পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া প্রত্যয়নপত্র অর্থহীন | জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কাণ্ড!

0
86

শনিবার প্রথম আলোর খবরে প্রকাশ, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে নির্দেশ পেয়ে গৌরনদীর ১২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ৩ অক্টোবর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরে হাজির হন। এ সময় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী তাঁদের প্রত্যেকের হাতে আগে থেকে তৈরি করা একটি করে প্রত্যয়নপত্র ধরিয়ে দিয়ে স্বাক্ষর করতে বলেন, যাতে বিদ্যালয়ে থাকা গভীর নলকূপের পানিতে আর্সেনিক, আয়রন, ক্লোরাইড ইত্যাদির মাত্রা কত, তা লেখা ছিল। এমনকি যেসব বিদ্যালয়ে গভীর নলকূপ নেই, সেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকেও প্রত্যয়নপত্রে সই নেওয়া হয়।

গভীর নলকূপের পানিতে আর্সেনিক বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান আছে কি নেই, তা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে গৌরনদীর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর গভীর নলকূপের পানি পানযোগ্য কি না, তা জানতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জরিপ চালানোর কথা। কিন্তু জরিপ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর নেওয়া দুঃখজনক।

যেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষাই হয়নি, সেখানে কী করে প্রত্যয়নপত্র তৈরি করা হলো? সেখানকার নলকূপে যদি সত্যি সত্যি আর্সেনিক বা অন্য কোনো ক্ষতিকর উপাদান থাকে, তাহলে সেই পানি যারা পান করবে, তারা অসুস্থ হয়ে পড়বে, নানা ব্যাধির শিকার হবে। অথচ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর শিক্ষকদের কাছ থেকে আগাম প্রত্যয়নপত্র লিখিয়ে নিচ্ছে যে এলাকার নলকূপে আর্সেনিক নেই। প্রত্যয়নপত্রের নামে এলাকাবাসী তথা শিশুশিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে এই তামাশা চলতে পারে না।

অবিলম্বে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এই আগাম প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার কাজটি বন্ধ করা হোক। একই সঙ্গে যিনি বা যাঁরা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here