হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণ এবং প্রতিরোধের উপায়

0
114

যখন অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহের অভাবে হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশির একটা অংশ মরে যায় তখনই হার্ট অ্যাটাকের মতো ঘটনা ঘটে। আর রক্তের শিরা-উপশিরায় রক্ত জমাট বাঁধার ফলে বা কোলেস্টেরল প্লাক জমার ফলে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহের অভাব দেখা দেয়।

প্রথমবার হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান। কিন্তু বাকি ১০ শতাংশ বাঁচতে পারেন না হাসপাতালে যেতে দেরি হয়ে যাওয়ার কারণে।

সুতরাং হার্ট অ্যাটাকের  সাধারণ  লক্ষণগুলো জেনে রাখুন। আর সেগুলো দেখা দেওয়া মাত্রই হাসপাতালে দৌড়ে যান এবং অকাল মৃত্যুর হাত থেকে জীবন রক্ষা করুন।

বুকে তীব্র ব্যথা
হার্ট অ্যাটাকের আগে বুকের মাঝখানে হঠাৎ করেই তীব্র ব্যথা দেখা দেয়। আর এই ব্যথা খুবই তীব্র এবং মোচড়ানোধর্মী ব্যথা। মনে হবে যেন কেউ আপনার বুকে নিষ্পেষণ করে হৃৎপিণ্ড থেকে প্রাণটি বের করে নিয়ে আসছে। অনেক সময় এই ব্যথা কিছুক্ষণ থাকার পর পুনরায় রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসলে চলে যায়। কিন্তু যদি রক্ত চলাচল স্বাভাবিক না হয় তাহলে সেই ব্যথা বাহু, পিঠ, ঘাড় এবং মাথায়ও ছড়িয়ে পড়ে।

চোয়ালে বা দাঁতে ব্যথা
হার্ট অ্যাটাকের আগে আগে এই লক্ষণটি নারীদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়। এর সঙ্গে বুকে ব্যথা থাকতেও পারে নাও থাকতে পারে।

তীব্র শ্বাসকষ্ট
এটি হার্ট অ্যাটাকের আরেকটি সাধারণ লক্ষণ। পানিতে ডুবে গেলে যেমন শ্বাসকষ্ট হয় তেমনই তীব্র শ্বাসকষ্ট হয় হার্ট অ্যাটাকের আগে। বুকে ব্যথা শুরু হওয়ার আগে বা বুকের ব্যথার পাশাপাশি এই লক্ষণটি দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত ঘাম ঝরা
অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আগে সাধারণত লোকের শরীর থেকে অঝোরে হিম ঘাম ঝরতে থাকে। কিন্তু এর সঙ্গে অন্যান্য লক্ষণগুলোও থাকবে তখন বুঝতে হবে আপনার হার্ট অ্যাটাক হতে যাচ্ছে।

. হজমে সমস্যা, মাথা ঘোরানো এবং বমি
গবেষণায় দেখা যায় হার্ট অ্যাটাকের কিছু পূর্ব থেকে অনেকেই বদহজমের সমস্যা এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সমস্যায় পড়ে থাকেন। এছাড়াও বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা যা আমরা অনেক স্বাভাবিকভাবেই নিয়ে থাকি তাও হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। এর পাশাপাশি হুট করে কোনো কারণ ছাড়াই মাথা ঘোরানো, বমি ভাব হওয়া এবং বমি করার বিষয়গুলো অবহেলা করবেন না।

৫) দেহের অন্যান্য অঙ্গে ব্যথা অনুভব
শুধু বুকে ব্যথাই নয় দেহের অন্যান্য বিশেষ কিছু অঙ্গে ব্যথা অনুভব হওয়াও হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। পেটের উপরের অংশ, কাঁধ, পিঠ, গলা, দাঁত ও চোয়াল এবং বাম বাহুতে হুট করে অতিরিক্ত ব্যথা হওয়া বা চাপ অনুভব অথবা আড়ষ্টতা অনুভব করার বিষয়টিও হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের উপায়-

১. স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের নিয়ম মেনে চলা। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। বেশি করে ফল ও সবজি খেতে হবে।

২. রক্তচাপ ঠিক রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা করা। এর ফলে রক্তচাপ ঠিক থাকে, ওজনও ঠিক থাকে।

৩. তামাকজাতীয় দ্রব্য বর্জন করতেই হবে।

৪. তামাকের মতো অ্যালকোহলে প্রচুর পরিমানে ক্যালোরি থাকে। অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে মদ্যপান ত্যাগ করতে হবে।

হার্ট অ্যাটাক হলে তাৎক্ষণিকভাবে করনীয়গুলো কী?

১. কারও হার্ট অ্যাটাক হলে প্রথমেই জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তার ডেকে আনতে হবে। কারণ অভিজ্ঞ ডাক্তার ছাড়াই কোনও ট্রিটমেন্ট করতে গেলে অনেকসময় রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়তে পারে।

২. হার্ট অ্যাটাকের পরপরই রোগীকে শক্ত জায়গায় হাত-পা ছড়িয়ে শুইয়ে দিন এবং গায়ের জামা-কাপড় ঢিলেঢালা করে দিন। আর সম্ভব হলে জামা-কাপড় খুলে ফেলুন।

৩. বাতাস চলাচলের রাস্তাগুলো সব উম্মুক্ত করে দিন। এরপর রোগীকে গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সহায়তা করুন।

৪. হার্ট অ্যাটাকের পর হাতের কব্জিতে পালস টেস্ট না করে বরং ঘাড়ের কোনও একপাশে পালস টেস্ট করুন। কারণ নিম্ন রক্তচাপের কারণে হার্ট অ্যাটাকের পর হাতের কব্জিতে পালস নাও ধরা পড়তে পারে।

৫. হার্ট অ্যাটাকের পর যদি রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তাকে কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেন সরবরাহের চেষ্টা করুন।

৬. হার্ট অ্যাটাকের পর রোগীর যদি বমি আসে তাহলে তাকে একদিকে কাত করে দিন। যাতে সে সহজেই বমি করতে পারে। এতে ফুসফুসের মতো অঙ্গে বমি ঢুকে পড়া থেকে রক্ষা পাবেন রোগী।

৭. হৃদপিন্ডে রক্তের সরবরাহ বাড়াতে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তির দুটো পা-ই উপরের দিকে তুলে ধরুন।

৮. হার্ট অ্যাটাকের পর হৃদপিন্ডে রক্তের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য বাজারে প্রচলিত ওষুধও রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে খাইয়ে দিতে পারেন।

৯. হার্ট অ্যাটাকে রোগী যদি অচেতন হয়ে পড়েন তাহলে সিপিআর থেরাপি প্রয়োগ করুন। সম্প্রতি আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন হ্যান্ডস অনলি সিপিআর নামে এই থেরাপির একটি সরলীকৃত ভার্সন ভিডিও আকারে বাজারে ছেড়েছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here