মিয়ানমার বাধ্য হতো রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে : মোশাররফ

0
64

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার কূটনৈতিকভাবে এতিম হয়ে পড়েছে। এই সরকার জনগণের হলে মিয়ানমার বাধ্য হতো রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে।

শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এই কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আপনাদের মনে আছে, যখন চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আকাশচুম্বি। প্রধানমন্ত্রী এরপর ভারত সফর করে ফিরে এসে কিছু না পেয়েও বললেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক হিমালয়ের মতো উচ্চতর। আজকে যখন রোহিঙ্গা সমস্যা হল, তখন বাংলাদেশের পক্ষে চীনও নেই, বাংলাদেশের পক্ষে ভারতও নেই।

তিনি বলেন, দেশে জনগণের সরকার ক্ষমতায় থাকলে কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড এমনভাবে করতো, যাতে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য ক্ষমতাসীন সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তাদের সঙ্গে জনগণও নেই, বিশ্বও নেই।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যদি সঠিকভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতো তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষে এত বড় গণহত্যা চালানো সম্ভব হতো না। সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণেই এত বড় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যদি সরকার সঠিক সময়ে সঠিকভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতো, তাহলে এই সঙ্কটে পরতে হতো না এবং সঙ্কট এত তীব্র হতো না।

বি এনপির এই নেতা বলেন, সিকিউরিটি কাউন্সিলের (নিরাপত্তা পরিষদ) যে রেজ্যুলেশন (প্রস্তাব), জাতিসংঘকে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘকে কীভাবে করতে হবে ? সেটা হলো মিয়ানমারকে বয়কটের রেজ্যুলেশন, সহযোগিতা বন্ধ করে দিতে হবে, তাদের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে হবে। সেইফ জোনে বিশ্বাস করি না, পুর্নবাসন করতে হবে। তবেই রোহিঙ্গাদের নিতে তারা বাধ্য হবে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ ও সংসদ আজকে মুখোমুখি অবস্থানে নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের তিনটি যে স্তম্ভ, তা আজ মুখোমুখি অবস্থানে, জনগণের সরকার থাকলে আজ এ অবস্থা হতো না। এজন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আগামী নির্বাচন নিয়ে মোশাররফ বলেন, নির্বাচন যদি সঠিকভাবে হতো, অবাধ এবং সকলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমাদের করতে হবে, এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজকে যদি হান্নান শাহ থাকতেন। তাঁর বড় অভাব এবং তিনি থাকলে একটা তৎপরতা চালাতেন এবং বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতেন।

হান্নান শাহকে স্মরণ করে তিনি বলেন, আজকে হান্নান শাহর মতো সাহসী নেতারা থাকলে একটা তৎপরতা চালাতো এবং বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতো। জনগণের সরকারই পারবে কূটনৈতিক তৎপরতা ভালোভাবে চালাতে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এম এ লতিফ, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, মিজানুর রহমান, যুবদলের সাইফুল ইসলাম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের আকরামুল হাসান, গাজীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল, প্রয়াত হান্নান শাহর ছোট ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here