হোলসিমকে কেনার অনুমোদন পেল লাফার্জ

0
79

অবশেষে সিমেন্ট খাতের কোম্পানি হোলসিম বাংলাদেশকে কিনে নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট হোলসিমকে কিনে নেবে। বিশ্বজুড়ে লাফার্জ-হোলসিমের একীভূত হওয়ার অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে হোলসিমকে কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল লাফার্জের পরিচালনা পর্ষদ। এত দিন তা বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অনুমোদন দিয়েছে।

 কোম্পানি দুটিই বিদেশি মালিকানাধীন। তাই ক্রয়-বিক্রয়ের লেনদেন হবে বিদেশি মুদ্রায় এবং বিক্রয়মূল্য চলে যাবে দেশের বাইরে, তাই এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। সেই চূড়ান্ত অনুমোদনটিই রোববার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে হোলসিমের বিক্রয়মূল্য প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর তাতেই কেনাবেচার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কেনাবেচার জন্য হোলসিমের প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যমানের শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৬ হাজার টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক যাচাই-বাছাই করে ১০০ টাকা মূল্যমানের শেয়ারের বিক্রয়মূল্য ঠিক করে ৫৭ হাজার টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, দুই কোম্পানি মিলে যে দাম ঠিক করেছিল তা ‘অতিমূল্যায়িত’। তাতে বৈধ পথে বাংলাদেশ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশিদের হাতে চলে যাওয়ার শঙ্কা ছিল। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক তার আইনি ক্ষমতাবলে দাম পুনর্নির্ধারণ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের ক্ষমতাবলে ‘বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি’ অনুসরণ করে দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয় বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে লাফার্জ ও হোলসিমের বাংলাদেশের পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গত ডিসেম্বরে লাফার্জ সুরমার পরিচালনা পর্ষদে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ১১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৮০ টাকা) ৯৩৬ কোটি টাকায় হোলসিমকে কিনে নেবে লাফার্জ। দুই কোম্পানির মধ্যে এ দামেই কেনাবেচার বনিবনা হয়েছিল। হোলসিমের সম্পদ ও দায়-দেনার বিশেষ নিরীক্ষার পর ওই মূল্য ঠিক করা হয়েছিল। এখন এসে বাংলাদেশ ব্যাংক হোলসিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রায় ৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০৫ কোটি টাকা। তাতে দুই কোম্পানির মধ্যে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪৩১ কোটি টাকা দাম কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কমিয়ে দেওয়া এ দামে কোম্পানি দুটির মালিকানা বদল হলে তাতে অবশ্য লাফার্জের বিনিয়োগকারীদেরই লাভ। কিন্তু হোলসিমের দাম অর্ধেক কমে যাওয়ায় এখন হোলসিমের মূল মালিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দামে তা বিক্রিতে রাজি হবেন কি না, এ নিয়েই মূলত জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় লাফার্জের পক্ষ থেকে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে শেয়ারধারীদের জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে এখন আবারও দুই কোম্পানির (ক্রেতা-বিক্রেতা) অধিকতর আলাপ-আলোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালের এপ্রিলে বৈশ্বিকভাবে লাফার্জ ও হোলসিম একীভূত হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। সেই অনুযায়ী, বৈশ্বিকভাবে কোম্পানি দুটির একীভূত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ফলে বিশ্বের সিমেন্ট খাতে জায়ান্ট দুই কোম্পানি এক ছাতার নিচে এসে ‘লাফার্জহোলসিম’ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এতে করে দুই কোম্পানি মিলে হয়ে যায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় সিমেন্ট কোম্পানি।

বৈশ্বিকভাবে একীভূত হওয়ার পর বাংলাদেশেও কোম্পানি দুটি একীভূতকরণের বিষয়টি সামনে আসে। কারণ, এ দেশেও দুই কোম্পানির আলাদা কার্যক্রম ছিল। এর মধ্যে লাফার্জ সুরমা বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলেও হোলসিম তালিকাভুক্ত নয়। তাই বৈশ্বিকভাবে একীভূত হওয়া লাফার্জহোলসিম গ্রুপ থেকে হোলসিম বাংলাদেশের সব শেয়ার কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় লাফার্জ।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here