বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে ১৫৭টি দেশে

0
299

দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে ১৫৭টি দেশে যাচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ। সবচেয়ে বেশি ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে মিয়ানমারে। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে মূল্য প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছে বাংলাদেশের ওষুধ। যে কারণে রপ্তানির পরিমাণও বাড়ছে। অবশ্য স্বাধীনতার পর বিদেশ থেকে অধিকাংশ ওষুধ আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা হতো। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রমতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭১৪ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি খাতে আয় হয়। আরও বিগত ছয় বছরে অর্থাৎ ২০১১-২০১৭ অর্থবছর পর্যন্ত মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। ওষুধ রপ্তানিকারকরা মনে করছেন এ রপ্তানি আয় তুলনামূলক কম।

রপ্তানির পরিমাণ ও দেশের সংখ্যা আগামীতে আরও বাড়বে বলে আশা করছেন। সম্প্রতি এক সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রতিনিয়ত দেশে ওষুধ রপ্তানি বাড়ছে। স্বাধীনতার পর দেশে অনেক ওষুধ আমদানি করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ ওষুধ আমদানি করা হচ্ছে; যা ভবিষ্যতে দেশের তৈরি ওষুধ চাহিদা মেটাবে।

ওষুধ শিল্প মালিকদের মতে, বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ওষুধের মেধাস্বত্বের ছাড়ের সুযোগ করে দিয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। এটাকে কাজে লাগাতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকেও ওষুধ শিল্প বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা আর বিশ্ববাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ওষুধ রপ্তানিতে এশিয়ার শীর্ষে উঠে আসবে বাংলাদেশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করে ৩৮৬ কোটি টাকা। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে রপ্তানি আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭৮ কোটি টাকা। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৫৪ কোটি টাকা। এর পর ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ কিছুটা কমে হয় ৫৪১ কোটি টাকা। এর পর আবার রপ্তানি আয়ে পরিমাণ আবার বাড়তে থাকে। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে আয় হয় ৬৫৭ কোটি টাকা ও ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করে আয় করে ৭১৪ কোটি টাকা।

এদিকে ওষুধ শিল্প সমিতি বলছে, রপ্তানি আরও বাড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। ইতিমধ্যে দেশের কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওষুধ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে। ফলে উন্নত বিশ্বে বাংলাদেশের তৈরি ওষুধ রপ্তানির দরজা খুলছে। এখন উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সব কারখানায় ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে উৎপাদনও অনেকগুণ বেড়েছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং দক্ষ ফার্মাসিস্টদের সহায়তায় বর্তমানে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ওষুধও দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। ওষুধ শিল্প সমিতির সূত্রে জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির পরিমাণ ক্রমে বাড়ছে। স্বল্প দামে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ সরবরাহের সক্ষমতাই এ দেশের ওষুধ শিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি। বাংলাদেশের কয়েকটি কোম্পানি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে ওষুধ উৎপাদন করছে। সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে ওষুধ শিল্প দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের শীর্ষে অবস্থান করবে। তাই রপ্তানি আয় বাড়াতে সরকারের আরও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। এছাড়া বর্তমানে ওষুধ রপ্তানিতে এশিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। তারা নানা ধরনের এক্সপোর্ট বেনিফিট পাচ্ছে। আমাদের এ ধরনের সুবিধা দিলে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে সময় লাগবে না।

বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৫৩টি কোম্পানির তৈরিকৃত ওষুধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান, ফ্রান্স, সুইডেন, ইতালি, কানাডা, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, ইরান, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, মরক্কো, আলজেরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তা যাচ্ছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here