শেষ বলে দরকার ছিলো ৫ রান

0
49
শেষ বলে দরকার ছিলো ৫ রান।

শেষ বলে দরকার ছিলো ৫ রান।

অফ স্ট্যাম্পের একটু বাইরের বলে সর্বশক্তি দিয়ে ব্যাট চালিয়ে দিলেন দিনেশ কার্তিক। হয়ে গেলো ছক্কা। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা শোকে- হতাশায় মাটিতে বসে পড়ল। আর উচ্ছ্বাসে মেতে উঠলো ভারতীয়রা। ভারতের কোচ রবি শাস্ত্রী আশেপাশে যাকে পাচ্ছিলেন, জড়িয়ে ধরছিলেন। তাদের সবার চোখে আনন্দের অশ্রু। এই টুর্নামেন্ট জিতে মাঠে ল্যাপ অব অনারও দিলো রোহিত শর্মার দল। আর ফেসবুক-টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভারতীয়রা অভিনন্দন জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়েছে তাদের দলকে। এদের মধ্যে আছেন শচীন টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে সাবেক-বর্তমান অগণিত ক্রিকেট তারকা, বিশ্লেষক ও বলিউড তারকারা। রবিবার শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফি জয়ের পর এই চিত্র দেখা গেল ভারতীয় শিবিরে।

ভারতীয়দের এই উল্লাসই বলে দিয়েছে বাংলাদেশকে হারিয়ে ট্রফি জেতা এখন ‘কত্তো বড় ব্যাপার’ তাদের জন্য। অথচ একসময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতলে কোনো আনন্দই প্রকাশ করত না তারা। নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সাথে হাত মিলিয়ে হাটা দিত ড্রেসিং রুমের দিকে। ধরে নিত এটাই স্বাভাবিক ফল। উচ্ছ্বাস প্রকাশের কি আছে।

কিন্তু এই বাংলাদেশ আর সেই বাংলাদেশ নয়। গলা উঁচু করেই এখন বলতে পারি, আমরা ক্রিকেটের নতু ‘পরাশক্তি’। এই শব্দটায় এখন আর কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। বাংলাদেশ কেবল একটা ট্রফি জেতা ছাড়া গত কয়েক বছরে সম্ভব সবকিছুই করেছে। ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকাকে ওয়ানডে সিরিজ হারিয়েছে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট জিতেছে। বাংলাদেশ গত ৯ বছরে ৫টি ভিন্ন ভিন্ন টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছে। এর মধ্যে তিন মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ খেললো একটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল।

দুর্ভাগ্যের ফেরে ৫ ফাইনালেই পরাজয় এসেছে। প্রথম ফাইনালে ঢাকায় ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ হেরে গিয়েছিলো মুত্তিয়া মুরালিধরণের ব্যাটিংয়ের কাছে। এরপর ২০১২ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপের ফাইনালে মাত্র ২ রানে হেরে কাঁদতে হয়েছিলো পুরো দেশকে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ খেলেছিলো এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনাল। আর সর্বশেষ দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ।

এবার খেললো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল। ফাইনালে ওঠার পথটা ছিলো নাটকীয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দুই শতাধিক রান তাড়া করে জিতেছিলো মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ভর করে। এরপর সেই শ্রীলঙ্কাকে আবার টানটান উত্তেজনার ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে ভর করে হারায় বাংলাদেশ। রিয়াদের এক ছক্কায় জিতেছিলো বাংলাদেশ। এবার দিনেশ কার্তিকের এক ছক্কায় হেরে গেলো সেই বাংলাদেশ।

একটা বিষয় পরিষ্কার যে, বাংলাদেশ সাফল্যের খুব কাছাকাছি যেতে শিখে গেছে। টুর্নামেন্ট জুড়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক খেলা দৃষ্টি আকর্ষন করেছে প্রতিপক্ষেরও। খোদ ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মাও মুগ্ধ বাংলাদেশের খেলা দেখে। তিনি ম্যাচশেষে বলেছেন, ‘ওরা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে, এটা সব সময়ই ভালো। কখনো কখনো এতে হিতে বিপরীত হয় বটে, যখন সবকিছু আপনার পক্ষে থাকে না। কিন্তু এটাই ওদের ধরন। তারা অবশ্যই দারুণ একটা দল। গত তিন বছরে আমার দেখেছি ওরা কতটা বদলে গেছে। ওদের বেশ কজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে, যারা উঠতি ক্রিকেটারদের পথ দেখাচ্ছে।’

এই ভয়ডরহীন বীরত্বপূর্ন ক্রিকেট নিয়ে মুগ্ধ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও। তিনি গতকাল বিমানবন্দরে দলের সাথে পৌছানোর পর বলেছেন, বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা হারলেও বীরের মতো লড়াই করেছে। আমি ওদেরকে বলেছি, একদল জিতবে আরেক দল হারবে। তবে আমরা ভালো খেলা দেখতে চাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here