রিকশাচালককে হত্যার দায়ে হানিফ হাওলাদার (৫৫) সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ

0
51

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় মোস্তফা হাওলাদার (৩৫) নামের এক রিকশাচালককে হত্যার দায়ে হানিফ হাওলাদার (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

একই ঘটনায় মোস্তফা সিকদার নামের আরেক ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত করার দায়ে ইব্রাহিম হাওলাদার (৩০) নামের এক ব্যক্তির পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। ইব্রাহিম হাওলাদার যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হানিফ হাওলাদারের ছেলে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস এম জিল্লুর রহমান এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় হানিফ ও ইব্রাহিম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খান মো. আলাউদ্দিন ও সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) জহিরুল ইসলাম। আসামি পক্ষে ছিলেন আহসানুল কবির।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেলিখালী গ্রামের মোস্তফা হাওলাদারের সঙ্গে প্রতিবেশী হানিফ হাওলাদারের একটি রেইনট্রি গাছ নিয়ে বিরোধ ছিল। হানিফ রেইনট্রি গাছের ডাল কেটে নেন। এ নিয়ে ২০০৫ সালের ১৯ জুন দুপুরে মোস্তফার সঙ্গে হানিফ ও তাঁর ছেলে ইব্রাহিমের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হানিফ পিটিয়ে মোস্তফাকে গুরুতর আহত করেন। এ সময় মোস্তফাকে বাঁচাতে প্রতিবেশী মোস্তফা সিকদার এগিয়ে গেলে ইব্রাহিম তাঁকেও কুপিয়ে আহত করেন। পরে স্থানীয় লেকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। ২৪ জুন মারধরের ঘটনায় মোস্তফার স্ত্রী জাহানুর বেগম বাদী হয়ে হানিফকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় মামলা করেন। ২৬ জুন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তফার মৃত্যু হয়। এরপর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। ২০০৬ সালের ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভান্ডারিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাকসুদুর রহমান হানিফ, তাঁর ছেলে ইব্রাহিম, স্ত্রী জাহানুর বেগমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক আজ দুপুরে রায় ঘোষণা করেন। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় জাহানুর বেগমকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here