ঈদ উপহার বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের

0
349

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে বৃহস্পতিবার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বিজয়ের আনন্দ মিরপুর স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। এ বিজয়কে ঈদ উপহার হিসেবে মনে করছে ক্রিকেটভক্তরা।

শুধু টেস্টে বিজয়ী হওয়া নয়, বুধবারের জয়ের মাধ্যম বাংলাদেশ দল টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে গেছে। র‌্যাংকিং এ নিজেদের অবস্থান ৯ম থেকে উন্নীত করে ৮ম অবস্থানে পোঁছেছে বাংলাদেশ। এজন্য ঈদপূর্ব এবার বিজয়টা বাংলাদেশের জন্য দ্বিগুণ আনন্দ এনে দিয়েছে।

রোববার থেকে শুরু হওয়া টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের দেয়া ২৬৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে বুধবার ২৪৪ রানেই অলআউট হয় অজিরা। ক্যাঙ্গারু বধ করে ২০ রানের জয় পায় টাইগাররা।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে হেড টু হেড পাঁচ ম্যাচে প্রথমবারের মতো হারের স্বাদ পায় স্মিথ বাহিনী। আর ১০১ টেস্টে বাংলাদেশ তুলে নেয় দশম জয়। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে ম্যাচ সেরা হন সাকিব।

এর আগে সকালটা নিজেদের করে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালান সাকিব-তাইজুলরা। একের পর এক আঘাতে স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারকে টলিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালান তারা। তবে ওয়ার্নারের মারকুটে ব্যাটিং এবং স্মিথের যোগ্য সঙ্গ দিনটি বাংলাদেশের হবে না বলেই মনে করাচ্ছিল। ভাবনায় ছিল ফতুল্লার আক্ষেপেই নাকি পুড়ে মিরপুর টেস্ট।

তবে বিশ্বসেরার জাদু যে ছিল বাকি। সাকিব তার ঘূর্ণি জাদুতে মোহিত করে বিদায় দেন সেঞ্চুরিয়ান ওয়ার্নারকে। ১৬৪ বলে ১১২ রান করা  ওয়ার্নার ফেরার পরেই উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠেন টাইগাররা সদস্যরা।

এরপর আবার ছোবল হানেন সাকিব। ফিরে যান অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। দলকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টায় ছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত ৩৭ রানে সাকিবের বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরত যান তিনি।

ওয়ার্নার ও স্মিথ ফেরত যাওয়ার পর অনেকটাই স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশ শিবিরে।

এরপর আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। ২৫ বলে ১৫ রান করা হ্যান্ডসকম্বকে ফেরান তিনি। স্লিপে দাঁড়ানো সৌম্য সরকার প্রথম চান্সে বলটি ছেড়ে দিলেও দ্বিতীয় চেষ্টায় লাফিয়ে ওঠা বলটি তালুবন্দি করেন সৌম্য।

৬ষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট তুলে নেন সাকিব। সকালে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা সেঞ্চুরিয়ান ডেভিড ওয়ানার্র ও অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে ফেরানোর পর আরেক মারকুটে ব্যাটসম্যান ম্যাথু ওয়েডকে ফেরান তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ওয়েড করেন ৪ রান।

আর লাঞ্চের আগে তাইজুল ঘূর্ণিতে উড়ে যান ২ রান করা অ্যাস্টন আগার। তাইজুলের বলেই তাকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন আগার।

লাঞ্চের পর ফিরে এসেই সাজঘরে ফিরে টাইগারদের জয়ের সুবাতাস পাইয়ে দেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। সাকিবের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ১৪ রান করা ম্যাক্সওয়েল।

এদিকে ম্যাক্সওয়েলের উইকেট নিয়ে ফের ৫ উইকেট নেয়ার অনন্য নজির গড়লেন সাকিব।

আর ম্যাচে নিলেন ১০ উইকেট! টেস্টে এনিয়ে দ্বিতীয়বার ১০ উইকেট পেলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার।

এর পর মেহেদী মিরাজের আঘাতে ফিরে যান নাথান লায়ন। ১২ রান করা লায়ন ফিরে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়া হারায় নবম উইকেট।

সর্বশেষ তাইজুলের আঘাতে শূন্যরানে হ্যাজলউড ফিরে গেল বাংলাদেশ গড়ে ইতিহাস।

সাকিব নেন ৫ উইকেট, তাইজুল ৩ ও মিরাজ নেন ২ উইকেট।

এর আগে টাইগাররা তাদের দ্বিতীয় ইনিংস ২২১ রানে শেষ করে, আগের ৪৩ রানের লিডসহ অজিদের সামনে দাঁড়ায় ২৬৫ রানের টার্গেট।

রোববার টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে ২৬০ রানে অলআউট হয়। দলের পক্ষে সাকিব ৮৪ এবং তামিম ৭১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পেট কামিন্স, নাথান লায়ন ও অ্যাস্টন আগার প্রত্যকেই ৩টি করে এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ১টি উইকেট লাভ করেন।

জবাবে ম্যাট রেনশ এবং শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ২১৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া। রেনশ ৪৫, হ্যান্ডসকম্ব ৩৩, পেট কামিন্স ২৫, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২৩ এবং অ্যাস্টন আগার ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হয়ে সাকিব আল হাসান ৫টি, মেহেদী হাসান মিরাজ ৩টি এবং তাইজুল ইসলাম ১টি উইকেট লাভ করেন।

এদিকে বাংলাদেশের জয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া এ ঐতিহাসিক জয়কে বাংলাদেশের মানুষের ঈদ উপহার বলে মন্তব্য করেছেন।
image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here