স্বর্গ থেকেও বাংলাদেশের খেলা দেখেন বারলো

0
44

এডি বারলো সেই কবেই চলে গেছেন পৃথিবীর মায়া ছেড়ে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের শুভ কামনাই করে গেছেন। স্ত্রী কেলি বারলোও তাঁর ব্যতিক্রম নন, হৃদয়ে তাঁর বাংলাদেশ নামটা সব সময়ই থাকে।

১৯৯৯ সালের শেষের দিকে গর্ডন গ্রিনিজ চলে যাওয়ার কিছুদিন পর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হয়ে এসেছিলেন এডি বারলো। বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়ে এ দেশে সস্ত্রীক পা রেখেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এ ব্যক্তিত্ব। জাতীয় ক্রিকেট লিগের জন্ম হয়েছে তাঁরই খসড়া মেনে। বছর দেড়েক জাতীয় কোচ থাকাকালীন বারলো মিশে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের মা-মাটি ও মানুষের সঙ্গে। কিন্তু স্ট্রোকের কারণে জীবনটা হুইল চেয়ারে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বারলো অনেকটা বাধ্য হয়েই বিদায় বলেছিলেন বাংলাদেশকে। ফিরে যাওয়ার সময় তাঁর সেই কান্নাভেজা মুখ এখনো অনেক ক্রিকেটারের চোখে ভাসে।
বারলো মারা গেছেন ২০০৫ সালে। তিনি বেঁচে থাকতেই এ দেশের মানুষ ও ক্রিকেটের প্রেমে মজেছিলেন তাঁর স্ত্রী কেলি বারলো। গত বছর এশিয়া কাপ ক্রিকেটের সময় সর্বশেষ বাংলাদেশে এসেছিলেন কেলি। ফাইনালের পর বলেছিলেন, ‘এশিয়া কাপে ফাইনালে খেলল বাংলাদেশ। আমার স্বামী বেঁচে থাকলে কত যে খুশি হতেন! তিনি নিশ্চয়ই স্বর্গের কোনো একটা জায়গা থেকে খেলা দেখেন আর বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান প্রজন্মকে শুভকামনা জানান।’
বারলো তাহলে স্বর্গের জানালা দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়টাও নিশ্চয়ই দেখেছেন! স্বামী লোকান্তরিত হওয়ার পর এখন কেলির বাস ইংল্যান্ডের গ্লুস্টারশায়ারে। সেখানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিড-ডে’কে কেলি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের যে জেতার সঠিক মানসিকতা আছে সেটা তিনি (বারলো) জানতেন। এখন তিনি খুশি হবেন যে, ব্যাপারটা ওরাও (খেলোয়াড়) জানে।’
বারলো যখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ডিরেক্টর অব কোচিং পদে, অস্ট্রেলিয়া তখন বিশ্বের সেরা দল। এখন সেই দলটা অতীত হলেও, ধারে-ভারে স্টিভেন স্মিথের দলটাকেও পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। ঢাকা টেস্টে এ দলকে ২০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। কেলির তাই গর্বের সীমা নেই। আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন, হাবিবুল বাশার, মেহরাব হোসেন, এনামুল হকদের মনে বারলো যে লড়াইয়ের মন্ত্রণা পড়ে দিয়েছিলেন, সময়ের পরিক্রমায় সাকিব-তামিমরা এখন সেটি বয়ে বেড়াচ্ছেন।
কেলির মতে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এ টেস্ট জয় ধারাবাহিকভাবে একটা অবস্থানে উঠে আসার ফসল। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি বাংলাদেশকে সব সময় বিশ্বাস করেছি এবং মনে হয়েছে এ মুহূর্তটা (ঢাকা টেস্ট জয়) জন্য তারা আগে থেকেই সঠিক অবস্থানে ছিল। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে খেলাটা তাদের বড় সাহায্য করেছে।’
বাংলাদেশ দল নিয়ে তো বারলোর ভাবনা ও আবেগের কোনো কমতি ছিল না। সেই প্রজন্মের ক্রিকেটারদের বারলোর দেওয়া অযুত পরামর্শের মধ্যে সেরা কোনটি? কেলি বললেন, ‘তাদের দেওয়া এডির সেরা পরামর্শ হলো, নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস রাখতে হবে। মনোযোগী হতে হবে নিজের খেলায়। ঠিকঠাক খেতে হবে। আর অবশ্যই খেলাটা উপভোগ করতে হবে।’
সেই প্রজন্মকে দেওয়া বারলোর এসব পরামর্শের প্রতিচ্ছবি এখন ফুটে উঠছে সাকিব-তামিম-মুশফিকদের খেলায়। স্বর্গের জানালায় থুতনি রেখে বারলো নিশ্চয়ই তা দেখছেন!

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here