অবিলম্বে গৃহীত হোক | শিক্ষা আইনের খসড়া

0
47

কোচিং-বাণিজ্য আর প্রাইভেট টিউশনির বাড়াবাড়ির ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চর্চা প্রায় উঠে যাচ্ছে। আর নোট বই, গাইড বই, অনুশীলন-সহায়ক বই ইত্যাদির ভিড়ে শিক্ষার্থীদের কাছে অপাঙ্‌ক্তেয় হয়ে যাচ্ছে মূল পাঠ্যবই। ‘সৃজনশীল’ পরীক্ষাব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মূল পাঠ্যবই পড়া ও আত্মস্থ করার দিকে অধিকতর মনোযোগী হওয়ার প্রত্যাশা ছিল; কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। কিন্তু এসব ক্ষতিকর প্রবণতা রোধ করার জন্য কোনো আইন ছিল না। গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষা আইনের একটা খসড়া ‘নমনীয়’ তৈরি করা হলো, তাতে ‘সহায়ক বই’ বা ‘অনুশীলন বই’ প্রকাশ করার সুযোগ রাখার প্রস্তাব থাকল। আর কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনির সুযোগ চালু রাখার মতলবে আইনের খসড়ায় ‘ছায়া শিক্ষা’র কৌশল প্রস্তাব করা হলো।

শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ধ্বংসাত্মক হতে পারে এমন একটি শিক্ষা আইনের খসড়া কাদের দুরভিসন্ধি সাধনের মতলবে করা হয়েছিল আমরা জানি না। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন সচেতন মহলের তীব্র প্রতিবাদে ওই খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফেরত এনে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রণীত নতুন খসড়ায় কোচিং-বাণিজ্য, প্রাইভেট টিউশনি, নোট বই, সহায়ক বা অনুশীলন বই নিষিদ্ধ করা একটা সুসংবাদ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এসব কাজ করলে কারাদণ্ড, জরিমানা এবং সরকারি চাকুরের ক্ষেত্রে চাকরিচ্যুতির বিধান করা হয়েছে। এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যে আট ধরনের অপরাধের দায়ে এমপিও বাতিল করা পর্যন্ত যেসব শাস্তির বিধান করা হয়েছে, সেগুলোও যথার্থ।

শিক্ষা আইনের খসড়াটি নানা দিক থেকে উপকারী হবে। আমরা আশা করি, এটা এভাবেই মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন পেয়ে সংসদে উত্থাপিত ও গৃহীত হবে। কিন্তু তার পরেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি সামনে চলে আসবে। সেটা হলো এই আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চর্চা ও শিক্ষার্থীদের মূল পাঠ্যবই পড়াসহ নিজের চেষ্টায় জানার স্পৃহা বাড়ানোর দিকে মনোযোগী হতে হবে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here