অভিষেকেই মাত করে দিলেন নেইমার

0
70

কাল প্রথম প্যারিসে পিএসজির পার্ক দেস প্রিন্সেস মাঠে খেললেন নেইমার। আর তাঁর জাদুকরি ফুটবলে তুলুসকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিল পিএসজি।

নেইমার নিজে দুটি গোল করেছেন। বাকি ৪ গোলের প্রতিটাতেই রেখেছেন ভূমিকা। এর মধ্যে তাঁর দ্বিতীয় গোলটি ছিল বক্সের মধ্যে জাদুকরি ড্রিবলিংয়ে তুলুস ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে। পিএসজি যে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর অবিশ্বাস্য অঙ্কটা ঠিক জায়গাতেই ঢেলেছে, প্রতিমুহূর্তে যেন তা প্রমাণ করে চলেছেন ব্রাজিলীয় তারকা।
এই জয়ে তিন ম্যাচ শেষে ৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকল পিএসজি। মোনাকোর কাছে রাজ্যপাট ফিরিয়ে নেওয়ার হুংকারটা আরও জোরালো হলো। ১৫ মাস পর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে নিজেদের খুঁজে পেল পিএসজি। গত মৌসুমে কোনো রাউন্ডের খেলা শেষেই এক নম্বরে উঠতে পারেনি প্যারিসের দলটি! ৮ পয়েন্টের ব্যবধানে লিগ জিতেছিল মোনাকো।
গতবার লিগে রেসের দ্বিতীয় ঘোড়া হয়ে ছোটার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল শুরুর দিকে এই তুলুসের কাছেই ২-০ গোলে হেরে যাওয়া। কালও তুলুস চোখ রাঙিয়েছিল। ১৮ মিনিটে ম্যাক্স গ্রাদেলের গোলে এগিয়েও গিয়েছিল তারা।
কাল যেন থামিয়েই রাখা যাচ্ছিল না নেইমারকে। ছবি: রয়টার্সসমতায় ফেরান নেইমারই। ব্যাক হিলে বল পাঠিয়েছিলেন বাঁ প্রান্ত দিয়ে ঢুকে যাওয়া আন্দ্রেঁ রাবিওর দিকে। রাবিওও আগুন গোলার এক শট নিলেন। তুলুস গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে সেভ করলেন। নেইমার যেন জানতেন কী ঘটতে চলেছে। ততক্ষণে ফিরতি শট নেওয়ার জন্য একদম তৈরি। চলে এসেছেন ভেতরে। এই দফা গোলরক্ষকের চেষ্টা করারও কোনো উপায় থাকল না।
৩৫ মিনিটে এগিয়ে গেল পিএসজি। এবারও নেইমার-রাবিও দারুণ বোঝাপড়া। রাবিও এবার বক্সের বাইরে থেকে নিলেন শট। এবার আর ঠেকাতে পারলেন না গোলরক্ষক।
প্রথমার্ধ ২-১—এই শেষ। তুলুসের গোলমুখে একের পর এক আক্রমণ করেও আর গোলের দেখা পাচ্ছিল না পিএসজি। বেশির ভাগ আক্রমণের সামনে নেইমার নিজে।
৭৫ মিনিটে গোল এল। এবার পিএসজি পেল পেনাল্টি। পেনাল্টি আদায় করে নিলেন নেইমার নিজে। এডিসন কাভানি ৩-১ করলেন। কিন্তু থিয়াগো সিলভার আত্মঘাতী গোল দুই মিনিটের মধ্যে স্কোরটাকে ৩-২ বানিয়ে ফেলল। তুলুস আর একটা গোলের জন্য তখন মরিয়া! তবে কি প্রিন্সের মাঠে প্রিন্স থেকে রাজা হয়ে ওঠার প্রত্যয় নিয়ে বার্সা ছাড়া নেইমারের অভিষেক বৃথা যাবে!
পুরো ম্যাচেই আলো ছিল তাঁর দিকে। পায়ের জাদুতে মুগ্ধ করে চলা নেইমার এবার শেষ ১০ মিনিটকে বেছে নিলেন যেন স্পেশাল প্রদর্শনীর জন্য।
নিজে করেছেন ২ গোল, বাকিগুলোতে ছিল সহায়ক ভূমিকা। ছবি: রয়টার্স৬৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন হাভিয়ের পাস্তোরে। নেইমারের কারণে পিএসজিতে যাকে বেঞ্চ গরম করেই কাটাতে হবে বলে মনে হচ্ছে। সেই পাস্তোরের দিকে বল বাড়ালেন নেইমার। ৮২ মিনিটে বক্সের খানিকটা বাইরে থেকে বাঁক নেওয়া শটে পাস্তোরে করে ফেললেন ৪-২।
৮৪ মিনিটে কর্নার। নেইমার কর্নার থেকে শট নিলেন খানিকটা অদ্ভুত। হাওয়ায় বল তেমনটা ভাসালেন না। অনেকটা সোজাসুজি নেওয়া শট বক্সে খুঁজে নিল কুরজাওয়াকে। নিখুঁত হেডার। ৫-২।
এমন দারুণ রসনা বিলাসের শেষটা ‘ডেজার্ট’ দিয়ে হলে মন্দ হয় না। যোগ করা সময়ে বক্সের জটলায় নেইমারের সেই ড্রিবলিং জাদু। পাঁচ ডিফেন্ডারের কেউই থামাতে পারল না। নেইমারের বাঁ পায়ের আলতো কিন্তু নিখুঁত শট খুঁজে নিল জাল!
নিজের জাদুকরী ড্রিবলিংয়ে বারবার বোকা বানিয়েছেন তুলুন-ডিফেন্ডারদের। ছবি: রয়টার্সমেসির ছায়া থেকে বেরোতে বার্সেলোনার মতো ক্লাব ছাড়ার ঝুঁকিটা নিয়ে নেইমার তাহলে ভুল করেননি! পিএসজিও ভুল করেনি অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হয় এমন অঙ্কের টাকা দিয়ে তাঁকে কিনে এনে। নেইমারের আসল দাম তো মনে হচ্ছে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর চেয়েও বেশি!

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here