প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া চকলেট জমিয়ে রেখেছে মুক্তামণি

0
10

জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতা দেখা দিলেও অস্ত্রোপচারের ধকল বেশ খানিকটা কাটিয়ে উঠেছে মুক্তামণি। গতকাল মঙ্গলবার রাতে মুক্তামণির বাবা ইব্রাহিম হোসেন মুঠোফোনে জানিয়েছেন, মুক্তামণি ভালো আছে।
রক্তনালির টিউমারে আক্রান্ত মুক্তামণির অস্ত্রোপচার হয়েছে গত শনিবার। তার ডান হাত থেকে প্রায় তিন কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করেন চিকিৎসকেরা। বর্তমানে মুক্তামণি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শনিবার অস্ত্রোপচার শেষে ব্রিফিংয়ে চিকিৎসকেরা জানান, প্রাথমিকভাবে অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। মুক্তামণির হাত রক্ষা করা গেছে। তবে শরীর থেকে সব টিউমার সরাতে আরও পাঁচ থেকে ছয়টি অস্ত্রোপচার লাগবে। শারীরিক অবস্থা বুঝে পরবর্তী অস্ত্রোপচারের সময় ঠিক করা হবে।
মুক্তামণির বাবা ইব্রাহিম হোসেন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার রাতে মুক্তামণির বেশ জ্বর ছিল। শ্বাসকষ্টও হয়। তবে মঙ্গলবার সারা দিন তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। এখন আর জ্বর নেই। মুক্তামণি সুযোগ পেলেই অনেক কথা বলছে। কথা বলতে পারলেই মনে হয় বেশি ভালো থাকে।
ইব্রাহিম বলেন, ‘আম্মুকে (মুক্তামণি) বললাম, প্রধানমন্ত্রী তোমাকে যে চকলেট দিয়েছেন তা খাবে না? আম্মু উত্তর দিল, ওই লজেন্সগুলা খাব না। খাইলে তো ফুরাইয়া যাবে। বাড়ি ফিরে সবাইকে দেখাইতে হবে না, প্রধানমন্ত্রী আমার জন্য চকলেট পাঠাইছেন।’
অস্ত্রোপচারের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামণিকে শুভকামনা জানিয়ে বার্ন ইউনিটের কেবিনে চকলেট পাঠিয়েছিলেন। তখনই মুক্তামণি কিছু চকলেট আলাদা করে গুছিয়ে রেখেছে বাড়ি নিয়ে যাবে বলে।
সাতক্ষীরায় জন্মের দেড় বছর বয়স থেকে মুক্তামণির ডান হাতের সমস্যার শুরু। প্রথমে হাতে টিউমারের মতো হয়। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে তার ডান হাতটি ফুলে অনেকটা কোলবালিশের মতো হয়ে যায়। সে বিছানাবন্দী হয়ে পড়ে। মুক্তামণির রোগ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। গত ১১ জুলাই মুক্তামণিকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামণির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here