সরকারের ক্ষতি সাড়ে ৪ কোটি টাকা | জালিয়াতি করে সরকারি ডিপোর ৭ লাখ লিটার ডিজেল বিক্রি

0
130

রাষ্ট্রমালিকানাধীন জ্বালানি তেল বিপণন সংস্থা যমুনা অয়েলের চাঁদপুর ডিপো থেকে ৭ লাখ লিটার ডিজেল জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি করে ফেলা হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। সরকারি কোষাগারে এ টাকা জমা হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির এই জালিয়াতির সঙ্গে ডিপোর পাঁচ সদস্যসহ বাইরের আরও কয়েকজন জড়িত বলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

বিপিসি সূত্র জানায়, গত ১৯ জুন ‘ইরাবতী’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজের সুপারভাইজারের কাছ থেকে ৭ লাখ লিটার ডিজেল নিয়ে চাঁদপুর ডিপোর আট নম্বর ট্যাংকে মজুত করা হয়। ওই সুপারভাইজারের নাম আফছার। পরে তা বিপিসির অধীন বিপণন সংস্থা পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলের এজেন্ট (প্রতিনিধি) চাঁদপুরের ফয়সল এন্টারপ্রাইজ ও হান্নান ফিলিংস্টেশনে বিক্রি করেন যমুনা অয়েলের ডিপো সুপার শেখ মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম। এমনকি বিষয়টি আড়াল করতে খাদেমুলের নির্দেশে ডিপোর কর্মচারীরা ‘মিটার রিডিং’ পরিবর্তন করে ফেলেন।

বিপিসির তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, চাঁদপুর ডিপো সুপার শেখ মোহাম্মদ খাদেমুল জ্বালানি তেল বিক্রি বাবদ দুই প্রতিষ্ঠান থেকে তিন ব্যাংকের কয়েকটি চেক গ্রহণ করেন। সরকারি কোষাগারে জমা না করে এই চেকগুলো দেওয়া হয় ‘ইরাবতী’ জাহাজের সুপারভাইজার আফছারকে। বিষয়টি গোপনে বিপিসির নজরে আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করে ঘটনার প্রাথমিক প্রমাণ পান।

নিয়ম অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন ডিপোতে জ্বালানি গ্রহণ ও বিক্রির হিসাব মিটারে সংরক্ষণ করা হয়। মিটারে হাত দেওয়ার এখতিয়ার বা আইনি কোনো বৈধতা কোম্পানির কোনো সদস্যের নেই। অথচ চাঁদপুর ডিপোর মিটার রিডিং পরিবর্তনের করে ফেলে ডিপোর লোকজনেরা, যা প্রাথমিক তদন্তে ধরা পড়ে।

এ ঘটনায় বিপিসির পরিচালক (বিপণন) ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মীর আলী রেজার নেতৃত্বে একটি এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. মাসুদুল ইসলামকে প্রধান করে মোট দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে বিপিসির গঠিত কমিটি প্রাথমিক তদন্তে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক তদন্তের পর ডিপোর ইনচার্জ মো. খায়রুল কবির বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ২২ জুলাই চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা (নম্বর ৫৭ এবং তারিখ ২২.০৭.২০১৭) হয়েছে। মামলা দায়েরের দিনই ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন চাঁদপুর ডিপো সুপার শেখ মোহাম্মদ খাদেমুল, গেজার (তেল পরিমাপক) মো. মিজানুর রহমান, পাম্প অপারেটর আবু বক্কর ছিদ্দিক, মিটারম্যান মো. মজিবুল হক কালাম ও মোসলেম শাহ। এই জালিয়াতির সঙ্গে ‘ইরাবতী’ জাহাজের সুপারভাইজার আফছারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে আফছার পলাতক।

তদন্ত কর্মকর্তার প্রধান বিপিসির পরিচালক ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মীর আলী রেজা এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদপুর ডিপো থেকে গত ১৯ জুনের পর ৭ লাখ লিটার ডিজেল বাইরে বিক্রি হয়। এ-সংক্রান্ত সরকারি কোনো রেকর্ড রাখা হয়নি। ডিজেল বিক্রির সাড়ে ৪ কোটি টাকার চেক জাহাজের সুপারভাইজার আফছার নিয়ে গেছে, যা প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

মীর আলী রেজা আরও বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত সব ধরনের জ্বালানি সংগ্রহ করা এবং ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানোর একমাত্র কর্তৃপক্ষ বিপিসি। কিন্তু জাহাজের সুপারভাইজার আফছার এই ডিজেল কোন জায়গা থেকে সংগ্রহ করেছেন, তা এখনো জানা যায়নি।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here