গণশৌচাগার নিয়ে জরিপ | নিরাপদ বোধ করেন না নারীরা

0
5

নানা কারণে রাজধানীর নারীদের ৯৪ শতাংশই গণশৌচাগার ব্যবহার করেন না। তাঁদের মধ্যে ৯৬ শতাংশ নারী গণশৌচাগারে যান না নিরাপদ বোধ না করার কারণে। প্রায় একই সংখ্যক নারী বলছেন, রাজধানীতে গণশৌচাগার পর্যাপ্ত নয়।
‘নারী সংবেদনশীল নগর-পরিকল্পনা’ শীর্ষক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ২০১৬ সালে এই জরিপ চালায়।
গত বছরের এপ্রিল ও মে মাসে চালানো এই জরিপে রাজধানীর বিভিন্ন বয়সী ও শ্রেণি-পেশার ২০০ জন নারী অংশ নেন। চলতি বছরের মে মাসে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা গণশৌচাগার ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এর মূল কারণ নিরাপদ বোধ না করা। এ ছাড়া, অপরিচ্ছন্নতা ও পর্যাপ্ত গণশৌচাগার না থাকাও বড় কারণ। বেশ কয়েকজন নারী বলেছেন, গণশৌচাগার ব্যবহার তাঁদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হয়।
সানজিদা রহমান একটি প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে কাজ করেন। পেশাগত কাজে প্রতিদিন তাঁকে অনেকটা সময় ঘরের বাইরে থাকতে হয়। খুব প্রয়োজন না হলে তিনি গণশৌচাগারে যান না। তিনি বলেন, ‘ভয় করে। যদি অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটে। তা ছাড়া, টয়লেটগুলোর অবস্থাও ভালো নয়।’
সম্প্রতি কথা হয় ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী প্রিয়া সরকারের সঙ্গে। তিনি কেনাকাটা করতে এসেছিলেন মিরপুরের একটি বিপণিবিতানে। তিনি জানান, বাসার বাইরে পানি কম খান। শুধু প্রিয়া নন, অনেক নারীই জানান, যাতে শৌচাগারে যেত না হয়, সে জন্য তাঁরা বাইরে কম পানি পান করেন। দরকার হলেও গণশৌচাগারে যান না। এ বিষয়ে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক এম খলিলুর রহমান বলেন, এসব কারণে নারীদের ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার হার পুরুষের তুলনায় বেশি।
রাজধানীর বেশির ভাগ গণশৌচাগারই নারীদের ব্যবহারের উপযোগী নয়। তবে সম্প্রতি ওয়াটারএইডের সহযোগিতায় দুই সিটি করপোরেশনে ২০টি আধুনিক গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলোতে নারী-পুরুষ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য আছে সিসিটিভি। তবু নারীরা সেগুলো তেমন একটা ব্যবহার করছেন না।
ওয়াটারএইডের প্রকল্প পরিচালক এ বি এম মোবাশ্বের হোসেন জানান, জুন ২০১৪-২০১৭ পর্যন্ত এসব গণশৌচাগার ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। তবে তাঁদের মধ্যে নারীদের ব্যবহারের হার তুলনামূলক কম।
১০ আগস্ট বেলা দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড গণশৌচাগারে কোনো নারীকে আসতে দেখা যায়নি। একই সময়ে কমপক্ষে ২০ জন পুরুষ গণশৌচাগার ব্যবহার করেছেন। ওই দিন সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ২৫৬ জন পুরুষ গণশৌচাগার ব্যবহার করেছেন। আর এর বিপরীতে নারী ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ১৩ জন।
এখানকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী রিজিয়া বেগম বলেন, মূলত শৌচাগারসংলগ্ন পার্কে থাকা ছিন্নমূল নারীরা এখানে আসেন। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে দু-একজন শিক্ষার্থীও আসেন। তবে সঙ্গী ছাড়া কোনো নারী আসেন না।
এ বি এম মোবাশ্বের হোসেন বলেন, পূর্বের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক গণশৌচাগার সম্পর্কে না জানায় নারীরা কম আসছেন। তিনি বলেন, আরও কিছু গণশৌচাগার তৈরির পর এ বিষয়ে প্রচারণা বাড়ানো হবে।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের ৫৪ শতাংশ বলেছেন, সুবিধার অভাবে তাঁরা শৌচাগার ব্যবহার করেন না। আর মাত্র ৬ শতাংশ নারী গণশৌচাগার ব্যবহার করেন, তা-ও সঙ্গে পুরুষ থাকার কারণে।
জরিপটিতে নারী সংবেদনশীল নগর-পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গণশৌচাগার নিয়ে কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো—গণশৌচাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি ও যৌক্তিক বণ্টন। বাস, ট্রেন, বাজার এবং শহরের সংযোগস্থলে গণশৌচাগারের ব্যবস্থা করা। শৌচাগার দৃশ্যমান ও প্রবেশযোগ্য করা। নারী ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক বিশেষ ব্যবস্থাসহ পর্যাপ্ত আলো, নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু গণশৌচাগার তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তাঁর মধ্যে কয়েকটির কাজও চলছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ বলেন, নারীদের সেবার উদ্দেশ্যেই মূলত গণশৌচাগারগুলো স্থাপন করা হচ্ছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here