ব্যবস্থাপক ও শ্রমিক কমিটির সভাপতির অপসারণ দাবি

0
58

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা-বাগানের শ্রমিকেরা ব্যবস্থাপক ও শ্রমিক কমিটির সভাপতির অপসারণসহ ১৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। গতকাল শুক্রবার কাজ বর্জন করে চা-বাগান এলাকায় এসব কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া চা-শ্রমিকেরা অভিযোগ করেন, বাগানের ব্যবস্থাপক ফখরুল ইসলাম ফরিদী নিয়ম অনুসারে বেতন-ভাতা না দিয়ে প্রতিনিয়ত শ্রমিকদের ঠকাচ্ছেন। এ ছাড়া ব্যবস্থাপক ও চা-বাগান শ্রমিক কমিটির সভাপতি শ্রাবণ সাঁওতাল শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ নিয়ে শ্রমিকেরা তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থাপক ও বাগান শ্রমিক কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, বাগান শ্রমিক কমিটির সভাপতির বদলে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চা-বাগান পরিচালনা, শ্রমিকদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা ও কারখানায় শিশুশ্রম বন্ধসহ ১৫ দফা দাবিতে গতকাল সকালে চা-বাগান এলাকায় মানবন্ধন করেন শ্রমিকেরা। এ সময় আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ও চা-শ্রমিক নেতা বাবুল র‍্যালি। এতে বক্তব্য দেন চা-বাগানের শ্রমিক দুলাল ঘোষ, স্বপন দেব, রাখাল সাঁওতাল, মাধব কুন্ড প্রমুখ।

চা-শ্রমিকনেতা বাবুল র‍্যালি বলেন, চা-বাগানের ব্যবস্থাপক এবং শ্রমিক কমিটির সভাপতি মিলে নানা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। তাঁদের দিয়ে কোনো শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা হবে না। এ কারণে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।

টাকা আত্মসাৎসহ অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করে চা-বাগান শ্রমিক কমিটির সভাপতি শ্রাবণ সাঁওতাল বলেন, এখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি। শ্রমিকেরা যে আন্দোলন করছেন তাতে বাইরের ইন্ধন আছে।

এ বিষয়ে চা-বাগানের ব্যবস্থাপক ফখরুল ইসলাম বলেন, চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকদের সব সুযোগ-সুবিধা ও মজুরি দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকেরা অযৌক্তিক দাবি তুলে কাজে যোগদান না করে বাগানের ক্ষতি করছেন। তাঁদের কারণে বাগান বন্ধ থাকায় ২০ হাজার কেজি কাঁচা চা-পাতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here