বাংলাদেশ ব্যাংকে বিক্ষোভ বোনাস নিয়ে

0
37

পুরোনো বেতন স্কেলে প্রণোদনা বোনাস দেওয়ার উদ্যোগে বিক্ষোভ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে দেখা করে নতুন স্কেলে বোনাস দাবি করলেও তিনি রাজি হননি। এতে গতকাল দিনভর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একধরনের অস্থিরতা বিরাজ করেছে, বেশির ভাগ কর্মকর্তাই কর্মবিরতি পালন করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে কর্মকর্তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে গতকালের পূর্বনির্ধারিত শোক দিবসের অনুষ্ঠান হয়নি। বঙ্গবন্ধু পরিষদ বাংলাদেশ ব্যাংক শাখার আয়োজনে এতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, গত রোববার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় চলতি বছরের প্রণোদনা বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুনের মূল বেতনের পাঁচ গুণ প্রণোদনা বোনাস দেওয়া হবে।

কর্মকর্তারা বলছেন, প্রচলিত নিয়মে সবশেষ মূল বেতন স্কেল অনুযায়ী প্রণোদনা বোনাস দেওয়া হয়। এই দুই বছরে বেশির ভাগ কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়েছে। পদোন্নতি না হলেও মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এ ছাড়া নতুন স্কেলও কার্যকর হয়েছে এই সময়ে। এ কারণে পুরোনো স্কেল এখন কোনোভাবেই কার্যকর নেই। তাই সেই স্কেল অনুযায়ী বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্তও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আগের স্কেলের পাঁচ গুণের চেয়ে নতুন স্কেলের দ্বিগুণ হলেই সবাই খুশি।

ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা বলছেন, পর্ষদে যে প্রণোদনা বোনাসের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা কার্যকর হলে যাঁরা ২০১৬ ও ২০১৭ সালে যোগদান করেছেন, তাঁদের প্রণোদনা বোনাস কিসের ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে? এ জন্য কর্মকর্তারা সবশেষ মূল বেতন স্কেল অনুযায়ী প্রণোদনা বোনাসের দাবি জানান।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে বেলা একটার দিকে গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে দেখা করেন ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা। এ সময় তাঁরা এক লিখিত চিঠিও দেন গভর্নরের কাছে।

এ সময় গভর্নর তাঁদের বলেন, যেহেতু এটি পরিচালনা পর্ষদের সভার সিদ্ধান্ত, তাই তাঁর পক্ষে এটা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। পরবর্তী সময়ে এটি পরিবর্তন হলে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হবে। ওই সময় তিনি কর্মকর্তাদের বলেন, ‘এটা কি পাট কারখানা যে দাবি আদায়ে বিক্ষোভ করতে হবে?’

লিখিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তে কর্মকর্তারা প্রচণ্ডভাবে বিক্ষুব্ধ ও হতাশ। যেহেতু প্রস্তাবিত প্রণোদনা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রণোদিত না করে হতাশ ও বিক্ষুব্ধ করেছে, তাই নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে অফিসার্স কাউন্সিল এটা প্রত্যাখ্যান করছে। কাউন্সিল ২০১৭ সালের জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে প্রণোদনা প্রদানের অনুরোধ জানায়।

কর্মকর্তারা গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করেও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। পরে তাঁরা জানান, আজ মঙ্গলবার ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের বিশেষ সভায় পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যোগাযোগ করা হলে ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ইস্তেকমাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করেছি। উনি বিষয়টি দেখবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেবেন। সিদ্ধান্ত এলেই কর্মকর্তারা বাড়তি টাকা পেয়ে যাবেন। এর জন্য সময় লাগবে।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন গভর্নর। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলেন, তিনি (অর্থমন্ত্রী) শোক দিবসের অনুষ্ঠানে আসছেন না। এ কারণে অনুষ্ঠান বাতিলের নির্দেশ দেন। বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকে ঘোষণা দেওয়া হয়, শোক দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here