জাতিসংঘে তোলা হবে রোহিঙ্গা সংকট

0
47

মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশ ঘুরে গেলেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনি এরদোগান। গতকাল ভোর রাতে ঢাকায় পৌঁছে সকালে কক্সবাজারের কুতুপালং গিয়ে সরেজমিন দেখে আসেন রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি।
সন্ধ্যায় ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাতে ফিরে যান তুর্কি ফার্স্ট লেডি। রাখাইন পরিস্থিতিতে ‘গণহত্যা’ উল্লেখ করে এমিনি এরদোগান জানান, জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে তুরস্ক রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদও জানান তিনি। তুর্কি ফার্স্ট লেডির সঙ্গে আসা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেগলুত কাভাসোগলু বলেন, মিয়ানমারে নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করছে তুরস্ক সরকার। জানা যায়, কয়েকদিন ধরেই মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে আসছের তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। গত মঙ্গলবার মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে কথা বলার পর পরিস্থিতি দেখতে স্ত্রীকে বাংলাদেশে পাঠান এরদোগান। বৃহস্পতিবার সকালে বিশেষ বিমানে ঢাকায় পৌঁছান এরদোগান স্ত্রী। পাশাপাশি আরেক বিমানে আসেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ বিমানে কক্সবাজার যান রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন।

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, তারা কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালংয়ের শরণার্থী শিবিরে নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে স্বজনহারা ও আহতদের দুঃখের কথা শোনেন। পাশাপাশি ক্যাম্পবাসীদের সঙ্গেও কথা বলেন এমিনি। এ সময় রোহিঙ্গা এক শিশুকে বুকে আঁকড়ে নিয়ে কেঁদে ফেলেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি; নির্যাতনের বর্ণনা দিতে রোহিঙ্গারাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে সাংবাদিকদের এমিনি এরদোগান বলেন, ‘আমরা (তুরস্ক) ইতিমধ্যে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলেছি। তিনি (সু চি) বলেছেন, মিয়ানমার এ ব্যাপারে ভালো কিছু করবে … রোহিঙ্গা রাজ্যের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সু চি আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আশা করছি মিয়ানমার সরকার এই সংকটের সমাধান করবে। ’ বিকালে ঢাকায় ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি।

বার্তা সংস্থা ইউএনবির খবর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুর্কি ফার্স্ব লেডিকে জানান, মানবিক দিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই নির্যাতিতদের দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বলেন, মিয়ানমারে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো কারও আশ্রয় হবে না বাংলাদেশে। এখন যারা এসেছে তাদের প্রত্যেকের নিবন্ধন করা হবে। ফলে কোনো সন্ত্রাসীর পক্ষে আশ্রয় নেওয়া সম্ভব হবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাত ৯টার কিছু পরে আলাদা আলাদা বিশেষ বিমানে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তুর্কি ফার্স্ব লেডি এমিনি এরদোগান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেগলুত কাভাসোগলু। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম অতিথিদের বিদায় জানান।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here