উদ্বোধনী জুটিতে দুই শ রান করেছে স্বাগতিক দল

0
76

মধ্যাহ্নবিরতি পেরিয়ে চায়ে চুমুক দেওয়ার আগ মুহূর্তে এসে বাংলাদেশ ব্লুমফন্টেইনে প্রথম উইকেটের দেখা পেল। এর মাঝেই প্রথম টেস্টের অপূর্ণ কাজটি সেরে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। উদ্বোধনী জুটিতে দুই শ রান করেছে স্বাগতিক দল। এইডান মার্করামও পেয়েছেন নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। ডিন এলগারও তুলের নিয়েছেন আরেকটি সেঞ্চুরি।
তা-ও ভাগ্য, চা-বিরতির আগে ১১৩ রান করে ফিরেছেন এলগার। ৫৩.৪ ওভারে প্রথম সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ ৩২২ বল প্রয়োজন হয়েছে ১ উইকেট পেতে। সংখ্যাটা ভয় জাগানোর মতো। বাংলাদেশের বোলাররা এক মুহূর্তের জন্যও উইকেট পাওয়ার আশা দেখাচ্ছেন না। এটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য অতি পরিচিত দৃশ্য। দেশের বাইরে বাংলাদেশের চেয়ে বাজে দল যে আর নেই!
টেস্টে প্রতিপক্ষের মাঠে ৪৯ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এসব ম্যাচে ৪৬০ উইকেট পেয়েছে বাংলাদেশের বোলাররা। ম্যাচপ্রতি ১০-এরও কম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এ উইকেটগুলো বাংলাদেশ পেয়েছে ৫৩.০৫ গড়ে। আর শুধু বোলারদের কথা মাথায় আনলে গড়টা বেড়ে ৫৫.০৮তে ঠেকে। বোলিং গড়ে বাংলাদেশের মতো এমন করুণ দশা আর কোনো দলের নেই। জিম্বাবুয়েও প্রতিপক্ষের মাঠে ৫১১ উইকেট পেয়েছে, সেটাও বাংলাদেশের চেয়ে কম ম্যাচ (৪৬) ও অনেক কম গড়ে (৪২.২৫)। স্ট্রাইক রেট বিবেচনা করলেও বাংলাদেশের অবস্থা ভুলে যাওয়ার মতো। প্রতি ৯২.৩ বলে এক উইকেট পান বাংলাদেশের বোলাররা। বাংলাদেশের ধারে কাছে আছে শুধু জিম্বাবুয়ে (৮৫.২)। বিশ্বের অন্য কোনো দলকে উইকেট পেতে ৮০ বল অপেক্ষা করতে হয় না।
যদি ভেবে থাকেন স্পিননির্ভর বোলিং আক্রমণ দেশের বাইরে খারাপ করছে বলেই এ অবস্থা, তবে ভুল করবেন। কারণ, পেস-বান্ধব উইকেটেও বাংলাদেশের পেসারদের পারফরম্যান্স প্রশ্নবিদ্ধ। ব্লুমফন্টেইন টেস্টের আগে খেলা ৪৯ টেস্টে ২৪৫ উইকেট পেয়েছেন পেসাররা। উইকেট-সংখ্যায় স্পিনারদের পেছনে ফেলছেন বটে, কিন্তু গড়ে (৫৮.১৭) কিংবা স্ট্রাইক রেটে (৯২.৫) পেসাররা পিছিয়েই থাকছেন। কোর্টনি ওয়ালশ দলের বোলিং দায়িত্ব নেওয়ার পর নিউজিল্যান্ড কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও পেস বোলারদের পারফরম্যান্স খুব একটা আশা দেখাচ্ছে না।

টেস্টে প্রতিপক্ষের মাঠে বিভিন্ন দলের পারফরম্যান্স 

দল ম্যাচ উইকেট গড় স্ট্রাইক রেট
বাংলাদেশ ৪৯ ৪৬০ ৫৩.০৫ ৯২.৩
জিম্বাবুয়ে ৪৬ ৫১১ ৪২.২৫ ৮৫.২
শ্রীলঙ্কা ১৩০ ১৬৬২ ৩৯.০৮ ৭৬.১
পাকিস্তান ২৬১ ২৪১২ ৩৩.৮৩ ৬৮.৮
ভারত ২৫৪ ২৩৪৬ ৩৮.২৮ ৭৯
নিউজিল্যান্ড ২১৮ ২০৩০ ৩৬.৭৮ ৭৭.৪
দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৫ ১৮৯৪ ৩২.৯৬ ৭০.০
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৮৬ ২৭৮৮ ৩৩.০০ ৭০.৭
অস্ট্রেলিয়া ৩৯৩ ৩৭৮৭ ৩০.৪০ ৬৬.৯
ইংল্যান্ড ৪৮২ ৭২৩৮ ৩১.৮৪ ৭২.৭
image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here