চট্টগ্রাম নগরে জাতীয় শোক দিবস পালন । বাঙালির অধিকার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু আপস করেননি

0
2

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এখনো প্রাসঙ্গিক। মানুষ গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জাতির পিতাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তুলে ধরছেন। তরুণ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ ও সমাজ থেকে দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদ চিরতরে অবসানে ভূমিকা রাখতে হবে। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও রাজনৈতিক দল গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এসব কর্মসূচিতে শোক আর শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করা হয়।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরের প্রেসক্লাবে তৈরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় শিশুরাও। গতকাল সকালে তোলা l প্রথম আলোচট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ: সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, বাঙালি জাতির অধিকার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু কখনো আপস করেননি। এ কারণেই পাকিস্তান আমলে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। আপস করলে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। তিনি ভোগের নয়, ত্যাগের রাজনীতি শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। মেয়র গতকাল জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের মুসলিম ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এই শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মেয়র নাছির উদ্দীন বলেন, শুধু বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করলে চলবে না। তাঁর আদর্শকে জানতে হবে। তিনি কীভাবে রাজনীতি করেছেন, তা জানতে হবে। তাঁর জীবনী পড়তে হবে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা থেমে যায়। তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা আজ দেশকে উন্নয়নের ধারায় নিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগে উন্নতি লাভ করত।

নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহতাবউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, বিচারক যদি কোনো অসদাচরণ করেন তাঁকে কীভাবে অপসারণ করা হবে, সেটা বাহাত্তরের সংবিধানে উল্লেখ ছিল। ১৯৭৭ সালে মার্শাল ল ফরমান (সামরিক আদেশ) দিয়ে পরিবর্তন করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু একজন বিচারক হাইকোর্টে হেফাজতের লিফলেট বিলি করে শপথ ভঙ্গ করেছিলেন। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন সেটাও জাতি জানতে চায়।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভায় বক্তব্য দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। ছবিটি গতকাল সন্ধ্যায় মুসলিম ইনস্টিটিউট মিলনায়তন থেকে তোলা l প্রথম আলোইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, ‘কোনো এক ব্যক্তির নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়নি বলে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক হিসেবে, নাগরিক হিসেবে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সবিনয়ে বিরোধিতা করছি এবং করব। এই রায় এখন পাবলিক ডকুমেন্ট বা জনগণের সম্পত্তি। রায়ের ব্যাপারে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের দ্বিমত থাকলে অবশ্যই এ বিষয়ে আলোচনা করার অধিকার রাখে।’

  সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সুনীল সরকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী প্রমুখ।

 ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ডিজিটাল যুগে অনলাইনে কোনো নেতা বা নেত্রীকে ছোট করা বা বড় করে তুলে ধরার দরকার নেই। নেতাদের আক্রমণ করে বক্তব্য রাখারও দরকার নেই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সবাইকে সংযত হতে হবে। রাস্তাঘাটে মারামারি করা যাবে না।

 চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন আয়োজিত মানবপ্রাচীর কর্মসূচিতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, জাতির পিতা এক মানবতাবাদী বিশ্ব রাজনীতিবিদ ছিলেন। অসীম সাহস, অসাধারণ প্রজ্ঞা আর দূরদর্শীতা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি বড় গুণ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। তাই স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের বিরোধীদের অশুভ তৎপরতা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করে সামনের দিকে এগুতে হবে।

চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস মোড়ে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল বাহার ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

গতকাল সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও নগর পুলিশের উদ্যোগে নগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে মানবপ্রাচীর কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির স্লোগান ছিল ‘শোকের শক্তিতে রুখব দুর্নীতি, মাদক ও জঙ্গিবাদ’।

গতকাল সকাল সাড়ে আটটায় চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লায় নগর ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মেয়র আ জ ম নাছির। এ সময় সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে নগর ভবনের কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে এতিম সমাবেশ, খতমে কোরআন, মিলাদ মাহফিল, তবরুক বিতরণ ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়: জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভার প্রধান আলোচক একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন আপোসহীন নেতা। তাঁর অবিস্মরণীয় নেতৃত্ব মানুষকে উজ্জীবিত করেছিল, বাঙালিকে বীরের জাতিতে রূপান্তরিত করেছিল। মানুষ মানবতার জয়গান গেয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। কিন্তু বঙ্গবন্ধু এখনো প্রাসঙ্গিক। এই ধরনের নজির পৃথিবীর আর কোথাও নেই।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ। বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক মো. মাসুদুজ্জামান, ফিশারিজ অনুষদের ডিন মোহাম্মদ নুরুল আবছার খান, ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন মো. রায়হান ফারুক, শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, অফিসার সমিতির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ। সকাল আটটায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ: জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নগরের আন্দরকিল্লায় দলীয় কার্যালয়ে গতকাল সকালে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নেতা-কর্মীরা। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দিন, শ্রম সম্পাদক খোরশেদ আলম, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী প্রমুখ।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, চট্টগ্রাম মহানগর কমান্ড: গতকাল সকালে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, সহকারী কমান্ডার সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, এফ এফ আকবার খান প্রমুখ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন আলেখ্য নিয়ে ভিডিও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

এ ছাড়া জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করে চট্টগ্রাম জেলা শিশু একাডেমি, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের চট্টগ্রাম জেলা শাখা।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here