শরণার্থী শিশুদের রূপকথার রাজ্যে

0
35

রূপকথার গল্পটির নাম ‘দ্য ট্রাভেলিং প্রিন্সেস’। গল্পের নায়িকার একটিই ইচ্ছা। তা হলো বিদেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানো। এই ভ্রমণের মাধ্যমেই সে নতুন নতুন বন্ধুদের সঙ্গে মেশে এবং যাদের সঙ্গে দেখা হয় তাদের মধ্যে নিজের ধনসম্পদ ভাগ করে দেয়।

ভ্রমণের শেষ পর্যায়ে এসে আমিরা নামের ওই রাজকন্যা নিজের রাজমুকুট ত্যাগ করে। সিরিয়া থেকে যেসব শরণার্থী যুদ্ধ থেকে বাঁচতে গ্রিসে পালিয়ে এসেছে, তাদের কাছে থাকতে শুরু করে আমিরা। শরণার্থী শিশুদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় সে। বাবা-মার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন এসব শিশু যেন তাদের হারানো জীবন খুঁজে পায়, সে জন্য কাজ করতে থাকে ওই রাজকন্যা।

সিরীয় ও কুর্দি শিশুদের তৈরি আটটি আধুনিক রূপকথার গল্পের একটি হলো দ্য ট্রাভেলিং প্রিন্সেস। এসব গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে একটি বই। এ বইয়ের পেছনের কারিগর ব্রাজিলের সাংবাদিক ডেবোরা ডি পিনা কাসটিলিওনি ও তাঁর বোন বিয়েত্রিজ। তাঁরা দুজনে মিলে গ্রিসের থেসালোনিকির শরণার্থীশিবিরগুলো থেকে এই গল্পগুলো সংগ্রহ করেছেন। ভাষান্তর ও প্রয়োজনীয় অলংকরণের পর এখন বইটি বিক্রি হচ্ছে ইউরোপজুড়ে।

‘ট্রাভেলিং টেলস’ নামের বইটি মোট ১১টি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। বিয়েত্রিজ বলেন, তরুণ শরণার্থী ও অন্য শিশুদের মধ্যে যোগাযোগকে উৎসাহিত করতেই এ বই প্রকাশ করা হয়েছে। এ জন্য সর্বজনীন ভাষা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে পৌরাণিক কাহিনি ও শিশুদের বুনো কল্পনাকে।

তরুণ আলংকারিক বিয়েত্রিজ বলেন, ‘শিশুদের তৈরি এই গল্পগুলোতে বেশ সুখী সুখী ভাব আছে। এগুলো সৃষ্টিশীল ও দুঃসাহসিক অভিযানের অভিজ্ঞতাও পাওয়া যাবে। গল্পগুলো সত্যিই মজার।’

বইটিতে যে পাঁচজন অলংকরণ শিল্পী কাজ করেছেন, তাঁদের মধ্যে বিয়েত্রিজ একজন। তিনি বলেন, শরণার্থী শিশু ও তাদের বাবা-মাদের যুদ্ধ ও শরণার্থী-সংকট নিয়ে কথা বলার সুযোগ করে দিতেই এই প্রচেষ্টা।

বইয়ে পাওয়া যাবে, চকলেটের তৈরি ঘরে থাকা একটি হাঁসের গল্প। এক রাজা দয়ালু হওয়ার শিক্ষা পান তাঁর সন্তানদের কাছ থেকে। আর আছে এলিয়েন ও মুরগির মধ্যে যুদ্ধের কাহিনি! সেই যুদ্ধ আবার পৃথিবীতে থাকা শেষ ডিম নিয়ে।

বিয়েত্রিজ বলেন, ‘এখানে অনেক কল্পনা আছে। রূপকথার জাদু যেমন আছে, তেমনি ভিনগ্রহের প্রাণীরাও আছে। সত্যিই গল্পগুলো বিচিত্র।’

২০১৬ সালের আগস্ট মাস থেকে গ্রিসের শরণার্থীশিবিরে থেকেছেন সাংবাদিক ডেবোরা। তিনি বলেন, বোনকে নিয়ে একসঙ্গে একটি বইয়ের কাজ করার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তাঁর।

ডেবোরা বলেন, প্রায় চার মাস ধরে চার থেকে ১৪ বছর বয়সের শিশুদের নিয়ে কর্মশালা চালানো হয়েছিল। মোট তিনটি শিবিরে এই কর্মশালা হয়। এ সময় শিশুদের গল্পের ধারণা তৈরিতে সাহায্য করা হয় এবং সেগুলো লিখে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, শরণার্থী শিশুদের কাছ থেকে যুদ্ধের স্মৃতি শুনতে চাননি তাঁরা। বরং তারা যেন কল্পনার জগতে নিজেদের মেলে ধরতে পারে, সেই চেষ্টাই করা হয়েছে। সব গল্পেই শিশুরা ভিনদেশে তাদের যে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং খুশি মনে গ্রহণ করা হয়েছে, সে বিষয়টি তুলে ধরেছে।

ইতালি ও গ্রিসে এরই মধ্যে বইটি তুমুল জনপ্রিয় হয়েছে। এই দুই দেশে প্রচুর শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। প্রায় ৬০ হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী (এঁদের বেশির ভাগই সিরিয়ার) গ্রিসজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ীভাবে ও আনুষ্ঠানিক শিবির তৈরি করে থাকছেন। গত বছর শরণার্থীরা পশ্চিম ও উত্তর ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করায় বিভিন্ন বলকান দেশগুলো সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। এতেই গ্রিসের মতো দেশগুলোতে শরণার্থীদের ভিড় বেড়ে গেছে।

রয়টার্স অবলম্বনে

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here