রাখাইনে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের হত্যা ও ধর্ষণের বিচারের দাবি : যুক্তরাষ্ট্র

0
61

রাখাইনে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের হত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মিয়ানমারের সেনা নেতৃত্বকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে রোহিঙ্গা নিধনের কারণে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সিনেটররা। খবর এএফপি, এপি ও রয়টার্সের।
বৃহস্পতিবার রাতে নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বৈঠকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, সংকট নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ভালো কথা বলার সময় শেষ। তিনি বলেন, রাখাইনের পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রাদয়কে মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ রাখতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র এই প্রথমবারের মতো রাখাইনে দমন-পীড়নের পেছনে জড়িত সেনা নেতৃত্বকে শাস্তির মুখোমুখি করার কথা বলেছে। বৈঠকে তিনি বলেন, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ একটি নৃগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে যে নির্মম অভিযান চালাচ্ছে সে কথা বলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বিধা থাকা উচিত নয়।
হ্যালি বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অবশ্যই মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদের অবশ্যই দায়িত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে এবং অপরাধের জন্য বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ করছে- এমন যে কোনো দেশের উচিত, মিয়ানমার পর্যাপ্ত জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নেয়ার আগ পর্যন্ত তা বন্ধ রাখা।
হ্যালি বলেন, মিয়ানমারের যেসব নেতা একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য বহু ত্যাগস্বীকার করেছেন, রোহিঙ্গা সংকটে তাদের লজ্জা হওয়া উচিত। জনগণের মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চাইলেন ২১ মার্কিন সিনেটর : রোহিঙ্গা নিধনের কারণে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সিনেটররা। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট ২১ জন সিনেটর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের কাছে লেখা এক চিঠিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানায় বার্তা সংস্থা এপি। চিঠিতে রোহিঙ্গা নিধনের হোতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং মিয়ানমারের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জঙ্গি দমনের নামে ‘অস্বাভাবিক রকমের অসঙ্গত’ শক্তি প্রয়োগ করছে। এজন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ও যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বিদেশে কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘন করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার প্রেসিডেন্টকে দেয়া হয়েছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here