বঙ্গবন্ধুর খুনিরা যে গর্তেই থাকুক তাদের সাজা হবেই-আইনমন্ত্রী

0
56

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিরা যে গর্তেই পালিয়ে থাকুক না কেন তাদের খুঁজে বের করে এনে সাজা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিদেশে পালিয়ে থাকা খুনিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। শনিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পথচলা ও প্রতিবন্ধকতাসংক্রান্ত এক সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে এ কথা বলেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহযোগিতায় এ সেমিনার আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কাল রাতে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর দীর্ঘ একুশ বছরেও কোনো সরকারই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য মামলা করেনি। বরং ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিচারের পথ বন্ধ করে রেখেছিল। শুধু তাই নয়, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। খুনিদের বিদেশি মিশনে চাকরি দিয়েছেন। খুনের আলামত নষ্ট করেছেন। এর ফলে খুনিরা বিদেশে শক্তভাবে শিকড় বেঁধেছে এবং তাদের ফিরিয়ে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, খুনি নূর চৌধুরী বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। তিনি কানাডায় অবস্থানের জন্য সেখানকার আদালতে আবেদন করে হেরে গেছেন, এখন শুধু একটি গ্রাউন্ডে নূর চৌধুরী কানাডায় অবস্থান করছেন। সেটি হল- তিনি কানাডায় আবেদন করেছেন, বাংলাদেশ ফেরত পাঠালে তাকে ফাঁসি দেয়া হবে। কানাডায় মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ তাই কানাডা বাংলাদেশকে বলেছে, তাকে ফেরত দিলে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে না।
মন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, এই শর্ত কি মানা সম্ভব? তাকে তো আমাদের উচ্চ আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তার পরও সরকার তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আনিসুল হক বলেন, কেএম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। তাকে ফেরত আনার জন্য আদালতে রিভিউ করা হয়েছে এবং আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার বন্ধ করতে যারা আইন প্রণয়ন করেছিল বাংলাদেশের জনগণ তাদের শাস্তি দেবে বলে আমার বিশ্বাস। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল আদালতে সবকিছুর বিচার হয় না। কিছু কিছু বিচার সমাজেও করতে হয়। কারণ সমাজেরও কিছু দায়িত্ব আছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার রহস্য উন্মোচনে আরও গবেষণা ও আলোচনা হওয়া উচিত।
এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কাল রাতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করতে অনেকেই তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা কেন ব্যর্থ হয়েছেন- এ প্রশ্নের জবাব তাদেরই দিতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত খুনি যাদের সাজা কার্যকর করা হয়েছে, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের জন্য আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।
যারা পলাতক রয়েছে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের জন্য আদালতের আদেশ রয়েছে এবং সে আদেশ অনুযায়ী কয়েকজনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, জিয়া পরিবার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার বিচার চায় না, তার কারণ তারা আইনের শাসনে বিশ্বাসী নয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্তে এসেছে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কিন্তু তিনি মামলা দায়েরের আগেই মারা যাওয়ায় তাকে আসামি করা হয়নি।
মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সংসদ সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন এবং দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here