আমরা সংঘাত চাই না, সমঝোতা চাই : ফখরুল ইসলাম

0
94

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা সংঘাত চাই না, সমঝোতা চাই। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংঘাতের পথ ছেড়ে সমঝোতার পথে আসুন। সমঝোতা ও সংলাপের পথ আমরা খোলা রাখতে চাই।

আগামী নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করা যায়, কীভাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা যায়- সেই পথ খুঁজে বের করার জন্য সংলাপের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় সময় পেরিয়ে গেলে সেটাও সম্ভব হবে না। তখন সব দায় সরকারকে বহন করতে হবে। খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণাকালে তিনি এসব কথা বলেন। আজ সারা দেশে ও শনিবার ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনীর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ মুহূর্তে এ নিয়ে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে চাই না। কারণ আমরা আশা করি সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। তারা সমঝোতার রাস্তায় আসবেন। কর্মসূচি সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, বৃহস্পতিবার জেলা সদরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। আর শনিবার ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানায় প্রতিবাদ সভা বা প্রতিবাদ মিছিল করা হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, কক্সবাজার যাওয়ার পথে শনিবার ও ফেরার পথে মঙ্গলবার ফেনীতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর হামলার শিকার হয়। এ থেকে বোঝা যায়, এটা অত্যন্ত পরিকল্পিত হামলা। এর সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ জড়িত। তিনি বলেন, আমরা মনে করি এটা মানবতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারকে ফিরিয়ে আনার সংগ্রামের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে বিএনপি সাধ্য অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার যথেষ্ট দায়িত্ব পালন করেনি। অভিযোগ করে তিনি বলেন, উখিয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রায় ৫০টি ট্রাকের ত্রাণবহরের একটি ট্রাকের ত্রাণ খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে দেয়ার কথা ছিল। ওখানকার নিয়ম অনুযায়ী বাকিগুলো দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের হাতে হস্তান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু ওইদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেনা সদস্যরা আজ (সোমবার) কাজ করতে পারবেন না। আমরা মনে করি, এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে সরকার। সেনা সদস্যদের একদিনের জন্য তুলে নেয়া হয়। দলের ত্রাণ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৯টি ট্রাক রেখে বাকি ট্রাকগুলো সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের তত্ত্বাবধানে ত্রাণ দেয়ার প্রথমদিকে রোহিঙ্গাদের আসতে বাধা দেয়া হয় বলেও মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এখান থেকে সরকারের চেহারা আমরা বুঝতে পারি।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here