রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ না হলে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে

0
42

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যে জাতিগত নিধন অভিযান চলছে তা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির আশঙ্কা, রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ না হলে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। যার কারণে বিশ্বজুড়ে উগ্রপন্থা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এ অবস্থায় মিয়ানমার সেনার দমন অভিযান বন্ধ করতে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ অথবা সাহায্য বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও কর্মকর্তা।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে শুনানিকালে এ আহ্বান জানানো হয়।

শুনানিতে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বক্তব্য রাখেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্যাট্রিক মারফি।

তিনি বলেন, দশকের পর দশক ধরে মিয়ানমার সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করে যাচ্ছে। আইন করে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর।

পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার এবং এর কারণে বিশ্বজুড়ে উগ্রপন্থা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা জানান প্যাট্রিক মারফি।

তবে এ মার্কিন কর্মকর্তা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবলম্বনের বিষয়ে মত দেন।

গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সঙ্গে মিয়ানমারের পুলিশ ও সেনাদের সংঘর্ষ হয়। এর জের ধরে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো লক্ষ্য করে অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী।

অভিযানকালে তারা রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণ করে। এ অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ।

রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান এ নির্যাতনকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ।

বাংলাদেশ, ফ্রান্সসহ অনেক দেশের অভিযোগে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চলছে।

তবে মিয়ানমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ২৫ আগস্ট পুলিশের ওপর হামলাকারী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চিও রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন অভিযান চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবারের শুনানিতে রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে মিয়ানমার সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।

পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেস সদস্য এড রয়েস বলেন, সর্বশেষ বিবৃতিতেও সু চি জাতিগত নিধন অভিযানের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, যা সঠিক নয়। এটি অবশ্যই জাতিগত নিধন অভিযান।

রাখাইনে দ্রুত সেনা নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ওই সহিংসতার জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। সু চি ও তার দেশের সেনাবাহিনীকে এই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।

শুনানিতে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে ডেমোক্র্যাট পার্টির সিনিয়র প্রতিনিধি এলিয়ট অ্যাঙ্গেলসহ কয়েকজন, মিয়ানমার সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে শুনানিতে মত দেন হত্যাযজ্ঞের প্রত্যক্ষদর্শী মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইডের কেট সমভংসিরি। তিনি বলেন, পরিস্থিতির ভয়াবহতায় আমাদের অবশ্যই সব উপায় বিবেচনায় রাখতে হবে।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়টি সরাসরি যাচাই করতে আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের রাখাইনে যাওয়ার সুযোগ দিতে সু চির সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মার্কিন আইনপ্রণেতারা।

পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির এশিয়াবিষয়ক উপকমিটির প্রধান কংগ্রেস সদস্য টেড ইয়োহো জাতিসংঘের তদন্তকারীদের রাখাইনে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার আগ পর্যন্ত মিয়ানমার সরকারকে মার্কিন সাহায্য বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য স্কট পেরি বলেন, আমরা এখানে স্যুট পরে বসে আছি, আর ওখানে মানুষ খুন হচ্ছে। তাদের নিজের দেশ থেকে উৎখাত করা হচ্ছে।  কাউকে না কাউকে এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।

শুনানিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্যাট্রিক মারফি জানান, মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার নেপথ্যে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here