আবাহনীর জয় কেড়ে নিলেন জাহেদ

0
44

অমলেশ সেনকে হারিয়ে আবাহনী দলটা আছে শোকের চাদরে। জার্সিতে কালো ফিতা লাগিয়ে তারা ওয়ার্ম আপে নেমেছে প্রতিপক্ষ শেখ জামালের মিনিট দশেক পরে। আকাশি-নীল জার্সিধারীদের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল কতটা কষ্ট নিয়ে মাঠে নেমেছে তারা। ম্যাচ শেষে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে হতাশা। শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে শেখ জামালের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগিতেই (১-১) সন্তুষ্ট হয়েছে ঢাকা আবাহনী।

শিরোপা দৌড়ে ভালোভাবে টিকে থাকতে দুই দলেরই প্রয়োজন ছিল জয়। ফলে ম্যাচটিও হয়েছে গতিনির্ভর। দেখা গেছে দুর্দান্ত কয়েকটি মুভ। ৩৮ মিনিটে ইমন বাবুর সঙ্গে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ করেও ফিনিশিং দিতে ব্যর্থ হয়েছেন নাবিব নেওয়াজ জীবন। বাম প্রান্ত দিয়ে ঢুকে বক্সের ওপর ইমনকে পাস দিয়ে ফাঁকা জায়গা তৈরি করেছিলেন জীবন। প্রতিপক্ষ সেন্টারব্যাক মামুন মিয়া ও রাইটব্যাক খান তারার মাঝ দিয়ে ইমনের কাছ থেকে পেয়েছিলেন দুর্দান্ত পাসও। গোলমুখে বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলেও দেরি করে ফেলায় পোস্ট ছেড়ে ব্লক করে ফেলেন জামালের গোলরক্ষক মিতুল হোসেন।
এর আগে ১৯ মিনিটেও রুবেল মিয়ার ক্রসে গোলমুখ থেকে হেডে বল জালে রাখতে পারেননি জীবন। এ ছাড়া তাঁর পায়ে গিয়েই বারবার নষ্ট হয়েছে আবাহনীর সম্ভাবনাময় আক্রমণগুলো; যা দেখে মনে হচ্ছিল, জীবনের পায়েই মৃত্যু লেখা আছে আবাহনীর জয়ের স্বপ্নের। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের ৫৭ মিনিটে হেডে গোল করে আবাহনীকে এগিয়ে দিয়েছেন জীবনই। লেফটব্যাক ওয়ালী ফয়সালের ক্রসে গোললাইন থেকে বলটা গোলে না রাখা ছাড়া আর কোনো উপায়ও ছিল না তাঁর।
গোল হজম করে যেন ঘুম ভাঙল আফুসি জোসেফের। দাবার চালের মতো গুনে গুনে দুটি চাল দিলেন শেখ জামাল কোচ। প্রথমে গাম্বিয়ান স্ট্রাইকার মোমোদুহ বাহকে তুলে মাঠে নামালেন নাইজেরিয়ান রাফায়েল ওডোইনকে। আর আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার এনামুল হকের স্থলে জাহেদ পারভেজ। শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে সলোমন কিংয়ের প্লেসিংয়ে বক্সের ওপর থেকে জোরালো প্লেসিংয়ে জামালকে সমতায় ফিরিয়েছেন জাহেদই। ফুটবল-জীবনের অধিকাংশ সময়ই কেটেছে যাঁর আবাহনীতেই।

এর আগেই হয়েছে বড় এক নাটক। ৮৪তম মিনিটে রাফায়েল ওডোইনের শট গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল ঠেকানোর পর সামনে থাকা সলোমনের পায়ে লেগে গোলের দিকে ছোটে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করেন টুটুল হোসেন বাদশা। পরে বল গোললাইন অতিক্রমের দাবিতে উত্তেজিত হয়ে ওঠে ডাগ আউটে থাকা শেখ জামালের কোচ আফুসি ও খেলোয়াড়েরা। পরে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয় শেখ জামাল কোচকে।
এই ম্যাচ ড্রয়ে সমানসংখ্যক ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে দুটি দলই।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here