ছয় সিটি নির্বাচন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ

0
62

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে দলের ভেতরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে দ্রুত মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীদের সবুজসংকেত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আগামী ডিসেম্বরের শেষের দিকে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। সেইসঙ্গে আগামী বছরের মার্চ কিংবা এপ্রিল থেকে দুই দফায় রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চিন্তাভাবনা হচ্ছে।

ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে নেতারা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনাও করেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী

ওবায়দুল কাদের এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনগুলোতে দ্রুত দলের সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরুর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

আগামী ১ নভেম্বর রাজশাহী, ৮ নভেম্বর রংপুর, ১১ নভেম্বর গাজীপুর ও ২৫ নভেম্বর খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় দলের সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্ট চার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ওবায়দুল কাদের সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করবেন।

নেতারা বলেছেন, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় দলের সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধনের পর থেকে দলে গতি এসেছে।

সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে নেতারা আলোচিত ছয় সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের দলীয় অবস্থানও বিশ্নেষণ করেছেন। তারা এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছয় সিটি করপোরেশনে নতুন করে দলকে গুছিয়ে নেওয়ার ওপরও তাগিদ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সংশ্নিষ্ট সিটি করপোরেশন এলাকার এমপিদের দলের সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানে অংশ নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তৈরি করতে হবে। এতে দ্বন্দ্ব-বিবাদ মিটে যাবে। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হবে।

এ ক্ষেত্রে ছয়টি সিটি করপোরেশনে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ছয় সাংগঠনিক সম্পাদক। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ সিলেটে, ডা. দীপু মনি গাজীপুরে, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক রাজশাহী ও রংপুরে, আবদুর রহমান বরিশাল ও খুলনা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে থাকবেন।

সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে আহমদ হোসেন সিলেটে, বি এম মোজাম্মেল হক রংপুরে, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বরিশালে, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন খুলনায়, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী রাজশাহীতে ও ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন।

সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে ছয় সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রসঙ্গ নিয়েও অল্পবিস্তর আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। প্রার্থীদের সবুজসংকেত দেবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে সবুজসংকেত দিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিধান অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা থেকে করপোরেশনের মেয়াদ গণনা শুরু হয়। পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগের ছয় মাসের মধ্যে যে কোনো দিন ভোট গ্রহণ করা যায়। এই হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৮ মার্চ থেকে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গাজীপুর, ১৩ মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিলেট, ৩০ মার্চ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুলনা, ৯ এপ্রিল থেকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে রাজশাহী, ২৭ এপ্রিল থেকে ২৩ অক্টোবরের মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা। ডিসেম্বরের শেষের দিকে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার প্রস্তুতি রয়েছে।

হত্যা মামলার আসামি ও কমিটি বিক্রির বাণিজ্য

সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার এওচিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা মোহাম্মদ আলমগীর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কলিমুল্লাহকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়েছে, দলের সহযোগী এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোতে কমিটি বিক্রির বাণিজ্য বন্ধ হয়নি। তা ছাড়া অন্য দল থেকে যোগ দেওয়া ব্যক্তিরাই বড় পদ পাচ্ছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here