‘পরপর বিয়ে করছি, কিন্তু হানিমুন হচ্ছে না’

0
166

চরম ব্যস্ততার মধ্যে কাটছে বলিউড তারকা কৃতি খরবান্দার। ‘শাদি মে জরুর আনা’র শুটিংয়ের পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে না ফেলতেই ছবির প্রচারণার কাজে ব্যস্ত এখন তিনি। রত্না সিনহা পরিচালিত এই ছবিতে বলিউড তারকা রাজকুমার রাওয়ের সঙ্গে কৃতিকে রোমান্স করতে দেখা যাবে। ছবির প্রচারণার কাজ শেষ হতে না হতেই ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’ ছবির শুটিং নিয়ে আবার ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। ‘শাদি মে জরুর আনা’র প্রচারণার সময় হাসিখুশি-প্রাণবন্ত কৃতি খরবান্দার মুখোমুখি প্রথম আলো। আগামী ১০ নভেম্বর মুক্তি পেতে চলেছে ‘শাদি মে জরুর আনা’ ছবিটি।

দীপাবলি কেমন কাটালেন?
জানেন, আট বছর ছুটি কাটাতে কোথাও যাইনি। এমনকি নিজের পরিবারের সঙ্গেও সময় কাটাতে পারিনি। এবার ভেবেছিলাম টানা ছয় দিন পরিবারের সঙ্গে দীপাবলি বেঙ্গালুরুতে কাটাব। কিন্তু মাত্র এক দিনের জন্য বেঙ্গালুরু গেছি। এ বছর পাঁচটা ছবিতে বিয়ে করেছি। পরপর বিয়ে করছি, কিন্তু হানিমুন হচ্ছে না। ভাবছি, এবার একাই হানিমুন করতে বেরিয়ে পড়ব। প্যারিস, আমস্টারডামে যাওয়ার কথা ছিল, সেটাও বাতিল করতে হলো।

মনে হচ্ছে, আপনার ওজন একটু বেড়েছে।
‘শাদি মে জরুর আনা’ ছবিতে আমি ছোট একটি শহরের মিষ্টি মেয়ে। যে কোনো দিন জিমের মুখ দেখেনি। তাই তার জিমে যাওয়া নায়িকাসুলভ ফিগার হলে চলবে না। মুখ ভরাট হতে হবে। শরীরে মাংস থাকতে হবে। তাকে যেন কোনোভাবেই শহুরে মেয়ে বলে মনে না হয়। তাই চরিত্রের প্রয়োজনে একটু ওজন বাড়াতে হয়েছে।

‘শাদি মে জরুর আনা’ ছবিতে রাজকুমার রাওয়ের সঙ্গে কৃতি খরবান্দা। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
তার জন্য আলাদা কোনো ডায়েট ফলো করতে হয়েছে?
হ্যাঁ, কিটো ডায়েট ফলো করেছি। শুটিং চলার সময় লক্ষ্ণৌতে আমি প্রচুর বিরিয়ানি এবং পাঁঠার মাংসের কাবাব খেতাম। আর পাঁঠার মাংস শরীরের ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। এই ছবির জন্য আমি প্রাণভরে শুধু খেয়েছি। এ ছাড়া রোজ ৪ টেবিল চামচ ঘি, ৪ টেবিল চামচ মাখন আর ৪ টেবিল চামচ তাজা নারকেল তেল খেয়েছি। কিটো ডায়েটে ভালো ফ্যাটকে এনার্জিতে পরিণত করে।

শহরের আধুনিক মেয়ের চরিত্রে আপনাকে বেশি দেখা গেছে। এবার কাজ করেছেন ছোট শহরের মেয়ের ভূমিকায়। এর জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিয়েছেন?
শুটিং শুরু হওয়ার আগে টানা দুই মাস শুধু চিত্রনাট্য পড়েছি। কোনো চরিত্রের ভেতর ঢুকতে আমার একটু সময় লাগে। এবারই প্রথম কোনো ছবির জন্য টানা ওয়ার্কশপ করেছি। ওয়ার্কশপে আমি আর রাজকুমার বসে চিত্রনাট্য পড়তাম। এই ওয়ার্কশপের ফলে আমি ‘আরতি’ আর রাজকুমার ‘সত্তু’ হয়ে উঠেছি। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া আরও ভালো হয়েছে। পর্দায় আমার আর রাজকুমারের রসায়ন আরও জমে উঠেছে। এতবার এই চিত্রনাট্য পড়েছি যে আমার সব সংলাপ মুখস্থ।

তা কীভাবে সম্ভব হলো?
আমার ফোটোজনিক মেমোরি। আজ পর্যন্ত দক্ষিণি এবং হিন্দি মিলিয়ে যত ছবি করেছি, সব ছবির সংলাপ আমার এখনো মনে আছে। আমি পাঞ্জাবের মেয়ে, বড় হয়েছি দক্ষিণে, তাই আমার হিন্দি বলার মধ্যে তার প্রভাব থাকত। রত্না ম্যাম আমাকে শিখিয়েছেন, কীভাবে উত্তর প্রদেশের ছোট শহরের একটি মেয়ে হিন্দি বলবে। আমাকে ‘শাদি মে জরুর আনা’ ছবিতে খুব মিষ্টি এবং নরম করে সংলাপ বলতে হয়েছে। ছবির আরতির সঙ্গে বাস্তবে আমার কোনো মিল নেই।

রাজকুমার রাওয়ের মতো তারকার সঙ্গে কাজ করেছেন। কেমন অভিজ্ঞতা হলো?
দারুণ! আমরা মজা করে কাজ করেছি। কিছু দৃশ্য রাজকুমার পরিচালক রত্না ম্যামের সঙ্গে পরামর্শ করে আমাকে না জানিয়ে ক্যামেরার সামনে করেছেন। ফলে দৃশ্যটা আরও বাস্তব মনে হয়েছে। একবার নিজের মুখ থেকে আমার মুখের ওপর জল ছিটায়। এ রকম কিছু হবে, আমি জানতাম না। কিন্তু পরে দেখি দৃশ্যটা খুব ভালো হয়েছে। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া এতটাই ভালো হয়েছিল যে একে অপরকে কিছু বলতে হতো না। আমরা একজন আরেকজনের মনের ভাষা পড়তে পারতাম। সিনেমাটা দেখলেই বুঝতে পারবেন আমি সত্যিকারের ‘আরতি’ এবং রাজকুমার ‘সত্তু’।

আপনার কাছে বিয়ের অর্থ কী?
আমি আগে বিয়েতে বিশ্বাসী ছিলাম। কিন্তু এখন বিয়েতে বিশ্বাসী নই। আমার কাছে বিয়ে সামাজিক স্বীকৃতি ছাড়া কিছু নয়। তার মানে এই নয় যে এই প্রথাকে আমি উড়িয়ে দিচ্ছি। ‘শাদি মে জরুর আনা’ ছবিতে বলা হয়েছে, বিয়ে করা সহজ; কিন্তু বিয়েকে বজায় রাখা সবচেয়ে কঠিন কাজ। আমি মনে করি, ব্রেকআপ আর ডিভোর্স দুটো একই জিনিস। এই দুটো ক্ষেত্রেই মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। বিয়ের ক্ষেত্রে কাগজপত্রের ব্যাপার থাকে। আর ব্রেকআপের ক্ষেত্রে তা থাকে না। আমি একসঙ্গে থাকায় বিশ্বাস করি। একে অপরের পাশে দাঁড়ানোয় বিশ্বাস করি। পরস্পরের প্রতি আবেগতাড়িত সম্পর্কে আস্থা রাখি।

‘শাদি মে জরুর আনা’ ছবির প্রচারণায় কৃতি খরবান্দা ও রাজকুমার রাও। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

ফিল্মি দুনিয়ার বাইরে থেকে আপনি এসেছেন। বলিউডে নিজের জন্য জায়গা করে নিতে কতটা লড়াই করতে হয়েছে?
আমি তো মজা করতে করতে নায়িকা হয়ে গেছি। এখন বুঝি অভিনয়কে কতটা ভালোবাসি। আমি মনে করি, আমাকে সে রকম কোনো লড়াই করতে হয়নি। যেহেতু আমি কোনো তারকার সন্তান নই, তাই আমার কোনো চাপ ছিল না। যা পেয়েছি বা পাচ্ছি, তা আমার কাছে অনেক। তারকার সন্তানদের ওপর অনেক বেশি চাপ থাকে। তাঁদের কাছ থেকে সবার প্রত্যাশা বেশি থাকে। আর তারকার সন্তানদের সিনেমা না চললে তাঁদের অনেক বেশি প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। এই সিনেমার জগতে আমি কিছু নিয়ে আসিনি, তাই আমার হারানোর ভয়ও ছিল না।

এবার ব্যক্তিগত প্রশ্ন করছি। বলিউডে জোর গুঞ্জন, আপনার সঙ্গে নাকি পুলকিত সম্রাটের সম্পর্কে গড়ে উঠেছে?
হে ভগবান! তাই নাকি! অবশ্য রাজকুমারও একই কথা বলছিল। জানি না কোথা থেকে রটে এসব। তবে একদিক থেকে ভালোই হয়েছে, এভাবে আমি খবরে আছি। আসলে পুলকিতের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের সম্পর্কও নেই। একটা ছবির শুটিংসূত্রে আমি আর পুলকিত ২০ দিন কাজ করেছি। তখন ওর সঙ্গে সেভাবে আলাপ হয়নি। কারণ, খুব ব্যস্ততার মধ্যে আমরা কাজ করেছি। এরপর পুলকিতের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়নি। আমি খুব খোলা মনের মেয়ে। আমার অত রাখঢাক নেই। যদি কিছু সম্পর্ক থাকত, আমি বলে দিতাম।

এরপর আপনাকে কোন ছবিতে দেখা যাবে?
‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’ ছবির শুটিং শুরু হবে এবার। ‘ভিড় কি ওয়েডিং’ ছবি করছি। এই ছবিতে জিমি শেরগিল ও পুলকিত সম্রাট আছেন। এ ছাড়া দক্ষিণের দুটি ছবিতে কাজ করব।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here