আবর্জনার শতাধিক ভাগাড় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে

0
5

বুড়িগঙ্গার তীরের উভয় পাড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শতাধিক স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে নদী ভরাট ও দূষণ হচ্ছে। এ ছাড়া ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে এলাকাবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
৬ আগস্ট বুড়িগঙ্গার তীর ঘুরে দেখা যায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর কালিগঞ্জ এলাকা থেকে খোলামোড়া এলাকা পর্যন্ত বুড়িগঙ্গার ১৫ কিলোমিটার তীরের শতাধিক স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তৈলঘাট, চর কালিগঞ্জ, পূর্ব আগানগর, জিনজিরা টিনপট্টি, লছমনগঞ্জ, খেয়াঘাট, শমসের উল্লাহ ঘাট, রসুলপুর, মান্দাইল, কালিন্দি, বড়িশুড়, খাগাইল ও খোলামোড়া; কামরাঙ্গীরচর থানার মুসলিমবাগ, হুজুরপাড়া, আশ্রাফাবাদ, কামরাঙ্গীরচর খেয়াঘাট; লালবাগ থানার ইসলামবাগ, কামালবাগ, সোয়ারীঘাট, পানঘাট, মিটফোর্ড ও বাদামতলী এলাকায় আবর্জনার স্তূপ তৈরি হয়েছে।
চর কালিগঞ্জ এলাকার পোশাক ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের এলাকার গার্মেন্টস বর্জ্য ফেলার সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। এ কারণে অনেকে রাতের আঁধারে নদীর পাড়ে গার্মেন্টসের বর্জ্য নদীর তীরে ফেলে যায়। এতে নদীর তীর ভরাট হয়ে যাচ্ছে।’
জিনজিরার টিনপট্টি এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন মৃধা বলেন, নদীর তীরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে এখানে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। বাঁশের বেড়ার ওপর দিয়ে নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।
কামরাঙ্গীরচর থানার হুজুরপাড় এলাকার বাসিন্দা আরজু মিয়া বলেন, নদীর তীরে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে দুর্গন্ধে টেকা যায় না। তাঁরা বাধা দিয়েও নদীতে আবর্জনা ফেলা রোধ করতে পারছেন না। এসব রোধে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নজরদারি দরকার।
কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম বলেন, নদীর তীরে যাতে ময়লা-আবর্জনা ও পোশাক কারখানার টুকরা কাপড় না ফেলা হয়, সে জন্য সমিতির পক্ষ থেকে ভ্যান ও ট্রাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সমিতির নির্দেশ উপেক্ষা করে যারা রাতের আঁধারে নদীতে ময়লা ফেলে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহে এলিদ মাইনুল আমিন বলেন, নদীতে ও এর আশপাশে যাতে কেউ ময়লা-আবর্জনা না ফেলে, সে জন্য এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কেরানীগঞ্জে শিগগিরই ময়লা-আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এরপর কেরানীগঞ্জে আর ময়লার সমস্যা থাকবে না।
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মো. গোলজার আলী বলেন, নদীতে আবর্জনা ফেলা নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আবর্জনা ফেলা বন্ধে মানুষকে সচেতন করতে নদীর তীরে সাইনবোর্ড লাগানো হবে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here