কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২

0
71

বছর না পেরোতেই ফের আধিপত্য বিস্তার ও সামাজিক বিরোধ নিয়ে কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়ায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন বিল্লাল হোসেন (৩২) ও এনামুল হক (৩৮)।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। গতকাল দুপুরে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের বাখইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় এক আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনের পর থেকেই ঝাউদিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বখতিয়ার হোসেন এবং বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক কেরামত আলীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। প্রায়ই এ নিয়ে ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়ে আসছিল। সর্বশেষ বুধবার রাতে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের আস্থানগর গ্রামে বখতিয়ার হোসেনের চার-পাঁচ জন সমর্থকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন কেরামত সমর্থকরা। এ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। পরে গতকাল সকালে বখতিয়ারের লোকজন কেরামতের কয়েকজন সমর্থককে মারধর করেন। এদিকে গতকাল দুপুরে কেরামত সমর্থক বিল্লাল হোসেনের বাড়ি-সংলগ্ন ডোবায় পাট ধৌত করছিলেন বখতিয়ার হোসেনের শ্যালক এনামুল হক। এ সময় কেরামত সমর্থকরা তার ওপর অতর্কিতে হামলা করেন। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন এনামুলকে। এ খবর বখতিয়ার সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা জোটবদ্ধ হয়ে বিল্লালের বাড়িতে আক্রমণ করেন। ধারালো অস্ত্র ও ফলা দিয়ে প্রকাশ্যে তাকে আঘাত করা হয়। বাড়ির উঠানেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন বিল্লাল। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এদিকে আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিকাল ৪টার দিকে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়েছে। নিহত দুজনের লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নতুন করে যাতে ভাঙচুর ও লুটপাট না হয় সেজন্য টহল জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা কেরামত আলীসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশ তত্পর রয়েছে। এর আগে গত বছর বখতিয়ার ও কেরামত অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here