দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যে > এ মাসেও ফিরছেন না খালেদা জিয়া

0
44

দুই মাস ধরে যুক্তরাজ্যে আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেও তাঁর দেশে ফেরা নিশ্চিত নয়। তাঁর এই দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান কেবল চিকিৎসার কাজে, নাকি রাজনৈতিক বিষয়-আশয়ও আছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা আছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে খালেদা জিয়া চোখের ও পায়ের চিকিৎসা করাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি দলের পরবর্তী নেতা ও ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে পরামর্শ করছেন। এর মধ্যে দলের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া যেসব নেতার ওপর আস্থা রাখতে চান, তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে তারেক রহমানের কিছুটা আপত্তি আছে। এ নিয়ে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করার একটা চেষ্টা আছে বলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়।

খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে-পরে দলের ভেতরে-বাইরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কৌশল কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা ছিল। বিষয়টি এই সফরে চূড়ান্ত হবে বলে মনে করছেন দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা। দলের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এর মধ্যে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ স্থায়ী কমিটির তিনটি শূন্যপদ পূরণ, প্রতিবেশী দেশসহ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার, দলের কূটনৈতিক শাখার নেতৃত্বের দায়িত্ব নির্ধারণ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা, এ বিষয়ে জনমত গড়তে আন্দোলনসহ সাংগঠনিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি পথনকশা (রোডম্যাপ) তৈরি করছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আগামী অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। তার আগেই খালেদা জিয়া দেশে ফিরবেন। সুষমা স্বরাজের সঙ্গে তাঁর একান্ত বৈঠক হতে পারে। এর আগে সুষমা স্বরাজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশ সফরে এলে খালেদা জিয়া সোনারগাঁও হোটেলে গিয়ে দেখা করেন। এবার খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসায় বৈঠক হতে পারে।

গত ১৫ জুলাই খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্যে যান। তিনি কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন, ঢাকায় দলের নেতারা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। এ বিষয়ে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী ও তাঁর একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার প্রথম আলোকে বলেন, চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে চিকিৎসকের সঙ্গে পরবর্তী সাক্ষাতের তারিখ আছে। চিকিৎসা শেষ হলেই খালেদা জিয়া দেশে ফিরবেন।

এর আগে খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কয়েক দিন পর থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা নানা কথা বলছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়া লন্ডনে ষড়যন্ত্র করতে গেছেন। খালেদা জিয়া আর দেশে ফিরবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন। অবশ্য বিএনপির নেতারা সরকারি দলের এজাতীয় বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে ঘুরে আসা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের যুক্তরাজ্য সফর একান্তই ব্যক্তিগত এবং তাঁর শারীরিক অসুস্থতাজনিত। এর বাইরে আর কিছু নেই। সরকার তো সবকিছুতেই ষড়যন্ত্র খোঁজে, ষড়যন্ত্র দেখে। যারা তাঁর এই সফর নিয়ে ষড়যন্ত্র দেখছে, গুঞ্জন ছড়াচ্ছে, তারাই এর জবাব দিতে পারবে।

এদিকে দলীয় প্রধানের অনুপস্থিতিতে দেশে দিবসভিত্তিক কর্মসূচি ও চলমান ইস্যু নিয়ে বক্তৃতা-বিতর্কে সময় পার করছেন বিএনপির নেতারা। একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, দলীয় প্রধানের অনুপস্থিতিতে জেলা কমিটি পুনর্গঠনের কাজ থমকে আছে। মাঠপর্যায়ে সমর্থক বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে দেশব্যাপী শুরু করা দলের প্রাথমিক সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম আশানুরূপ হয়নি। দুই দফায় সময় বাড়িয়ে এ কর্মসূচি ১ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক জায়গায় সদস্য সংগ্রহ অভিযানে সরকার বাধাও দিয়েছে।

খালেদা জিয়ার যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে ১৫ আগস্ট নিজের ৭২তম জন্মদিন, ১ সেপ্টেম্বর দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ২ সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদুল আজহা গেছে। কিন্তু তিনি সেখানে ব্যক্তিগত, দলীয় ও সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানেই অংশ নেননি। দেশে দলীয় প্রধানের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করে বিএনপি এবং এর কয়েকটি অঙ্গসংগঠন দোয়া মাহফিল করেছে।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বিএনপির নেতারা কিছুদিন বক্তৃতা–বিবৃতিতে সরব ছিলেন। এখন রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলছেন। সেখানে ত্রাণ দিতে গিয়ে পরপর দুদিন বাধার মুখে পড়লেও বিএনপির নেতারা এখন নানাভাবে ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য সব দেশের রাষ্ট্রদূত, ইসলামি সম্মেলন সংস্থাভুক্ত (ওআইসি) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশে নিযুক্ত সব দেশের কূটনীতিকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমারের বর্বরোচিত গণহত্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল করে এর বিচার দাবি এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরাতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকদের অন্যতম নওশাদ জমির চিঠি দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি এ নিয়ে আর কিছু বলতে রাজি হননি।

চেয়ারপারসনের অবর্তমানে দলীয় কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আগে যা ছিল, এখনো তাই আছে। চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে যখন যে বিষয়ে প্রয়োজন, মহাসচিব কথা বলছেন। এ ছাড়া আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। দলীয় কার্যক্রম ভালোভাবেই চলছে।’

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here