উচ্চতা নিয়ে সমস্যায় আছে টাইগাররা

0
333

পচেফস্ট্রুমে টাইগারদের আবাসস্থলটা একটু অন্যরকম। বিদেশবিভূঁইয়ে এমনিতে পাঁচ তারকা মার্কা হোটেলে উঠলেও এবার মুশফিক-তামিমরা ঘাঁটি গেড়েছেন একটি স্পোর্টস ভিলেজে। অনেকটা বিকেএসপির মতো। তবে সুইমিংপুল-জিমসহ সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে পচেফস্ট্রুমের সেই ভিলেজে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, প্রথম টেস্টের ভেন্যু শেনওয়েস পার্ক হাঁটা দূরত্বে। মিনিট পাঁচেক হেঁটে গতকাল সকালে প্রথমবারের মতো শেনওয়েস পার্কে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। তবে মাঠ হাঁটা দূরত্বে হলেও একটি বিষয় ভালোই ভোগাচ্ছে টাইগারদের। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার শহরগুলোর উচ্চতা অনেক বেশি। প্রস্তুতি ম্যাচে এ উচ্চতার জন্য ভালোই সমস্যায় পড়েছিল টাইগাররা।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রায় নব্বই শতাংশই সমতল ভূমি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ঢাকার উচ্চতা মাত্র ৪ মিটার। সে তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকার শহরগুলোর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা চোখ কপালে ওঠার মতো। তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের ভেন্যু বেনোনির উচ্চতা ছিল ১৭৫৩ মিটার আর প্রথম টেস্টের ভেন্যু পচেফস্ট্রুমের উচ্চতা ১৩৪১ মিটার। এত উচ্চতায় খেলা তো পরের বিষয়, স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতেই তো সমস্যা হওয়ার কথা। উচ্চতার সমস্যার কথা গোপন করেননি তাসকিন আহমেদ। পচেফস্ট্রুমে পৌঁছার পর তিনি জানিয়েছেন, প্রস্তুতি ম্যাচে উচ্চতার জন্য তারা সমস্যায় পড়েছিলেন, ‘এখানে উচ্চতা (সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে) অনেক বেশি। প্রস্তুতি ম্যাচের সময় তাই আমাদের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে আমরা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আশা করছি, প্রথম টেস্টের আগেই এসব বিষয় ঠিক হয়ে যাবে।’

বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের অবশ্য এর চেয়েও বেশি উচ্চতায় খেলার অভিজ্ঞতা আছে। গতবছর টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের ধর্মশালায় ২০৮২ মিটার উচ্চতায় খেলেছিলেন তারা। তবে সেটা ছিল কুড়ি ওভারের ম্যাচ। আর এখন পাঁচ দিনের টেস্ট প্রস্তুতি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাভাবিক উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি টাইগারদের। তাসকিনের অভিযোগ, বেনোনির উইলমোর পার্কের উইকেট নাকি অনেকটাই বাংলাদেশের মতো, ‘উইকেট (বেনোনির) ছিল একেবারে ফ্ল্যাট ও মন্থর। অনেকটাই আমাদের দেশের মতো। আমার মনে হয় না প্রথম টেস্টের উইকেট প্রস্তুতি ম্যাচের মতো।’

পচেফস্ট্রুমের অবস্থা অবশ্য একটু ভিম্ন। গতকাল এখানে প্রথমবারের মতো অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। অনুশীলনের ফাঁকেই রুবেল হোসেন জানিয়েছেন, উইকেটে ভালোই বাউন্স আছে।

কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই প্রথম টেস্টের দশ দিন আগে সেখানে গেছে বাংলাদেশ। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমিগ্রেশন থেকে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ছাড়পত্র পেতে দেরি হওয়ায় একটু দেরিতে জোহানেসবার্গে পৌঁছান রুবেল হোসেন। তাই তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলা হয়নি ডানহাতি এ পেসারের। এর পরও দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন নিয়ে তার ভালোই ধারণা আছে, ‘আমরা জানি, সাধারণত দক্ষিণ আফ্রিকায় পেসারদের জন্য সুবিধা থাকে। উইকেটে বাউন্স থাকে। কন্ডিশন অনুযায়ী মাঝে মধ্যে বল সুইং করে।’ দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটের এসব বৈশিষ্ট্যের কথা অবশ্য সবাই জানে। বাউন্সি উইকেটে পরিকল্পনা করে বোলিং করাটাই নাকি আসল বলে জানালেন রুবেল, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা পেস বোলারদের জন্য আদর্শ জায়গা। আমাদের পেসাররা যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী জায়গামতো বোলিং করতে পারেন, তাহলে সাফল্য আসবে।’

রুবেল বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন লাইন-লেন্থের ওপর। গত কিছু দিন এ বিষয় নিয়ে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। উপমহাদেশের উইকেটে যে লেন্থে বোলিং করে পেসাররা, দক্ষিণ আফ্রিকায় সেটা একটু পরিবর্তন করতে হয় বলেও জানালেন ২৭ বছর বয়সী এ পেসার, ‘যেহেতু উইকেটে বাউন্স থাকে, তাই লাইন-লেন্থ সে অনুযায়ী রাখতে হয়। বাউন্সি উইকেটে একটু টেনে বোলিং করতে পারলে ব্যাটসম্যানকে বিপদে ফেলা যাবে। কন্ডিশনের সঙ্গে আমাদের দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।’ বাউন্সি উইকেটে লেন্থটা ঠিক করাই নাকি এখন তাদের মূল কাজ।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here