টানা দু’দিনের অবিরাম বর্ষণে বন্দরে ৬ হাজার টন চাল আটকা

0
65

টানা দু’দিনের অবিরাম বর্ষণে বেনাপোল স্থলবন্দরের অধিকাংশ মালামাল পানিতে তলিয়ে গেছে।

ফলে খোলা আকাশের নিচে রাখা কোটি কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হতে শুরু করেছে। মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।

শনিবার সকাল থেকে সব ধরনের মালামাল লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির কারণে বন্দরে ৬ হাজার টন চাল আটকা পড়েছে।

বন্দরে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বন্দরে মালামাল ভিজে নষ্ট হচ্ছে। খোলা আকাশের নিচে অযত্নে-অবহেলায় রাখা এসব মালামাল পানিতে ডুবে গেছে।

অবস্থা এমনই বেগতিক যে, এরই মধ্যে কোনো কোনো পণ্যের গুদামে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হচ্ছে। বর্ষায় অবহেলায় বন্দরের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকার মালামাল খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হলেও কর্তৃপক্ষের যেন কোনো মাথাব্যথা নেই।

ফলে অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকরা এ বন্দর থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে। ফলে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ক্রমেই আমদানি বাণিজ্য কমতে শুরু করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। এ কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই বন্দরের ভেতরে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে যায়।

পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনগুলো পানির গর্তে আটকে যাচ্ছে। পণ্য রাখার গুদামের প্রবেশমুখেও হাঁটু সমান পানি। বন্দরে মাত্র ৪২টি গুদাম রয়েছে যেগুলোর ধারণক্ষমতা ৪২ হাজার মেট্রিক টন। অথচ সারা বছরই বন্দরে পণ্য রাখা হচ্ছে ৮০ হাজার মেট্রিক টন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, দেশের সর্ববৃহৎ এই স্থলবন্দর থেকে সরকার বছরে ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। অথচ এ বন্দরের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

প্রায় একযুগ ধরে এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। আগে ভারত থেকে প্রতিদিন ৫০০ ট্রাক মালামাল আমদানি হতো এই বন্দর দিয়ে, বর্তমানে আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ৩০০-তে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, গত দু’দিনের অবিরাম বর্ষণে বন্দরের ওপেন ইয়ার্ডের মালামাল পানির নিচে রয়েছে। পানি নিস্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here