ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হবে বাংলাদেশে

0
102

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকাঙ্ক্ষিত এক দরজায় সব সেবা বা ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) আগামী বছরের মাঝামাঝি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। এটি চালুর জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন সংসদে পাস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে আইনটির অধীনে বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর কারিগরি দিক নিয়ে কাজ করছে বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংকের একটি দল। পুরো কার্যক্রমে অর্থেরও কোনো সংকট নেই।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন। ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিয়ে এক কর্মশালা শেষে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসা সূচক বা ডুইং বিজনেস ইনডেক্সে উন্নতির অংশ হিসেবে সরকার ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ডুইং বিজনেস ইনডেক্সে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ কমপক্ষে ৯৯তম অবস্থানে আসতে চায়। এই সূচকে এখন বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৭৬তম। এ জন্য ২৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দ্রুত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে কাজ চলছে। সরকার ব্যবসা শুরুর সময় সাড়ে ১৯ দিন থেকে ৭ দিনে, বিদ্যুতের সংযোগ পাওয়া ৪২৮ দিন থেকে কমিয়ে ২৮ দিনে, জমি নিবন্ধনের সময় ২৪৪ দিন থেকে কমিয়ে ২ দিনে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সেবা ২৭৮ দিন থেকে ৬০ দিনে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। ডুইং বিজনেস সূচকের মাধ্যমে একটি দেশে ব্যবসা করা কতটা সহজ, তার তুলনামূলক চিত্র উঠে আসে।

বিনিয়োগকারী কোম্পানির নিবন্ধন, পরিবেশ ছাড়পত্র, বিভিন্ন সেবার সংযোগ যাতে অনলাইনে একটি আবেদনের মাধ্যমে পান, সেই লক্ষ্যেই চালু করা হবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস। এই সেবা শুরুতে বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

বিডার চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগকারীরা যেকোনো জায়গায় বসে সব সেবার জন্য একটি মাত্র আবেদন করবেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে সংস্থাগুলো তাঁকে প্রয়োজনীয় সেবা দেবে এবং সেটা হবে সময়াবদ্ধ। এর জন্য কারও সঙ্গে বিনিয়োগকারীর যোগাযোগ বা কথা বলতে হবে না। তিনি বলেন, শুরুতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে এই সেবা চালু হবে।

ওয়ান স্টপ সার্ভিস পূর্ণাঙ্গভাবে কবে চালু হবে—এই প্রশ্নের জবাবে বিডার চেয়ারম্যান বলেন, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর শেখার অনেক বিষয় আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে চাই, যেখানে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা করতে পারবেন এবং সেবা পাবেন।’

ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে কিছুটা সময় লাগলেও ব্যবসার পরিবেশ সংস্কারের সুফল আগেই পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করা হয় অনুষ্ঠানে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ এম মাশরুর রিয়াজ বলেন, চলতি মাসে ডুইং বিজনেস রিপোর্ট প্রকাশিত হবে। এতে গত ৩১ মে তারিখের আগে করা সংস্কারগুলো বিবেচনায় আসবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নতির সুযোগ কম। আগামী বছরের প্রতিবেদনে বিবেচনায় আসবে আগামী ৩০ এপ্রিলের আগে করা সংস্কারগুলো। এতে বাংলাদেশের উন্নতির সুযোগ আছে।

মাশরুর রিয়াজ আরও বলেন, ব্যবসায় পরিবেশের উন্নয়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। এক-দুই বছরে এতে বড় উন্নতি আশা করা যায় না। তবে ভিত্তি স্থাপিত হলে উন্নয়ন সহজ হয়।

সংবাদ সম্মেলনে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here