ভবিষ্যতের বাংলাদেশ, আমাদের আশা ও প্রত্যাশা

0
40

* তরুণদের রাজনীতিতে যুক্ত করার জন্য উপযুক্ত সুযোগ তৈরি করতে হবে

* তরুণদের মতপ্রকাশের সুযোগ িদতে হবে

* তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন

* তরুণদের জন্য সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বাড়াতে হবে

* মফস্বল ও গ্রামের তরুণদের জন্য সমান সুযোগ তৈরির ব্যবস্থা করা দরকার

* সরকারি নীতি িনর্ধারণের ক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ িনশ্চিত ও মতামতকে প্রাধান্য িদতে হবে

* তরুণদের মধ্যে প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য কাজ করা জরুরি

আলোচনা

আব্দুল কাইয়ুম: গত বছর প্রথম আলো ১৮ বছরে পদার্পণ করেছে। আমরা মনে করি, ১৮ বছর তারুণ্যের একটা শক্তি। আমরা চাই আমাদের পত্রিকার মাধ্যমে যেন এই তারুণ্যের শক্তিকে আরও প্রসারিত করতে পারি। আর এই চিন্তা থেকেই আমরা আমাদের দেশের তরুণদের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে জানতে চাই। তঁারা দেশ সম্পর্কে কী ভাবছেন, দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ নিয়ে কী ভাবছেন, তা আমরা জানতে চাই। এই তরুণদের নেতৃত্বে আজ থেকে ১০ বা ১৫ বছর পর উন্নয়নের পথে দেশ কত দূর এগিয়ে যাবে, আমাদের সেই স্বপ্ন নিয়ে আলোচনার জন্য মূলত তরুণদের অংশগ্রহণে আজকের এই গোলটেবিল বৈঠক।

মুনীরুজ্জামান: বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ তরুণ এবং এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে। এককথায় বলতে গেলে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সম্পূর্ণভাবে তরুণসমাজের ওপর। কাজেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশের কী রূপরেখা হবে, সেটা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের তরুণসমাজ। বাংলাদেশের তরুণদের ওপর আমাদের যথেষ্ট আশা, প্রত্যাশা ও আস্থা রয়েছে।

আসিফ মোহাম্মদ শাহান

আসিফ মোহাম্মদ শাহান: তরুণদের চিন্তাভাবনা নিয়ে প্রথম আলো যে জরিপটি করেছে, সেখানে একটি বিষয় উঠে এসেছে যে আমাদের দেশের তরুণেরা অনেক বেশি রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়ছেন। আমাদের দেশের বর্তমান রাজনীতির ধারাটি আমাদের দেশের তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে তরুণদের দোষারোপ করার কোনো অবকাশ নেই। কারণ, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ তঁাদের আগ্রহ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

কিন্তু একটা বিষয় আমাদের মনে রাখা দরকার যে আমাদের সামাজের কোনো কিছুই রাজনীতির বাইরে নয়। আমরা বাংলাদেশকে যে উচ্চতায় নিতে চাই, সমাজের যত উন্নয়ন করতে চাই, রজনীতির বাইরে গিয়ে তা কখনোই সম্ভব হবে না। আর সেই রাজনীতিতে তরুণদের সরব অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক বলে আমি মনে করি।

ইরিনা মাহমুদ

ইরিনা মাহমুদ: বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নের অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। আমাদের পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষা খাতে অর্থায়নসহ অনেক ক্ষেত্রে আমাদের উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের অনেক অর্জন রয়েছে, কিন্তু আরও উন্নতির জন্য আমাদের কাজ করে যেতে হবে।

কয়েক বছর পরপরই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যক্রমে কিছু পরিবর্তন করা হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা আমাদের বড় একটা অর্জন। তারপরও আমাদের পাঠ্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য আমাদের গবেষণার মাধ্যমে একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।

আর এই বিষয়গুলোর উন্নয়ন করতে হলে আমাদের অবশ্যই শিক্ষা খাতে অর্থায়ন বাড়াতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের শিক্ষা খাতে অর্থায়ন অনেক কম। অর্থায়ন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রের অবকাঠামোকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন আমরা আগামী ১৫ বা ২০ বছর পর বিশ্বায়নের প্রতিকূলতাগুলোকে দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারি।

 

সজল কুমার দাশ

সজল কুমার দাশ: বাংলাদেশে যে ইন্টারনেটের ব্যবস্থা বর্তমানে রয়েছে, তা একেবারেই বড় শহরকেন্দ্রিক। ছোট শহর, মফস্বল শহর ও গ্রামে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট ব্যবস্থা একেবারেই নেই। মোবাইল অপারেটরগুলো স্বল্প পরিসরে হয়তো ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছে, কিন্তু তা একেবারেই অপ্রতুল। দেশের সর্বত্র নির্ভরযোগ্য ও সুলভ ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা দরকার।

আরেকটি বিষয় হলো, আমাদের অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে মতাদর্শের সংঘর্ষ আমরা লক্ষ করছি। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বিষয়টি বেশি দেখা যাচ্ছে। আমাদের অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা আরও বৃদ্ধির জন্য সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here