ডোকলাম থেকে ভারতকে শিক্ষা নিতে বলল চীন

0
37

বিতর্কিত ভূখণ্ড ডোকলাম নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে ৭০ দিন ধরে চলা উত্তেজনা ও অচলাবস্থা থেকে নয়াদিল্লিকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীনের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)।

ভারত-চীন-ভুটান সীমান্তে অবস্থিত বিতর্কিত ওই মালভূমিতে ওই দুই দেশের সেনা সমাবেশ ঘটানোকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনা দেখা দেয়। গত সোমবার মুখোমুখি অবস্থান থেকে দুই দেশই সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকে এ উত্তেজনা কমে এসেছে।

পিএলএর একজন জ্যেষ্ঠ কর্নেল উ কিয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে চীনের সেনারা তাদের সতর্ক পাহারা অব্যাহত রাখবে এবং জাতীয় ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে। তিনি আরও বলেন, চীন-ভারত সীমান্তের শান্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং উভয় দেশের সীমান্ত এলাকার মানুষের অভিন্ন স্বার্থ জড়িত।

বিবৃতিতে উ কিয়ান বলেন, ‘আমরা ভারতকে ওই অচলাবস্থা থেকে শিক্ষা নেওয়ার, প্রতিষ্ঠিত চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি মেনে চলার; সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় চীনের সঙ্গে একত্রে কাজ করার এবং দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।’

সোমবার ভারত ও চীন ডোকলাম থেকে সেনা সরিয়ে নিতে রাজি হওয়ার পর ইতিমধ্যে ভারত সেনা সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে। সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারে কয়েক দিন লাগতে পারে। সেনা প্রত্যাহার নিয়ে সোমবার দুপুরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতির এক ঘণ্টার মধ্যে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছে, ভারত ইতিমধ্যে সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। চীনা সেনারা ডোকলাম সীমান্তে টহলদারি চালিয়ে যাবে। তবে অবশ্যই চীন সেনা রাখা বিষয়ে প্রয়োজনীয় রদবদল ঘটাবে।

ভারত ডোকলাম থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ায় চীন এটাকে তাদের বিজয় হিসেবে দেখছে। আর ভারতও বলছে, দুই দেশই ডোকলাম খালি করে দিলে অবশ্যই তা হবে ভারতের কূটনৈতিক জয়। কারণ, আড়াই মাস ধরে চীন বারবার ভারতকে ডোকলাম থেকে সরে যেতে বললেও ভারত সরেনি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ সংসদে জানিয়েছিলেন, সরতে হলে দুই দেশের সেনাদেরই সরে যেতে হবে। উল্লেখ্য, চীনে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরুর কয়েক দিন আগে ডোকলাম থেকে সেনা প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্ত নিল দুই দেশ। আগামী ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও যোগ দেবেন। গত জুনে চীনা সেনাবাহিনী ডোকলামে রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নিলে ভারতীয় সেনারা তাদের বাধা দেয়। এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে পরে সেখানে সেনা সমাবেশ ঘটায় তারা।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here