শ্বেতাঙ্গদের সমাবেশের প্রতিবাদ, বর্ণবাদবিরোধী মিছিলে হাজারো মানুষ

0
42

উগ্র ডানপন্থীদের স্বঘোষিত ‘বাক্‌স্বাধীনতা’ সমাবেশের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে হয়েছে বর্ণবাদবিরোধী এক বিশাল মিছিল। গত শনিবার এই মিছিলে অংশ নেয় বর্ণবাদবিরোধী হাজারো মানুষ।

ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলে বর্ণবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহিংসতার এক সপ্তাহ পর বোস্টনে হলো বিরোধী এই দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ও মিছিল।

শনিবার স্থানীয় সময় বেলা দুটা পর্যন্ত ডানপন্থীদের সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। সহিংসতা এড়াতে এর আধা ঘণ্টা আগে থেকেই পুলিশ তাদের পাহারা দিয়ে রাখে। ফলে শার্লটসভিলের সহিংসতার মতো কোনো পুনরাবৃত্তি ঘটেনি বোস্টনে। তবে সহিংসতা না হলেও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে বোস্টন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অন্তত ৩৩ জনকে।

এদিকে কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যেই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নারী, পুরুষ ও শিশুরা বোস্টনে বর্ণবাদবিরোধী মিছিলে জড়ো হয়। ‘যুক্তরাষ্ট্রে নাৎসি, কেকেকে, ফ্যাসিবাদীদের ঠাঁই নাই’, ‘মুসলিমরা স্বাগত, বর্ণবাদীরা বেরিয়ে যাও’—এমন স্লোগান উঠে মিছিল থেকে।

বেশ দূর থেকে এসে বর্ণবাদবিরোধী মিছিলে যোগ দেন কেটি জিপস। তিনি বলেন, এখনই সময় কিছু করার। বর্ণবাদবিরোধী মিছিলে অংশ নেওয়া লিউইস গুডি বলেন, বোস্টন সুন্দর শহর। তবে এটি বরাবরই বর্ণবিদ্বেষী এক শহর।

বোস্টন পুলিশ কমিশনার উইলিয়াম ইভানস বলেন, ‘ভার্জিনিয়ায় যা ঘটেছে, তার পুনরাবৃত্তি হোক তা আমরা চাইনি। আমি মনে করি, সমাবেশ যাতে ঠিকভাবে হয়, তা নিশ্চিত করতে আমাদের বিভাগের নারী-পুরুষ এবং অন্য সংস্থাগুলো বেশ সহযোগিতা করেছে।’

শার্লটসভিলের সহিংসতার ঘটনায় বর্ণবাদী ও বর্ণবাদবিরোধী ‘উভয় পক্ষকে’ দোষারোপ করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু বোস্টনের সমাবেশ ও মিছিলের পর টুইটারে ট্রাম্প লেখেন, ‘বোস্টনের প্রতিবাদকারীদের আমি সাধুবাদ জানাই, যাঁরা ধর্মান্ধতা ও ঘৃণার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।’

এদিকে একই দিন বোস্টনের মতো আটলান্টা, অস্টিন, টেক্সাস, ডালাস, ডারহাম, নর্থ ক্যারোলিনা, নিউ অরলিন্সসহ অন্যান্য শহরে একই ধরনের মিছিল হয়েছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here