গ্রাহক ৯ লাখ, জমা ৬৫০ কোটি টাকা > গ্রামগঞ্জে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিচ্ছে এজেন্টরা

0
144

ব্যাংকিং সেবা দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে গ্রামগঞ্জে। আর এতে বড় ভূমিকা রাখছে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা। সারা দেশের তিন হাজারের বেশি পয়েন্টে এ সেবা দিচ্ছে বিভিন্ন ব্যাংকের মনোনীত এজেন্টরা। ফলে ইউনিয়নে ইউনিয়নে পাওয়া যাচ্ছে ব্যাংকিং সেবা, স্কুলেও বসেছে ব্যাংক। সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া ভাতাও গ্রামগঞ্জে সহজে পাওয়া যাচ্ছে এসব এজেন্টের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ করছে অনেক ব্যাংক।

গত জুন পর্যন্ত ১৭টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার অনুমোদন নিলেও ১৩টি ব্যাংক সেবাটি চালু করেছে। সবশেষ ইসলামী ব্যাংক এ সেবা চালু করেছে। গত জুন পর্যন্ত এ সেবার গ্রাহক হয়েছেন ৮ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৫। এর মধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৬৫ জনই মহিলা গ্রাহক। এসব হিসাবে জমা রয়েছে ৬৫১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশে ব্যাংকিং সেবা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য প্রচলিত ব্যাংক শাখার বাইরে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোও এতে ভালো সাড়া দিচ্ছে। এতে গ্রামগঞ্জে সেবা ছড়িয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনাসংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে। এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে প্রত্যেক এজেন্টের একটি চলতি হিসাব থাকতে হয়। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ছোট অঙ্কের অর্থ জমা ও উত্তোলন করা যায়। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স স্থানীয় মুদ্রায় বিতরণ, ছোট অঙ্কের ঋণ বিতরণ ও আদায় এবং এককালীন জমার কাজও গ্রাহকেরা সহজে করতে পারছেন।এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সেবা বিল পরিশোধের পাশাপাশি সরকারের অধীনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থ প্রদান করতে পারছেন গ্রাহকেরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের মাসভিত্তিক ভাতা প্রদান করছে ব্যাংক এশিয়া। স্কুল ব্যাংকিং সুবিধা প্রদানে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সঙ্গে কাজ করছে ব্যাংকটি। পোশাককর্মীদের বেতন সহজে পরিশোধে সুইস কনটাক্টের সহায়তায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া কৃষকদের ঋণসুবিধা দিতে ইউএসএইয়ের সুবিধা দিতে চালু করেছে বিশেষ কার্ড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত জুন পর্যন্ত ১২ ব্যাংকের ৩ হাজার ২২৪টি আউটলেটে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হচ্ছে। এসব আউটলেটের মাধ্যমে এপ্রিল-জুন সময়ে ৮৯০ কোটি টাকা প্রবাসী আয় বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে ৩৫৯ কোটি টাকা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৩৫০ কোটি ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ১৬৭ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে ব্যাংক এশিয়ার ১ হাজার ২২টি আউটলেট। এসব সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহক রয়েছে ৫৯ হাজার ২৪৮ জন। মধুমতি ব্যাংক ১০০টি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে, যাতে গ্রাহক রয়েছে ৫ হাজার ৩০৬ জন। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ১৯২টি ডিজিটাল সেন্টারে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে ৩ হাজার ৫১৫ জন গ্রাহক তৈরি করেছে ব্যাংকটি।

এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়ে শুরু থেকে কাজ করছেন ব্যাংক এশিয়ার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারি যেসব ভাতা আছে, তা আমরা এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে ভাতাভোগীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। স্কুলশিক্ষার্থীদের ব্যাংকে না এনে স্কুলেই ব্যাংক বুথ বসানোর কাজ করছি। এজেন্ট ব্যাংকিং যে শুধু টাকা জমা ও তোলা নয়, সে ধারণা পাল্টে দিতে কাজ চলছে।’

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেন, ‘ব্যাংকের শাখা খোলা ব্যয়বহুল, তাই আমরা শাখা না বাড়িয়ে এজেন্ট ব্যাংকিংকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তাতে গ্রাহকদেরও ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।’

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here