একনেক সভা | পুকুর পুনঃখননে ১৩৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প

0
60

সারা দেশের পুকুর ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দেড় হাজার পুকুর ও ১ হাজার খাল পুনঃখনন করা হবে। এ জন্য ১ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা খরচ হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ-সংক্রান্ত সারা দেশে পুকুর, খাল উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মূলত তরুণ জনগোষ্ঠীকে মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি পালন ও শাকসবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করে আয় বৃদ্ধির জন্যই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৫৬টি জেলার প্রায় ৪০০ উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ। প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সারা দেশের সব পুকুর ও খাল নিয়ে জরিপ করেছে এলজিইডি। সেখানে দেখা গেছে, সারা দেশে মোট ১৪ হাজার ৯১০টি খাস পুকুর আছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৪৯৩টি প্রাতিষ্ঠানিক পুকুর ও দিঘি খাস এবং ৬ হাজার ৫৩৬টি খাস খাল আছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৯২১টি খাল (২ হাজার ৩৭২ কিলোমিটার) এবং ১ হাজার ৬১১টি খাল ও দিঘি পুনঃখনন করা হবে। এর পাশাপাশি ৯৩৮টি ঘাট নির্মাণ ও মেরামত করা হবে।

এর আগে ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে পুকুর ও খাল নিয়ে জরিপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর এলজিইডির পক্ষ থেকে সরেজমিনে গিয়ে খাল ও পুকুর যাচাই-বাছাই করে জেলাভিত্তিক তালিকা করা হয়।

গতকালের একনেক সভা শেষে পাস হওয়া প্রকল্পগুলো সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান। এ সময় তিনি বলেন, খাল ও পুকুর খননের প্রকল্পটি নজরদারিতে রাখতে হবে। কেননা এই প্রকল্পে নয়ছয় হওয়ার আশঙ্কা আছে।

এই প্রকল্পটিসহ গতকালের একনেকে মোট ১০ হাজার ৩৩২ কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প পাস হয়। সব টাকাই স্থানীয় উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ৬ হাজার ৯২৩ কোটি টাকার প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প (৩য় পর্যায়); ৩২৯ কোটি টাকার ৬৪ জেলায় জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণ; ৯৬২ কোটি টাকার ফেনী-নোয়াখালী জাতীয় মহাসড়কের বেগমগঞ্জ থেকে সোনাপুর পর্যন্ত চার লেনে উন্নীত করা; ২৬৪ কোটি টাকার নলকা-সিরাজগঞ্জ-সয়দাবাদ আঞ্চলিক মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ শহর অংশ (শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ থেকে কাটা ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত) চার লেনে উন্নীত করা এবং অবশিষ্ট অংশ দুই লেনে উন্নীত করা; ১১৫ কোটি টাকার বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক (বালুখালী-ঘুনধুম) বা সীমান্ত সড়ক নির্মাণ; ১০৭ কোটি টাকার কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়ক নির্মাণ; ১৮৩ কোটি টাকার রাজশাহী মহানগরীর রাজশাহী-নওগাঁ প্রধান সড়ক থেকে মোহনপুর-রাজশাহী-নাটোর সড়ক পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম সড়ক নির্মাণ এবং ১১৪ কোটি টাকার টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর বাম তীরবর্তী গাছ-কুমুল্লী, বারপাখিয়া এবং নাগরপুর উপজেলার ঘোনাপাড়াসহ বাবুপুর-লাউহাটি এফসিডি প্রকল্প তীর সংরক্ষণ প্রকল্প।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here