আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট

0
146

মেহেদী হাসান সবুজ

আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। বাঙালি জাতির শোকের দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ৪২ বছর আগে এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল ক্ষমতালোভী কুচক্রী কিছু সেনাসদস্য। আজ যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী পালনের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে কাফরুল থানাধীন পুলপারে আয়োজন করা হয় শ্রদ্ধাঞ্জলী ও শোক সভার।

আয়োজনে পৃথক বাণী ও বক্তব্য রেখেছেন কাফরুল থানার সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম মোড়ল, সাংগঠনিক সম্পাদক আরশাদ মৃধা, ১৬নং ওয়ার্ডের সিনিয়র সভাপতি- আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক-মোঃ মিজানুর রহমান মিজানসহ আরও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তব্যে আরশাদ মৃধা বলেন- মুজিব হত্যায় আমরা গভীরভাবে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধাঞ্জলী জানাই। সেই সাথে সারা দেশে বন্যায় কবলিত জনসাধারণের জন্য আমরা সহমর্মিত। তিনি আরও বলেন- রাজনৈতিক অঙ্গ-সংগঠনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগীতা পেলে আমরা বন্যায় দূর্গত মানুষের পাশে দাড়াতে সক্ষম হবো বলে আশা করছি। বঙ্গবন্ধুর নীতি আর আদর্শের ধারাবাহিকতায় দেশরত্ন জনণেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে আমাদের উদ্যোগ সফল হবেই ইনশাহ্আল্লাহ্।

আজ সরকারি ছুটি। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনগুলোয় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোয়ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া দেশের সব সরকারি হাসপাতালে দিবসটি উপলক্ষে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে।

সে রাতে যাদের হত্যা করা হয়েছিল : বঙ্গবন্ধু ছাড়াও ১৫ আগস্ট রাতে ধানমণ্ডির বাড়িতে তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তার জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে তাকে ও তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় রেন্টু খানকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং নিকটাত্মীয়সহ ২৬ জনকে ওই রাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় তারা প্রাণে বেঁচে যান।

 

 

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here