সৌদি নারীরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পাচ্ছেন

0
54
epa03928059 A Saudi woman sits behind the wheel of a car in Riyadh, Saudi Arabia, 28 October 2013. Media reports on 27 October state that Saudi authorities arrested 14 women for driving in the conservative kingdom. The women were detained in the capital Riyadh, the western cities of Jeddah and Mecca as well as the Eastern Province. Activists have published more than a dozen videos on YouTube showing women driving in defiance of the decades-long "ban," which makes the oil-producing kingdom the world's only country where women are not allowed to drive. EPA/STR

প্রথমবারের মতো গাড়ি চালানোর অনুমতি পাচ্ছেন সৌদি আরবের নারীরা৷ বাদশাহ সালমান মঙ্গলবার এই আদেশ জারি করেছেন বলে জানিয়েছে সেদেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম৷ আদেশ কার্যকর হলে আগামী গ্রীষ্ম থেকে নারীরা গাড়ি চালাতে পারবেন৷

১৯৯০ সালে রাজধানী রিয়াদের রাস্তায় প্রথম এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন ৫০ জন নারী৷ তখন গ্রেফতার করার পাশাপাশি তাঁদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে চাকুরিচ্যুতও করা হয়েছিল৷ এরপর ২০১১ সালে গাড়ি চালানোর অপরাধে এক নারীকে ১০ বার বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দেয় আদালত৷ তবে প্রয়াত বাদশাহ আব্দুল্লাহ পরে সেই শাস্তি মওকুফ করে দেন৷

মঙ্গলবার সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এ সংক্রান্ত একটি ফরমান জারি করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীদের গাড়ি চালনার সুযোগ দিতে এক মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে মন্ত্রণালয়। বাদশাহর ফরমান কার্যকর হবে ২০১৮ সালের জুন থেকে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির খবরে জানানো হয়েছে, রাজকীয় এই আদেশ অনুযায়ী নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হবে। প্রয়োজনীয় শরীয়াহ মানদণ্ড অনুসরণ করেই এই নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্বে একমাত্র সৌদি আরবেই নারীদের গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসার অধিকার ছিল না। বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হয় কেবল পুরুষদের। এই নিষেধাজ্ঞা ভেঙে প্রকাশ্যে কোনো নারী গাড়ি চালালে তাকে জেল জরিমানার মুখেও পড়তে হয়।

একমাত্র দেশ হিসেবে নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার হরণ করে রাখার বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবের ভেতরে দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছিল। বিনা অনুমতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে অনেক নারীকে কারাগারেও যেতে হয়েছে সৌদিতে। তার ওপর ‘নারীদের গাড়ি চালানোর মতো বুদ্ধি নেই’- সাদ-আল-হিজিরি নামের এক ধর্মীয় নেতার মন্তব্য অসন্তোষ আরও উসকে দেয়।

হিজিরির মন্তব্যের বিরোধিতা করে নারী অধিকার কর্মীরা তাকে বহিষ্কারের দাবি জানান।  রক্ষণশীলরা হিজিরির মন্তব্যকে সমর্থন জানালেও সমাজের বিভিন্ন মহল থেকেও নারীদের অধিকার সংরক্ষণের দাবি ওঠে। এই প্রেক্ষাপটেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করা হয়।

নারীদের গাড়ি চালানো পক্ষে ক্যাম্পেইনের অন্যতম সংগঠক মানাল আল শরীফ। তাকেও আইন অমান্য করে গাড়ি চালানোর দায়ে কারাগারে যেতে হয়েছিল।  এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, সৌদি আরব একই কাজ আর কখনোই করবে না।

সৌদি সরকারের এমন ঘোষণার পর জেদ্দায় সাহার নাসিফ নামের এক কর্মী বিবিসিকে বলেন, তিনি খুবই উদ্দীপিত। তিনি হাসছেন এবং লাফলাফি করছেন। নাসিফ বলেন, ‘আমি আমার স্বপ্নের কার কিনতে যাচ্ছি।’

নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতিসংক্রান্ত আদেশকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালেদ বিন সালমান। তিনি বলেছেন, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রিন্স খালেদ বিন সালমান আরো বলেন, ‘‘গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার জন্য নারীদের তাঁদের পুরুষ অভিভাবকদের অনুমতি নিতে হবে না৷ নারীরা তাঁদের ইচ্ছানুযায়ী যে কোনো জায়গায় গাড়ি চালাতে পারবেন৷’’

সৌদি সরকারের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র৷ জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন৷

 

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here