গতকাল বেনজির ভুট্টো হত্যাসংশ্লিষ্ট মামলার রায় হলো পাকিস্তানে

0
90

বেনজির ভুট্টো হত্যাসংশ্লিষ্ট মামলার রায় হলো পাকিস্তানে গতকাল। প্রায় ১০ বছর পর। এই রায়ের মধ্যে দিয়ে বেনজির হত্যারহস্য পরিষ্কার তো হলোই না, সত্য আরও দূরে সরে গেল। দুজন পুলিশ কর্মকর্তার ‘দায়িত্ব পালনে অবহেলা’র জন্য ১৭ বছর সাজা হলো মাত্র—বাকি অভিযুক্তরা খালাস পেলেন এবং আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে যেন বেনজিরকে কেউ মারেনি। স্বভাবতই পিপলস পার্টি এই রায়ে মর্মাহত। কিন্তু এই মামলার ওপর যাঁরা প্রথম থেকেই নজর রাখছেন, তাঁদের অনেকেই রায়ে এই কারণে বিস্মিত নন যে ঘটনার প্রমাণ ধ্বংস করে ধাপে ধাপে মামলাটিকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছিল। বস্তুত বেনজিরের মৃত্যুরহস্যের কিনারা করতে না পারা দক্ষিণ এশিয়ায় গণতন্ত্রের জন্য বিরাট এক ব্যর্থতা হয়ে থাকল।

পাকিস্তানের মতোই বাংলাদেশেও ব্যাপক পরিচিত ছিলেন বেনজির। কিছুটা তাঁর পিতার কারণে, কিন্তু অনেকখানি তাঁর জমকালো ব্যক্তিত্বের কারণেও। শিক্ষা ও সৌন্দর্যের জন্য বিশেষভাবে নন্দিত বেনজিরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও ছিল উত্তাল ও বর্ণিল। দুবার (১৯৮৮ ও ১৯৯৩) প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন এবং দুবারই বরখাস্ত হন দেশটির ‘এস্টাবলিশমেন্ট’-এর সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে না পেরে। গতকালের রায়ের মধ্য দিয়ে বেনজির হত্যার তদন্ত ও বিচারের আপাতত সমাপ্তি ঘটলেও পাকিস্তানকে নিশ্চয়ই বহুদিন এই প্রশ্ন তাড়া করবে, কে এবং কারা মেরেছিল বেনজিরকে?

দুই.
বেনজিরের খুনের তদন্তে জাতিসংঘও একটা তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। যা ছিল খুবই অভাবনীয়। এর প্রধান ছিলেন হেরাল্ডো মুনজ্। চিলির বর্ষীয়ান এক কূটনীতিবিদ তিনি। মুনজ্ এই বলে তদন্ত প্রক্রিয়ার ইতি টেনে ছিলেন যে ‘বেনজিরের খুনের পেছনে এত জটিল হিসাবনিকাশ লুকিয়ে আছে যে, কোনো সরকারই এ-বিষয়ক সত্য খুঁজে বের করতে চাইবে না এবং পারবেও না হয়তো।’ মুনজ্-এর আরেকটি আলোচিত মন্তব্য ছিল, ‘এই হত্যা প্রতিরোধযোগ্য ছিল।’ তিনি এ-ও বলেন, এই ঘটনায় হত্যার পর্যায়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হলো: এক. কারা পরিকল্পনা করেছিল; দুই. কারা অর্থ দিয়েছিল এবং তিন. কারা সিদ্ধান্তটি দিয়েছিল। তিনি এ-ও স্বীকার করেন, বেনজিরকে ঘৃণা করত এমন প্রতিপক্ষের তালিকা বেশ দীর্ঘ।

২০০৮ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে বেনজির শেষ দফা নয় বছরের স্বেচ্ছা-নির্বাসন থেকে করাচি ফিরে এসেছিলেন ২০০৭-এর ১৮ অক্টোবর। তখনকার ক্ষমতাসীন জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে গোপন এক সমঝোতার মধ্য দিয়ে। ২০০৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁদের মাঝে ১৫ মিনিটের এক টেলিফোন আলাপচারিতায় এই সমঝোতা ঘটে। এই আলাপে মোশাররফ বেনজিরকে বলেছিলেন, তাঁর নিরাপত্তা নির্ভর করছে উভয়ের মাঝে রাজনৈতিক সম্পর্ক কিরূপ থাকে তার ওপর! কিন্তু সমঝোতার পরমুহূর্ত থেকে উল্লেখিত ‘সম্পর্ক’-এর অবনতিই কেবল দৃশ্যগোচর হচ্ছিল।

২০০৭-এর ১৮ অক্টোবর বেনজির যখন আবার পাকিস্তানে ফেরেন, তখন তাঁকে স্বাগত জানাতে যেমন অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিল, তেমনি তাঁর বিরুদ্ধপক্ষও নীরবে বসে থাকেনি। তাঁর গাড়িবহরে হামলায় সে রাতে ১৪৯ জন মারা যায়। যার মধ্যে ৫০ জনই ছিল বেনজিরের নিরাপত্তারক্ষী। এ ঘটনায় তিন দিন পর তিনি যে এফআইআরটি করতে গিয়েও সফল হননি তাতে লেখা ছিল: ‘আমাকে আগেই সরকার জানিয়েছিল কয়েকটি জঙ্গিগোষ্ঠী চায় না আমি দেশে ফিরি। এটা জেনে আমি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকে আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে লিখেছিলাম এবং সুনির্দিষ্টভাবে আমার ক্ষতি করতে পারে এমন শক্তিসমূহ সম্পর্কে জানিয়েছিলাম।’

যত দূর জানা যায়, বেনজির যাদের বিরুদ্ধে অঙ্গুলি নির্দেশ করেছিলেন তাঁরা হলেন চৌধুরী পারভেজ এলাহি, হামিদ গুল এবং ইজাজ শাহ। এঁদের মধ্যে শেষোক্ত দুজন তখনকার নেতৃস্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা ছিলেন। হামিদ গুল ছিলেন আইএসআই (ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলেজিন্স) প্রধান এবং ইজাজ শাহ্ ছিলেন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর সাবেক প্রধান। হামিদ গুল বেনজিরের শাসনামলেই আইএসআইর ডিজি হন এবং এর আগে জিয়াউল হকের সময়ে মিলিটারি ইনটেলিজেন্সের প্রধান ছিলেন। আর ওই জিয়াউল হকই ভুট্টোকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলেন। চাকরি ও সম্পর্কের এই অতীতগুলো রাজনৈতিক সমীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে এবং এ-ও মনে রাখা জরুরি, গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে পাকিস্তানের রাজনীতিতে আইএসআই বরাবরই শক্তিশালী এক পক্ষ এবং বেনজিরের গতিবিধির ওপর তাদের কেবল যে তীক্ষ্ণ নজরদারি ছিল তাই নয়, তাঁর বসতবাড়িতে এবং স্টাফদের ওপরও ব্যাপকভাবে আড়িপাতা হতো।

বলা বাহুল্য, ২০০৭ সালের ১৮ অক্টোবরের আক্রমণ নিয়ে বেনজিরের মৃত্যুর দিন পর্যন্ত কোনোই তদন্ত হয়নি। ২০০৮-এর আগস্টে পারভেজ মোশাররফ ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়া এবং অক্টোবরে পিপলস পার্টি আবার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরই কেবল ওই বিষয়ক তদন্ত আবার শুরু হয়। ইতিমধ্যে ২৭ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে আরেক হামলায় বেনজির আর রক্ষা পাননি। তাঁর মৃত্যুর পর দেশটিতে কয়েক দিনের দাঙ্গায় প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়। বেনজির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হলেও মৃত্যুর আগে তিনি প্রাপ্য নিরাপত্তা-প্রটোকল পাননি। বিখ্যাত ফরেন এফেয়ার্স জার্নালে (আগস্ট ২০১৩) এক লেখায় জাতিসংঘের তদন্তকারী মুনজ্ বলেছেন, তাঁদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, বেনজির হত্যার তদন্তে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস প্রধান ‘স্বাধীনভাবে’ কাজ করতে পারেননি।

উল্লেখ্য, মুনজ্ যখন এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছিলেন তখন দেশটিতে সেনাপ্রধান ছিলেন পারভেজ কায়ানি। তিনি সেনাপ্রধান হওয়ার আগে ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত আইএসআইর ডিজি ছিলেন। আবার তারও অনেক আগে তিনি বেনজির ভুট্টোর ডেপুটি মিলিটারি সেক্রেটারি ছিলেন এবং এ-ও মনে করা হয়, মোশাররফের সঙ্গে বেনজিরের রাজনৈতিক সমঝোতায় কায়ানিই মধ্যস্থতা করেছিলেন। মূলত সমঝোতাটি ছিল এই যে, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বেনজির প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং মোশাররফ থাকবেন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি বেনজিরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলা তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু পাকিস্তানের রাজনীতিতে মোশাররফ ও বেনজিরই একমাত্র পক্ষ ছিল না। বিশেষত আইএসআই বেনজিরের প্রতি বিশেষ বিরক্ত ছিল, যখন তিনি এই অভিযোগ তোলেন যে ওসামা বিন লাদেন গোয়েন্দা সংস্থাটিকে ১ কোটি ডলার দিয়েছে তাঁকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার জন্য। এ সময় ওসামার জুজু দেখিয়ে পাশ্চাত্যের বিশেষ সহানুভূতি প্রত্যাশী ছিলেন বেনজির, কারণ সুনির্দিষ্ট কিছু দুর্নীতির কারণে চরম ইমেজ-সংকটে ছিলেন তিনি।

তিন.
২৭ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডির ঘটনাস্থলে বেনজির ঠিক কীভাবে মারা গিয়েছিলেন সেটা গতকালের রায়ের পর হয়তো আর কোনো দিনই সুনির্দিষ্টভাবে জানা যাবে না। সেখানে তখন একই সঙ্গে আত্মঘাতী হামলা হয় এবং একটা গুলিও বর্ষিত হয় বেনজিরের মাথা লক্ষ্য করে। আত্মঘাতী হামলাকারী ছিল একটি শিশু। অনুমান করা দুরূহ নয়, শিশুটিকে এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল মাত্র। আজও পাকিস্তানিরা বেলাল নামের ওই আত্মঘাতীর পারিবারিক পরিচয় জানে না। কারণ, তদন্তকারীরা সেটা খোঁজার ব্যপারে আগ্রহী ছিলেন না। তাঁর মৃত্যুর পরদিনই পাকিস্তান সরকার দুটি কাজ করে: ক. একটা জয়েন্ট ইনভেসটিগেশন টিম (জেআইটি) গঠন করে এবং খ. এই খুনের জন্য স্থানীয় তালেবান নেতা বায়তুল্লাহ মেসুদকে দায়ী করে। এরূপ একটা বিশ্ব তোলপাড় করা খুনের ঘটনায় এত দ্রুত কাউকে দায়ী করা ছিল বিস্ময়কর এবং আরও বিস্ময়কর হলো তখনকার সিআইএ প্রধান মিশেল হেডেন ২০০৮-এর জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন পোস্ট-এ এক লেখায় আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান সরকারের এই ‘দাবি’ সমর্থন করেন এবং এরও কিছুদিন পর খুনের কথিত ‘পরিকল্পক’ বায়তুল্লাহ মেসুদ ‘বিমান হামলা’য় মারা যান। তবে এসবে বেনজির সমর্থকেরা স্বভাবত অসন্তুষ্টই ছিলেন।

২০০৯ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘ এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। আর কেন্দ্রীয় সরকারও ২০০৯-এর আগস্টে আরেক দফা তদন্তের হুকুম দেয়। এই তদন্তের কোড নাম ছিল ‘অপারেশন ট্রোজান হর্স’। এই ‘অপারেশন’কালে সম্ভাব্য ও প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ হয় বিপুল। এ বিষয়ে ২০১৫ সালের ৬ জুলাই ডেইলি ডন-এ এক লেখায় মুখ্য তদন্ত কর্মকর্তা তারিক খোসা লিখেছেন, ‘…আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিকের কাছে কয়েকটি বিষয় চেয়ে পাঠিয়েছিলাম গোপনে। যার মধ্যে ছিল: মোশাররফকে লেখা বেনজিরের চিঠির কপি, যাতে তিন সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের নাম ছিল। বেনজিরের কিছু ই-মেইল যেখানে তিনি সন্দেহভাজনদের নাম উল্লেখ করেছিলেন এবং বিশেষভাবে বেনজির ও মোশাররফের মধ্যে যে রাজনৈতিক চুক্তি হয়েছিল তার কপি। এ ছাড়া পিপলস পার্টির রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্কে বেনজিরের মূল ইচ্ছাপত্রও দেখা দরকার ছিল। কিন্তু রেহমান মালিক আমার চিঠির উত্তর দেননি।’ ‘অপারেশন ট্রোজান হর্স’-এর পক্ষ থেকে অন্তত পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এঁরা সবাই ষষ্ঠ যে ব্যক্তির নাম বলেন তিনি হলেন জনৈক ইবাদুর রহমান। কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য হলো, এই ইবাদুরকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি খাইবার এজেন্সিতে ২০১০-এর মে মাসে এক বিমান হামলায় মারা যান! বেনজিরের মৃত্যুর জন্য আরেক সন্দেহভাজন ছিলেন আল-কায়েদার তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক মুস্তফা আবু যাইদ। ২০১০-এর ২২ মে আরেক বিমান হামলায় তিনিও মারা যান উত্তর ওয়াজিরিস্তানে! উল্লেখ্য, যাইদই একমাত্র বেনজিরের মৃত্যুর দায়িত্ব স্বীকার করে বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন: ‘মুজাহিদিনদের পরাজিত করার মতো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটিকে নির্মূল করা হয়েছে।’

বেনজিরের মৃত্যুর জন্য তৃতীয় আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজন ছিলেন খালিদ শাহেন শাহ। বেনজিরের নিরাপত্তার জন্য তাঁকে ভাড়া করা হয়েছিল। বেনজিরের মৃত্যুর কিছুদিন পরই খালিদ করাচিতে খুন হন। তাঁকে খুনের দায়ে অভিযুক্ত করা হয় করাচির রেহমান ডাকাত নামে আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক নেতাকে। সেই রেহমান আবার কিছুদিন পর পুলিশের এক কর্মকর্তা মো. আসলামের হাতে খুন হন এবং আসলামও একপর্যায়ে খুন হয়ে যান। এ ছাড়াও এই মামলার একজন প্রসিকিউটর চৌধুরী জুলফিকার আলীও রাওয়ালপিন্ডিতে খুন হন ২০১৩ সালে। সামগ্রিক এসব হত্যাকাণ্ড বস্তুত হলিউডের যেকোনো অ্যাকশন মুভির চেয়েও ছিল নাটকীয়তায় ভরা।

কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অপারেশন ট্রোজান হর্স’-এর তদন্তকারীরা প্রথমদিকে আন্তরিকভাবেই চাইছিলেন ঘটনার প্রকৃত হোতাদের চিহ্নিত করতে। একপর্যায়ে তাঁরা দেখতে পান ষড়যন্ত্রের জাল কেবল পাকিস্তানে নয় বিশ্বের অনেক দেশে বিস্তৃত এবং তথ্য-প্রমাণ ছড়িয়ে আছে বহু দেশজুড়ে। বিশেষ করে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র এবং আমিরাতে। তদন্তও এগোচ্ছিল সঠিক গন্তব্যে। কিন্তু একপর্যায়ে তদন্তদলের প্রধান তারিক খোসাকে বদলি করে দেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবে এ থেকে সবাই এ-বিষয়ক বার্তাটুকু বুঝে নিতে সক্ষম হয় এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টিও বেনজির-পরবর্তী নেতৃত্বও এ বিষয়ে নমনীয় থাকার নীতি নেয়। এ প্রসঙ্গে এ-ও উল্লেখ্য, রাওয়ালপিন্ডির যে সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে ‘বেনজির মার্ডার কেস’-এর বিচার চলছিল তাতে এ পর্যন্ত আটজন বিচারক বদল হয়েছেন! এর মাঝে বেনজিরের দল পিপলস পার্টিও পাঁচ বছর ক্ষমতায় ছিল এবং সে সময় খোদ তাঁর স্বামীই দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ মামলায় প্রায় ১৫০ জন সাক্ষী থাকলেও আসিফ আলী জারদারি সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নন এবং জারদারির প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় এ মামলার বিষয়ে অন্যতম অভিযুক্ত পারভেজ মোশাররফকে কখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানা যায় না। গতকালের রায়ে দুবাইয়ে স্বেচ্ছা-নির্বাসনে থাকা মোশাররফকে আদালত এই মামলার ‘পলাতক আসামি’ হিসেবে উল্লেখ করেই তাঁদের দায়িত্ব শেষ করেছেন এবং বেনজির অধ্যায়ের যবনিকা টানার চেষ্টা করলেন।

 

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here