খানাখন্দে ভরা সড়কে কষ্ট

0
10

গাজীপুরের মাস্টারবাড়ি-ভাওয়াল মির্জাপুর সড়কটি খানাখন্দে ভরে আছে। সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় হেঁটেও চলাচল করা যাচ্ছে না।
এলাকাবাসী জানান, মাস্টারবাড়ি এলাকা থেকে ভাওয়াল মির্জাপুর পর্যন্ত ওই সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ কিলোমিটার। সড়কটির অধিকাংশ স্থানই খানাখন্দ ও গর্তে ভরে আছে। গত কয়েক দিনের বর্ষণে সড়কজুড়ে পানি জমে গেছে। এর মধ্যে যানবাহন চলাচল করায় সড়কটির অবস্থা একেবারে বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কটির আশপাশে প্রায় অর্ধশত গ্রাম আছে। রয়েছে অনেক শিল্পকারখানা। এসব শিল্পকারখানার হাজার হাজার শ্রমিককে কাদাপানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়।
কারখানাশ্রমিক খায়রুল ইসলাম বলেন, দুই মাসের বেশি সময় ধরে মাস্টারবাড়ি-ভাওয়াল মির্জাপুর সড়কটি বেহাল। সড়কটি দিয়ে গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটেও চলাচল করা মুশকিল। একই ধরনের কথা বলেন কারখানাশ্রমিক সুমি আক্তার, নাছির উদ্দিন ও সোলায়মান হোসেন।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। এ ছাড়া সড়কটি দিয়ে মাস্টারবাড়ি থেকে কালিয়াকৈর উপজেলায়ও চলাচল করা যায়। এ জন্য সড়কটির গুরুত্ব অনেক বেশি। দ্রুত মেরামত করা না হলে সড়কটি একেবারে বন্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাজীপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধিকাংশ সড়কই এখন ভাঙাচোরা, খানাখন্দে ভরা। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সড়ক ব্যবহারকারী লাখো মানুষ। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান থাকায় ওই সড়কের যাত্রীরা সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর সড়কটি ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু প্রায় এক মাস ধরে ভাওয়াল মির্জাপুর বাজারসংলগ্ন রাস্তাটি গর্ত ও কাদায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এটি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ওই সড়কে প্রায়ই বাস-ট্রাক আটকে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে আরও বিড়ম্বনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের মাস্টারবাড়ি এলাকা থেকে পশ্চিম দিকে রাস্তা দিয়ে কিছু দূর গেলেই দেখা যাবে এটি কাদায় সয়লাব হয়ে আছে। সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। বেশির ভাগ গর্তই এত বড় যে, সেখান দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ঝুঁকি নিয়ে কিছু যানবাহনকে চলতে দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি জমে আছে। সেসব স্থান দিয়ে মানুষ হেঁটেও চলাচল করতে পারছে না।
ভাওয়াল মির্জাপুর বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বেশির ভাগ সময় যানজট লেগে থাকে। এ কারণে ওই পথে চলাচলকারী ছোট-বড় যানবাহনগুলোর চালকেরা এই সড়কটিকে বাইপাস হিসেবে ব্যবহার করেন। তাই প্রতিদিন শত শত যানবাহন সড়কটিতে চলাচল করে।
ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে এ বিষয়ে বারবার জানালেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। সড়কটি সচল রাখতে তাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন।
গাজীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম খান বলেন, গাজীপুরের মোট ১১৯ কিলোমিটার সড়কের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্রের কাজ শেষ হলেই রাস্তার কাজ শুরু করা হবে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here