রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানান: মালালা

0
95

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের নিন্দা জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী পাকিস্তানের নারীশিক্ষা আন্দোলনকর্মী মালালা ইউসুফজাই।

একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানানোর জন্য মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সোমবার রোহিঙ্গা বিষয়ে মালালা এক টুইটারে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান।

শান্তিতে নোবেলজয়ী মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচি রোহিঙ্গাদের প্রতি তার দেশের লজ্জাজনক আচরণের নিন্দা জানাবেন- এ অপেক্ষায় আছেন বলে উল্লেখ করেছেন মালালা।

মালালা লিখেছেন, এ সহিংসতায় সুচির নিন্দার অপেক্ষায় বিশ্ব, অপেক্ষায় রোহিঙ্গা মুসলমানরা। রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক বলে অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার।

এ প্রেক্ষাপটে মালালার প্রশ্ন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা যেখানে বাস করে আসছেন, সেই মিয়ানমারই যদি তাদের আবাস না হয়, তাহলে তাদের আবাস কোথায়? মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন মালালা।

মালালা লিখেছেন, আমি যখনই খবর দেখি, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের দুরবস্থা দেখে আমার হৃদয় ভেঙে যায়।

আমার নিজের দেশ পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের উচিত বাংলাদেশের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা এবং যেসব রোহিঙ্গা পরিবার সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসছে তাদের জন্য আশ্রয়, খাদ্য এবং শিক্ষার সুযোগ দেয়া।

তিনি বলেছেন, আজ আমি ছোট ছোট বাচ্চাদের ছবি দেখেছি যাদের মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা করেছে। এ বাচ্চারাতো কাওকে আক্রমণ করেনি, কিন্তু তারপরও তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য সীমান্ত খুলে দিতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসোগলু এ আহ্বান জানান।

মেভলুত জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য যা খরচ হবে তার সবটাই বহন করবে তুরস্ক। শুক্রবার তুরস্কের আনতালিয়া প্রদেশে ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) ঈদুল আজহা উদযাপনের অনুষ্ঠানে মেভলুত এসব কথা বলেন।

মেভলুত বলেন, আমরা ইসলামিক দেশগুলোর সংগঠন ওআইসির সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। খুব শিগগিরই রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হবে।

আমরা এ বিষয়টির একটি স্থায়ী সমাধান চাই।’ তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের মতো আর অন্য কোনো দেশ সাহায্যে নিয়ে এগিয়ে আসেনি।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান এরই মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে টেলিফোনে কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। রোহিঙ্গাদের সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলছেন।

মেভলুত দাবি করেন, মিয়ানমারের মুসলমানদের ওপর চালানো গণহত্যা বিষয়ে তুরস্কের ছাড়া আর কোনো দেশই সংবেদনশীল হয়নি।

ঈদুল আজহার দিন রোহিঙ্গা বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের ১৩টি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে কথা বলার পর মেভলুত চাভুসোগলু এ ঘোষণা দেন।

মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আলাপচারিতায় এরদোগান মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে উলে্লখ করে এ বিষয়ে যথার্থ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি আহ্বান জানান।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here