বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে সেমিনার | নৌপথে পণ্য পরিবহন বাড়ানোর আহ্বান

0
86

স্থলবন্দর দিয়ে সড়কপথে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন বাড়ছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা খোলা রেখেও সবচেয়ে বড় বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দরে পণ্যজট কমানো যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প হিসেবে নৌপথে কম খরচে পণ্য পরিবহনের সুবিধা নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের কূটনৈতিক ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতারা।

গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম চেম্বারে এক সেমিনার থেকে এই আহ্বান জানান তাঁরা। ভারতীয় দূতাবাস ও চট্টগ্রাম চেম্বার যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বাণিজ্য সম্পর্ক’বিষয়ক এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ভারত থেকে সমুদ্রপথে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার বন্দরের ওপর নির্ভরশীলতা ছিল। তবে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি হওয়ার পর ছোট জাহাজের মাধ্যমে সরাসরি পণ্য পরিবহনের সুবিধা চালু হয়েছে। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের খরচ ও সময় সাশ্রয় হচ্ছে। তবে এসব ছোট জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাসের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ও পানগাঁও নৌ টার্মিনালে পর্যাপ্ত যন্ত্র সংযোজন করতে হবে।

সেমিনারে জানানো হয়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তির আওতায় জাহাজ চলাচল শুরু হয় ২০১৬ সালের মার্চে। কম খরচ ও কম সময়ে পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনা থাকলেও উপকূলীয় জাহাজ চলাচলের আওতায় পণ্য পরিবহন আশাতীত হারে বাড়ছে না। তবে ১৯৭২ সালে স্বাক্ষরিত নৌ প্রটোকলের আওতায় পণ্য পরিবহন এখন বছরে ২৬ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।

সেমিনারে উপকূলীয় জাহাজ চলাচলে পণ্য পরিবহনে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন এই নৌপথে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রিভারলাইন লজিস্টিকস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আহমেদ। তিনি বলেন, সাত দিন অপেক্ষার পরও ছোট আকারের একটি জাহাজ (এমভি নৌ কল্যাণ) চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ার জন্য জেটি বরাদ্দ পায়নি। আবার ভারতের বন্দরগুলোতে উপকূলীয় এলাকায় চলাচলকারী জাহাজের জন্য মাশুলে ছাড় কম। এ সমস্যা দূর করতে হবে।

এ বক্তব্যে দ্বিমত করে চট্টগ্রাম বন্দরের পর্ষদ সদস্য কামরুল আমিন বলেন, গত বুধবার থেকে অপেক্ষা করার কথা বলা হলেও বন্দরে জাহাজটি আসার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে গত সোমবার। এরপরও কাল জাহাজটি থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর জন্য জেটি বরাদ্দ দেওয়া হবে।

কনটেইনার শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রামের প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলীয় নৌপথে জাহাজ চলাচলের জন্য এখন গড়ে তিন মিটার গভীরতা রয়েছে। নৌপথের কিছু অংশ খনন করে এটি চার মিটারে উন্নীত করতে হবে।

প্রান্তিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সরওয়ার বলেন, ‘২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা বন্দরে ছোট জাহাজে পণ্য পরিবহন শুরু করেছিলাম। সে সময় নৌপথে পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত পণ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে সরে এসেছি। পণ্য পরিবহন না বাড়লে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তির উদ্যোগে সাফল্য আসবে না।’

সেমিনারের প্রধান অতিথি ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার আদর্শ সোয়াইকা বলেন, ভারতের বেনাপোল ও পেট্রাপোল স্থলবন্দরে ২৪ ঘণ্টা পরিচালন কার্যক্রম চলছে। পণ্য পরিবহন বাড়তে থাকায় এখন পণ্য সংরক্ষণের জায়গা বাড়াতে হবে। তবে বিকল্প হিসেবে ব্যবসায়ীরা কম খরচ ও কম সময়ে পণ্য পরিবহনের জন্য নৌপথ বেছে নিতে পারেন। নৌপথের সমস্যাগুলো দূর করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে গত দুই বছরে সম্পাদিত ৬০টি চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অনন্য মাত্রা অর্জন করেছে।

 বৈঠকে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনের বড় অংশ এখনো সড়কপথে আনা-নেওয়া হচ্ছে। উপকূলীয় জাহাজ চলাচলের চুক্তির পর পণ্য পরিবহনে নৌপথের সুবিধা নেওয়া উচিত। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য পরিবহন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here