহিঙ্গা দিয়ে দ্যাশ বরে যাচ্চে। কই কোন দিন দেকনো না বিএনপি পাবলিকের জন্যি হরতাল দিচে। একন কোনটেকার কোন নেতা জেলত গেচে, আর তারা হরতাল দিচে। হরতাল দিলেই হামরা তা মানমো কেন? প্যাট কি তারা চলাবি?’

সকাল পৌনে আটটায় শহরতলির মাটিডালি মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস ও অন্য সব যান চলাচল স্বাভাবিক। মাটিডালি মোড়ে মোতায়েন ছিল বিপুলসংখ্যক পুলিশ। রংপুর অভিমুখী শ্যামলী পরিবহনের চালক শাহ আলম বলেন, বগুড়ায় বিএনপির হরতালের কথা জানা নেই। পথে কেউ বাস চলাচলে বাধাও দেয়নি। সকাল আটটায় শহরের চারমাথা আন্তজেলা বাস টার্মিনাল, তিনমাথা রেলগেট ও বনানী মোড়ে স্বাভাবিক যান চলাচলের চিত্র দেখা গেছে।

সকাল সাড়ে আটটায় শহরের নওয়াববাড়ি সড়কে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তালাবদ্ধ কার্যালয়ের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। জেলা বিএনপির কার্যালয়ে কোনো নেতা-কর্মীকে এ সময় দেখা যায়নি।

বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দায়িত্বরত সদর পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই ফজলে এলাহি প্রথম আলোকে বলেন, সকাল থেকে শহরের কোথাও হরতাল সমর্থনকারীরা মাঠে নামেনি। জনজীবন স্বাভাবিক আছে। কোথাও হরতালের প্রভাব পড়েনি।

সকাল নয়টা থেকে শহরের সাতমাথায় চলছে হরতালবিরোধী সমাবেশ। জেলা যুবলীগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিএনপির ডাকা অযৌক্তিক হরতাল প্রত্যাখ্যান করায় বগুড়াবাসীকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি রাতে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা থেকে ছেড়ে আসা আলুবাহী একটি ট্রাকে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে চালক পটল মিয়া দগ্ধ হন। এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনের ধারায় এবং দণ্ডবিধির ধারায় ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর থেকেই আদালতের নথিতে পলাতক ছিলেন বিএনপির এই নেতা। বৃহস্পতিবার নিজেই আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here